ইতিহাস গড়ে ফের রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ

০৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ AM
ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ © সংগৃহীত

ইতিহাস গড়ে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। রবিবার ক্লাবের সদর দপ্তরে টানা ১১ ঘণ্টার ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করা হয়।  পেয়েছেন প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকে রিকেলমেকে হারান তিনি। এর ফলে আগামী চার বছর বিশ্বের অন্যতম সফল এই ক্লাবের নেতৃত্বে থাকবেন তিনি।

এই জয়ের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়েছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ।  রিয়ালের ইতিহাসে পেরেজের সভাপতিত্বের সংখ্যা দাঁড়াল আট মেয়াদে। এর মধ্যে শেষ ছয়টি মেয়াদই টানা। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাবের নেতৃত্বে থাকা এই কর্মকর্তা এর আগে দুবার নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন ডেকেছিলেন। ২০০৬ সালে ক্লাবের আর্থিক ও ক্রীড়াঙ্গনের সংকটের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। আর সর্বশেষ ২০২৫ সালের নির্বাচনের মাত্র দেড় বছর পরই আবার নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

এবারের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৩০ হাজারের বেশি সদস্য। ভোটাধিকারপ্রাপ্ত প্রায় ৯০ হাজার সদস্যের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উপস্থিতি ক্লাবের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম বড় অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০০০ সালে পেরেজ প্রথমবার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময় ভোট দিয়েছিলেন ৩৩ হাজার ১১৬ জন সদস্য।

ফল ঘোষণার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পেরেজ বলেন, ‘এটা আমার জন্য এবং মাদ্রিদিসমোর জন্য খুবই আনন্দের দিন।’

রিয়াল মাদ্রিদে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ২০ বছর আগে। তখন পেরেজের পদত্যাগের পর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন রামোন কালদেরোন। তবে সভাপতির পদে পেরেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। ১৯৯৫ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিলেও তিনি রামোন মেন্দোজার কাছে পরাজিত হন। পরে মেন্দোজার পদত্যাগের পর ক্লাবের দায়িত্ব নেন লরেঞ্জো সান্স।

অবশেষে ২০০০ সালে প্রথমবারের মতো রিয়ালের সভাপতি নির্বাচিত হন পেরেজ। চার বছর পর ৯৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আবারও জয়ী হন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০০৬ সালে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০০৯ সালে আবারও ক্লাবের নেতৃত্বে ফেরেন। পরবর্তী চারটি নির্বাচন—২০১৩, ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৫ সালে—কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারণায়ও বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পেরেজ। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল বায়ার্ন মিউনিখের ফরাসি তারকা মাইকেল অলিসেকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা। এছাড়া বেনফিকার কোচ হোসে মরিনিয়োর সঙ্গে সমঝোতা অনেক দূর এগিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ইন্টার মিলানের ডেনজেল ডামফ্রিস এবং লিভারপুলের ইব্রাহিমা কোনাতেকে দলে আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচনে হারলেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী এনরিকে রিকেলমে। প্রচারণার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ম্যানচেস্টার সিটির দুই তারকা আর্লিং হলান্ড ও রদ্রির সঙ্গে তার সমঝোতা হয়ে গেছে। এমনকি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারলে সদস্যদের মাসিক চাঁদা নিজেই পরিশোধ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। জার্গেন ক্লপকে প্রধান কোচ এবং ক্লাব কিংবদন্তি রাউল গনসালেসকে ক্রীড়া পরিচালক করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

পরাজয়ের পরও ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন রিকেলমে। ভোট গণনার আগেই তিনি বলেন, ‘আজ একটি বিশেষ দিন। ২০ বছর পর ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ দেখা গেছে, যদিও ভোটগ্রহণে নানা বাধা ছিল। চূড়ান্ত ফল যাই হোক, আজ রিয়াল মাদ্রিদ এবং আমাদের প্রার্থিতা জয়ী হয়েছে। ভোট গণনায় কী হয়, তা দেখা যাবে। রিয়ালের সমর্থকদের একটি সুপ্ত অংশ আজ নিজেদের কণ্ঠস্বর প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আগে যাদের মত প্রকাশের কোনো জায়গা ছিল না। ফলাফল যাই হোক, আমরা এখানেই থাকব। আমরা ফলাফলের অপেক্ষা করব, তবে আজ রিয়াল মাদ্রিদই জয়ী হয়েছে।’

রিয়াল মাদ্রিদের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম স্থপতি হিসেবে বিবেচিত হন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। তার নেতৃত্বেই ক্লাব ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা ও টনি ক্রুসের মতো বিশ্বসেরা ফুটবলারদের দলে ভিড়িয়েছে। তার সভাপতিত্বে রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে সাতটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, সাতটি ক্লাব বিশ্বকাপ, ছয়টি উয়েফা সুপার কাপ, সাতটি লা লিগা শিরোপা, তিনটি কোপা দেল রে এবং সাতটি স্প্যানিশ সুপার কাপ। এসব অর্জনই তাকে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল সভাপতিদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তেরো বছরের মায়ের কোলে সাত মাসের শিশু, ভাইরাল ঘটনার নেপথ্যে …
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনা দলের তীব্র সমালোচনা করলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হা…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
উয়েফার সঙ্গে বিরোধের মুখে বিতর্কিত প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াল …
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
‘পরিবর্তনের চাবিকাঠি নাগরিকদের হাতেই’—ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্স…
  • ০১ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের ৪ অগাস্ট এক থানায় ১৫ জন পুলিশ হত্যার পর কী হয়েছে?
  • ০১ আগস্ট ২০২৬