খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন ডিসিপ্লিনের তিন ব্যাচ থেকে মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। নতুন ডিসিপ্লিন হিসেবে এটি শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৮ হাজার ৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ এবং ১৩ থেকে ১৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত ভাইভা পরীক্ষায় নির্ধারিত রোল নম্বরধারী প্রার্থীরা উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণরা বাংলাদেশে আইন পেশায় অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারা হলেন- আইন ১৭ ব্যাচের: শেখ সোহাগ হোসেন, ইনজামুল ইক ইমন, আরমান হোসেন আরিফ, মো. আবুল কালাম আজাদ সবুজ, মো. আহসানুল হক ফরহাদ, শেখ সাব্বির হোসেন, রাজু আহমেদ, মাসনুন কবির মাহিন, মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং কাজী শামস মাহমুদ।
আইন ১৮ ব্যাচ থেকে আইনজীবী হয়েছেন: মো. রাকিবুল হাসান, সুজন দাস, মেহেদী হাসান, সাথী মালাকার, রোকেয়া শিমু, ফারিয়া আহমেদ, রাশিদা জাহান দিশা, মাহমুদুল, নাজনীন, সুমাইয়া, তামান্না তাসনিয়া, মো. সুজন হোসাইন, আমেনা, মাহবুবা, ফাতিমা তাহসিন তোভা, শেখ মেহেদী হাসান, আতাউল্লাহ এবং আব্দুর রহমান শামীম।
আইন ১৯ ব্যাচ থেকে আইনজীবী হয়েছেন: হেলাল আজিম, শাহরিয়ার আলম শাকিল, হাসনাঈন মাহমুদ, হাফসা বিনতে আযুব (তুলি), আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেজুতি শারমিন সাদিয়া, শারদা বিশ্বাস, মো. নাসিম বিল্লাহ, রুমায়া হুসাইন, আছিয়া খাতুন, নানজিবা তাসনিম, জাহিদ ইসলাম, জয়দেব পাল, ফাহামি ফয়সাল এবং হুমায়ুন মোল্লা।
বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীন যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করার জন্য তাদের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও আইন ডিসিপ্লিন প্রধান পুণম চক্রবর্তী জানান, এবছর ৪২ জন শিক্ষার্থী আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। নতুন ডিসিপ্লিন হিসেবে নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। এখন পর্যন্ত আমাদের তিনটি ব্যাচ বের হয়েছে, এবং শুরুতেই এমন অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে বলে মনে করি। শিক্ষার্থীরা যখন আইন বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে আদালতে কাজ করেন, তখন তা শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং এটি সামগ্রিক বিচারব্যবস্থার জন্যও ইতিবাচক অবদান রাখে। তাই এই অর্জন আমাদের সবার জন্য গর্বের।
প্রসঙ্গত, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিন ২০১৭ সাল থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে৷