যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং পাকিস্তানের পতাকা © সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলগুলো আগামীকাল রবিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবেন। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশ থেকে হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী তলব করেছে স্থানীয় প্রশাসন। উল্লেখ্য, গত শনিবার প্রথম দফার আলোচনার সময় প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছিল পাকিস্তান।
গত মঙ্গলবার থেকেই উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে পাকিস্তান। পর্দার অন্তরালে এই শান্তি প্রচেষ্টাকে সফল করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফর করছেন এবং একই সময়ে সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। যদিও পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এসব আলোচনার ফলাফল জানায়নি, তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ব্যাপক তৎপরতা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: সার্ভেইলেন্সের ম্যান্ডেট আসলে কার?
এদিকে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে। বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের জানান, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তিনি নিজেই ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, বর্তমানে আলোচনাধীন বিষয়ের প্রায় সবকিছুই তেহরান মেনে নিয়েছে।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা আলোচনা করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক।
যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন, তবে সিএনএন ও এনডিটিভি সূত্রগুলো সোমবারের এই দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়টিকে জোরালোভাবে সামনে আনছে। আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা থেকে একটি স্থায়ী সমাধান আসবে বলে বিশ্ববাসী প্রত্যাশা করছে।