বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন © সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে উপসাগরীয় দেশ কুয়েত। বিস্ফোরণের পরপরই দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের সকল সেবা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আল জাজিরা আরবির এক প্রতিবেদনে জানায়, শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে কুয়েতজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজতে শুরু করে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতের আঁধারে দেশটির ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কুয়েত সিটির দক্ষিণে একটি বিমানঘাঁটির কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড দেখা গেছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ইরানের আরও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এসব হামলার বেশিরভাগই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
আরও পড়ুন: পদত্যাগ না করলে আইআরজিসি কমান্ডারদের হত্যার হুমকি ট্রাম্পের
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একটি বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ বলে মনে হচ্ছে। কুয়েত ছাড়াও কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের আঞ্চলিক জলসীমায় গিয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের মধ্যে এই ঘাঁটিতে এটি দ্বিতীয় দফা হামলার চেষ্টা। অন্যদিকে, বাহরাইনের রাজধানীতে দুটি হোটেল ও একটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে, তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় বেশিরভাগ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়েতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের নজরদারি ও সামরিক সতর্কতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।