রমজান © সংগৃহীত
ফুটফুটে শিশু দেখলে আদর করতে কার না ইচ্ছে করে! স্নেহ প্রকাশ করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় শিশুর গাল টিপে দিই কিংবা পরম মমতায় চুম্বন করি। কিন্তু এই স্নেহের আতিশয্যই যে একটি শিশুর সাজানো জীবন অন্ধকারে ডুবিয়ে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই বছর বয়সী একরত্তি জুয়ান। আদরের মাধ্যমে সংক্রামিত ভাইরাসের কারণে একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছে নামিবিয়ার এই শিশুটি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শিশুটির বাবা-মা এই বেদনাদায়ক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনলে স্বজন ও বন্ধুদের শিশুদের চুম্বনের অনুমতি দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুয়ানের এই দুরবস্থার মূলে রয়েছে ‘হার্পিস সিমপ্লেক্স’ নামক একটি ভাইরাস। শুরুতে চোখ লাল হওয়ার মতো সাধারণ উপসর্গ দিয়ে সমস্যার সূত্রপাত হলেও দ্রুতই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ভাইরাসের সংক্রমণে শিশুটির চোখের মণির ওপর একটি ফোস্কা তৈরি হয়। এটি পরবর্তীতে তার কর্নিয়ায় ৪ মিলিমিটার গভীর গর্তের সৃষ্টি করে। কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় চিকিৎসা চললেও চিকিৎসকরা জুয়ানের আক্রান্ত চোখের দৃষ্টিশক্তি বাঁচাতে ব্যর্থ হন।
আরও পড়ুন: তারাবি নামাজ ৮ রাকাত পড়া যাবে কি, ইসলামিক স্কলারদের ব্যাখ্যা
শিশুটির মা মিশেল সাইমান ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে মাত্র ১৬ মাস বয়সে জুয়ান এই ভাইরাসের শিকার হয়। প্রথমে চিকিৎসকরা সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিলেও দুদিন পর মিশেল লক্ষ্য করেন সন্তানের চোখে মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয়েছে। চোখের মণির ওপর অস্বাভাবিক কিছু গজিয়ে উঠতে দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উন্নত পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, জুয়ান হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত। বিস্ময়কর বিষয় হলো, জুয়ানের বাবা-মা কেউই এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। চিকিৎসকদের ধারণা, অন্য কোনো ব্যক্তি যার শরীরে এই ভাইরাসটি সক্রিয় ছিল, তিনি শিশুটিকে আদর করে চোখে বা হাতে চুম্বন করার মাধ্যমেই এটি সংক্রমিত হয়েছে।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে জুয়ানের চোখের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। ভাইরাসটি কর্নিয়াকে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, শিশুটি ওই চোখের সমস্ত অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছে এবং চোখটি সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে চোখটিকে সুরক্ষা দিতে চিকিৎসকরা শিশুটির চোখের পাতা সেলাই করে দিয়েছেন। জানা গেছে, জুয়ানের পরিবার এখন দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি জটিল স্নায়ু অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অস্ত্রোপচার সফল হলে ভবিষ্যতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফেরানোর ক্ষীণ আশা দেখছেন চিকিৎসকরা।