পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ শহরতলি
প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
স্কুলছাত্রীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের এক ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। আর এই নৃশংস ঘটনার পেছনে মূল সহযোগী হিসেবে নাম জড়িয়েছে নির্যাতিতারই এক সহপাঠী বান্ধবীর। অভিযোগ, ওই ছাত্রীকে চকলেটের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাইয়ে এক যুবকের সাহায্যে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করা হয়।ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ শহরতলির সরশুনা থানা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত ছাত্রী একই স্কুলে পড়াশোনা করে। ঘটনার দিন ওই সহপাঠী ছাত্রীটি নির্যাতিতাকে চকলেট খেতে দেয়, যার মধ্যে আগে থেকেই মাদক মেশানো ছিল। সেটি খাওয়ার পর নাবালিকা অবচেতন হয়ে পড়লে, তাকে এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ওই যুবক ও বান্ধবীর উপস্থিতিতে তাকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার পর চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটছিল ওই কিশোরীর। তার ওপর অভিযুক্তরা ধর্ষণের পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও করে রেখেছিল। বিগত প্রায় এক মাস ধরে সেই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নাবালিকাকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। যার কারণে চরম আতঙ্কে এতদিন মুখ খুলতে পারেনি সে।
সম্প্রতি নাবালিকার আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপরই পুরো বিষয়টি কান্নায় ভেঙে পড়ে মাকে জানায় ওই কিশোরী। ঘটনা জানার পরপরই নির্যাতিতার মা সরশুনা থানায় মেয়ের ওই বান্ধবী এবং অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ওই এলাকায় অপরাধের দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং গাড়িটি কোন পথ দিয়ে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ স্থানীয় একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে সরশুনা থানার পুলিশ।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে এই ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতা নাবালিকার এক স্কুলের বান্ধবীর মাধ্যমেই অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। স্কুল ছুটির পর তাদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে লোভ দেখানো হয়। তাতে রাজি হয়ে যায় কিশোরী।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন