প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর আগে এই পূর্বাভাস ছিল ৩.৩ শতাংশ। উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং তেল-গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি এক বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে।
আইএমএফ সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি ২.৫ শতাংশে নেমে যেতে পারে, যার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো পণ্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে এই সামগ্রিক মন্দার মাঝেও পাঁচটি নির্দিষ্ট শিল্পখাত অভাবনীয় মুনাফা করছে।
ওয়াল স্ট্রিটের ইনভেস্টমেন্ট
প্রথমেই রয়েছে ওয়াল স্ট্রিটের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকগুলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাকে বিনিয়োগকারীরা ‘ট্যাকো ট্রেড’ নামে অভিহিত করছেন। এই অস্থিরতার সুযোগে বিনিয়োগকারীরা ঘন ঘন তাদের শেয়ার বা বিনিয়োগের অবস্থান পরিবর্তন করছেন, যা ব্যাংকগুলোর জন্য কমিশন ও লেনদেন ফি বাবদ কোটি কোটি ডলার মুনাফার পথ খুলে দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মর্গ্যান স্ট্যানলি ও গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো ব্যাংকগুলোর মুনাফা ২০ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
ক্রিপ্টো-ভিত্তিক প্রেডিকশন মার্কেট
দ্বিতীয়ত, ক্রিপ্টো-ভিত্তিক প্রেডিকশন মার্কেট বা ভবিষ্যদ্বাণীর বাজারগুলো বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়। পলি-মার্কেট বা কালশি-র মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে মানুষ যুদ্ধ বা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বাজি ধরছে, যা থেকে পলি-মার্কেট প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করছে।
অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
তৃতীয়ত, বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে অ্যারোস্পেস এবং প্রতিরক্ষা শিল্প এখন তুঙ্গে। ইউক্রেন, ইরান, সুদান এবং গাজার যুদ্ধের প্রণোদনায় বিশ্বের প্রায় অর্ধেক দেশ তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়েছে। ফলে ড্রোন ও মিসাইল নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম গত এক বছরে ৩২ শতাংশ বেড়েছে। চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাত। যুদ্ধের ধাক্কা সত্ত্বেও এই খাতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে এআই চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (TSMC) এ বছরের প্রথম তিন মাসে ১৮.১ বিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
সর্বশেষ লাভবান খাতটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি। ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, খনিজ তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এশীয় দেশগুলো এখন বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের হিড়িক পড়েছে। বর্তমানে ক্লিন এনার্জি খাতের বৈশ্বিক সূচক গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭০.৯২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, একদিকে যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হলেও এই পাঁচটি খাত সংকটের মধ্যেও মুনাফার নতুন রেকর্ড গড়ছে।