পড়াশোনা খুব একটা করতেন না স্টিফেন হকিং, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন তার বাবা 

২৩ মে ২০২৬, ০৬:৫২ PM
স্টিফেন হকিং

স্টিফেন হকিং © সংগৃহীত

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর তত্ত্বের গবেষণায় পথপ্রদর্শক এবং বিশ্ববিখ্যাত ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ (যেটি বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে) গ্রন্থের লেখক স্টিফেন হকিংকে পুরো বিশ্ব এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম হিসেবে চেনে। তার সেই বিখ্যাত উক্তি- ‘পায়ের দিকে না তাকিয়ে আকাশের তারার দিকে তাকাও’, আজও কোটি মানুষকে স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু হকিংয়ের ছাত্রাবস্থায় এবং তার প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার ঠিক আগের দিনগুলোতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন খোদ তার বাবা ফ্রাঙ্ক হকিং।  খবর গার্ডিয়ানের

সম্পতি গ্রিক বর্ণমালার গোপন কোড বা সংকেত ব্যবহার করে লেখা ফ্রাঙ্ক হকিংয়ের কিছু অপ্রকাশিত ডায়েরি থেকে সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বাবার ডায়েরিতে আক্ষেপের সুরে লেখা ছিল, ‘সে কোনো উদ্যোগ ছাড়াই বাড়ির চারপাশে অলস ঘুরে বেড়ায় এবং পড়াশোনা খুব একটা করে না।’

কোস্টা পুরস্কারজয়ী জীবনীকার ও পদার্থবিদ গ্রাহাম ফার্মেলো হকিং পরিবারের কিছু ব্যক্তিগত নথিপত্র এবং ছবি দেখার সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে এই ডায়েরিগুলোও অন্তর্ভুক্ত। হকিংয়ের বোন ম্যারির বাড়িতে এতদিন সংরক্ষিত থাকা হকিংয়ের বাবার এই ডায়েরি এবং মা ইসোবেলের চিঠি ও জার্নালগুলো বিশ্লেষণ করে ফার্মেলো আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর স্টিফেন হকিংয়ের প্রথম অনুমোদিত ও চূড়ান্ত জীবনীগ্রন্থ ‘হকিং’ প্রকাশ করতে যাচ্ছেন, যা চলতি সপ্তাহে প্রকাশনা সংস্থা ‘জন মারে’ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।

জীবনীকার ফার্মেলো বলেন, ‘এই ডায়েরি এবং নথিপত্রগুলো দেখার সুযোগ পাওয়াটা ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং দারুণ এক প্রাপ্তি। এগুলো স্টিফেন হকিংয়ের জীবন, বিশেষ করে তার গড়ে ওঠার দিনগুলো এবং মাত্র ২১ বছর বয়সে মোটর নিউরোন রোগ ধরা পড়ার পরের ভয়াবহ মাসগুলোর তথ্যের একটি নিখুঁত উৎস।’

১৯৬৩ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে হকিংয়ের শরীরে এই মারাত্মক অবক্ষয়জনিত রোগ ধরা পড়ে, যা তাকে প্রায় সম্পূর্ণ অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে ফেলে। চিকিৎসকেরা তখন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি বড়জোর দুই বছর বাঁচবেন, কিন্তু সমস্ত চিকিৎসাবিজ্ঞানকে ভুল প্রমাণিত করে ২০১৮ সালে ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিশ্বতত্ত্ব ও তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জগতে একের পর এক যুগান্তকারী কাজ করে যান।

তবে ১৯৬১ সালে হকিংয়ের বাবা ফ্রাঙ্ক হকিং যিনি নিজে ছিলেন ক্রান্তীয় বা ট্রপিক্যাল রোগ বিশেষজ্ঞ, ছেলের এই ভবিষ্যৎ সাফল্য বিন্দুমাত্র কল্পনা করতে পারেননি। তিনি ডায়েরিতে লিখেছিলেন, ‘স্টিফেন যেভাবে তৈরি হচ্ছে তা নিয়ে আমরা কিছুটা চিন্তিত। সে কোনো উদ্যোগ ছাড়া অলসভাবে বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় এবং বেশি পড়াশোনা করে না। ইসোবেল (হকিংয়ের মা) বলে যে আমার প্রতি ওর এক ধরনের হীনমন্যতা কাজ করে (যার কোনো প্রয়োজনই নেই) এবং ও অক্সফোর্ডে পদার্থবিদ্যার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে, ও ভাবছে এটি মানবিক শাখার চেয়ে নিকৃষ্ট। যদি সত্যি এমন হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। ওর বয়সে আমার জীবনে বড় কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল, আর আমি যদি ওর অর্ধেক সুবিধাও পেতাম, তবে আরও অনেক ভালো করতে পারতাম।’

ফ্রাঙ্ক হকিং দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ডায়েরি লিখেছিলেন এবং শত্রুপক্ষ বা ঘনিষ্ঠ কেউ যাতে সহজে বুঝতে না পারে, সেজন্য সুরক্ষার স্বার্থে গ্রিক বর্ণমালা ব্যবহার করে একটি সহজ গোপন কোড তৈরি করেছিলেন, যেখানে ইংরেজি ‘H, V, QU, W, J’ অক্ষরের জন্য বিশেষ সংকেত ছিল। জীবনীকার ফার্মেলো ফ্রাঙ্ক হকিংয়ের লেখা সেই গোপন কোডটি ভাঙতে সক্ষম হয়েছেন এবং ছেলের শৈশব, অসুস্থতা, দুটি বিয়ে ও ক্যারিয়ার সম্পর্কিত প্রায় ২ লাখ শব্দ অনুবাদ করেছেন।

এই ডায়েরিতে ছেলের ক্রমাবনতিশীল স্বাস্থ্যের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার মানসিক লড়াইয়ের এক নির্মম ও সৎ চিত্র ফুটে উঠেছে। ১৯৬৭ সালে ফ্রাঙ্ক লিখেছিলেন, ‘স্টিফেনের সাথে সময় কাটানো আমার জন্য অত্যন্ত ধীরগতির এবং একটি ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। সবকিছুই ভীষণ ধীর এবং দীর্ঘায়িত। ওর কথা বলা এতই ধীর এবং বোঝা এত কঠিন যে কথোপকথন চালানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। আমি ওর জন্য খুব দুঃখিত এবং ওর জন্য যা করার সব করব। কিন্তু আমি ওর সাথে থাকাটা উপভোগ করি না।’

এই নতুন জীবনীগ্রন্থটির জন্য ফার্মেলো হকিংয়ের দুই বোন ম্যারি ও ফিলিপা, প্রথম স্ত্রী জেন এবং তিন সন্তান রবার্ট, লুসি ও টিমের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। পল ডিরাকের জীবনী লিখে এর আগে কোস্টা পুরস্কার জেতা ফার্মেলোর এই নতুন বইটিকে প্রকাশনা সংস্থা জন মারে হকিংয়ের একটি ব্যতিক্রমী জীবন ও মেধার চূড়ান্ত প্রতিকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইন্টার্নশিপ করুন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃ…
  • ২৩ মে ২০২৬
রামিসার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে
  • ২৩ মে ২০২৬
যারা সঠিক বিচার বাধাগ্রস্ত করতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের …
  • ২৩ মে ২০২৬
ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ৩ যুবক নিহত
  • ২৩ মে ২০২৬
৬৩ জাল সনদধারীকে শোকজ, তালিকা দেখুন এখানে
  • ২৩ মে ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ওয়ালটনে, পদ ১০, আবেদন শেষ ১৮ জুন
  • ২৩ মে ২০২৬