হুথিদের ভয়ে দীর্ঘ পথে ঘুরছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ AM
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ © সংগৃহীত

হুথিদের হুমকি এড়াতে লোহিত সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ পরিহার করে আফ্রিকা ঘুরে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। ফলে জাহাজটিকে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

নিমিটজ শ্রেণির এই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরীটি সম্প্রতি নামিবিয়ার উপকূলে দেখা গেছে। সেখান থেকে এটি আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ হয়ে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করবে।

ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে, যেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ফেব্রুয়ারি থেকে ওই অঞ্চলে কার্যক্রম চালাচ্ছে এই রণতরী।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যেতে জাহাজগুলো জিব্রাল্টার প্রণালি পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করে এবং এরপর সুয়েজ খাল হয়ে লোহিত সাগর পাড়ি দেয়। তবে এবার সেই প্রচলিত পথ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই দীর্ঘ পথ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের নীরব স্বীকারোক্তি—লোহিত সাগরে এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবহরও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইরান সমর্থিত হুথিরা ওই অঞ্চলে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকা ঘুরে যাওয়ার ফলে রণতরীটি লোহিত সাগর এবং বাব এল মান্দেব প্রণালি এড়িয়ে যেতে পারছে। এই দুটি অঞ্চল ২০২৪ ও ২০২৫ সালে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রধান কেন্দ্র ছিল।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারা বাব এল মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আরবি ভাষায় এই প্রণালির অর্থ ‘অশ্রুর দ্বার’, কারণ এর নৌপথ বেশ জটিল।

ইরান সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, ‘তাদের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে।’ হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হোদেইদাও রয়েছে। তারা পাহাড়ি ঘাঁটি থেকে সমুদ্রপথ নজরদারি করে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে বাব এল মান্দেব হয়ে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়েছে।

এই প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ৩২ কিলোমিটার চওড়া এবং এটি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রণালিটি দুটি চ্যানেলে বিভক্ত। পশ্চিম দিকের ডাক্ট এল মায়ুন প্রায় ১৬ মাইল চওড়া এবং তুলনামূলক অগভীর। অন্যদিকে পূর্ব দিকের আলেকজান্ডার স্ট্রেইট বা বাব ইস্কেন্দার মাত্র ২ মাইল চওড়া। বড় জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলো সাধারণত পশ্চিম দিকের পথ ব্যবহার করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজও বেশি ব্যবহার করে।

যদি ইউএসএস জর্জ বুশ স্বাভাবিক পথ ধরে নরফোক থেকে লোহিত সাগর হয়ে আরব সাগরে যেত, তাহলে মোট দূরত্ব হতো প্রায় ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল। কিন্তু আফ্রিকা ঘুরে যাওয়ায় এই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার নটিক্যাল মাইল, যা প্রায় দেড় গুণ বেশি।

সংবাদসূত্র: এনডিটিভি 

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের দুই মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন আজ
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ পরীক্ষা শুরু
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সোমবার ফের বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকায় বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
কয়লা কেলেঙ্কারির অভিযোগে তদন্ত, পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার জ্…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬