সম্প্রতি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন © টিডিসি সম্পাদিত
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন ইঙ্গি দিয়েছেন, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হবে। ফলে এগিয়ে আসবে এইচএসসি পরীক্ষাও। এ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাজ করার কথা বলেছেন। এমন সিদ্ধান্ত এলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অন্তত তিন থেকে চার মাস এগিয়ে আসতে পারে। যদিও বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসি থেকে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সেশনজট নিরসনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য, একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষাও এগিয়ে আসবে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নীতিমালা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে সেশনজটের অভিশাপ দূর করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এর ফলে এসএসসি পরীক্ষা অন্তত চারমাস এগিয়ে আসতে পারে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ২১ এপ্রিল, চলবে ২০ মে পর্যন্ত চলবে। আর এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করলে অক্টোবর মাসের শুরুতেই ফলাফল প্রকাশ হতে পারে। সে হিসেবে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নভেম্বর থেকে শুরু হতে পারে।
আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হলে তা জানুয়ারিতে শেষ হওয়া কথা। এর দুই মাস পর মার্চের দিকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলে এপ্রিলে শেষ হবে। এ পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ৬০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ জুনের শেষে ফলাফল প্রকাশ হলে জুলাই থেকেই ভর্তি যুদ্ধে নামতে হতে পারে শিক্ষার্থীদের। অর্থাৎ মন্ত্রীর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে আগামী বছরের ভর্তি পরীক্ষা অন্তত চার মাস এগিয়ে আসতে পারে ভর্তি পরীক্ষা।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ইউনিটের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এর আগে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল একই ইউনিটে ৩ জানুয়ারি। গত ২৫ এপ্রিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। যদিও সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আইন সদ্য পাস হওয়ায় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শুরু হলে তা জানুয়ারিতে শেষ হওয়া কথা। এর দুই মাস পর মার্চের দিকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলে এপ্রিলে শেষ হবে। তবে এ পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতেও হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ৬০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ জুনের শেষে ফলাফল প্রকাশ হলে জুলাই থেকেই ভর্তি যুদ্ধে নামতে হতে পারে শিক্ষার্থীদের।
আরও পড়ুন: এসএসসি-এইচএসসির সূচিতে বড় পরিবর্তন আসছে, ফের আলোচনায় একক ভর্তি পরীক্ষা
এইচএসসি পাস করার সঙ্গে সঙ্গেই শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, সে ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবার বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার পর কেবল ভর্তি পরীক্ষার প্রসেসটার কারণে ২০ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জীবন থেকে ৪০ লাখ বছর হারিয়ে যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটিগুলোর সাথে বসে কখন ভর্তি পরীক্ষা নেবে, সেটি ইউজিসিকে ঠিক করতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আসার বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (প্রেষণে) অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করেছেন। এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে আনার কথা বলেছেন তিনি। এমন সময়সীমা বাস্তবায়ন সম্ভব, তবে আমাদের ওপর কিছুটা চাপ বাড়বে। এ ছাড়া ফরম পূরণ, টেস্ট পরীক্ষার বিষয় আছে।’
তিনি বলেন, ‘এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন কিছুটা পিছিয়েই নেওয়া হয়। এখন ডিসেম্বরে এসএসসি নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে, সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেভাবে কাজ করব। এসএসসি ডিসেম্বরে নেওয়া হলে এইচএসসিও এগিয়ে ফেব্রুয়ারিতেই নেওয়া হতে পারে।’
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউজিসি ভবনে গিয়ে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চেষ্টা করা হলেও কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ এবং সচিব তাৎক্ষনিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি।