অনলাইন গেমে অতিরিক্ত ঝোঁক সন্তানের, বকাঝকা ছাড়াই কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ AM
অনলাইন গেম

অনলাইন গেম © আল জাজিরা

বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে স্মার্টফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়েছে। পড়াশোনা, বিনোদন, বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, যেকোনো প্রয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু এটি। ডিজিটাল ডিভাইসের যেমন উপকারী দিক রয়েছে, তেমনি এর ক্ষতির দিকও আছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোররা অনলাইনের বিভিন্ন সাইটে মগ্ন। 

এর মধ্যে অন্যতম  ‘অতিরিক্ত গেমিং’, যা অভিভাবকদের উদ্বেগের বড় কারণ। সন্তান ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল গেমে ডুবে থাকা, পড়াশোনায় অমনোযোগ, ঘুম কমে যাওয়া কিংবা আচরণে বিরক্তিভাব এসব লক্ষণ দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বকাঝকা বা শাস্তি দিয়ে নয়, বরং বোঝাপড়া ও কৌশলী আচরণের মাধ্যমেই এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।

সম্প্রতি ভারতের গাজিয়াবাদে অনলাইন গেমে আসক্ত তিন বোনের আত্মহত্যা অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গেমের মারণ নেশায় প্রাণ হারিয়েছে তিন বোন। মৃত্যুমাত্রই নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। তবে মৃত্যুর কারণ অন্যান্য অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বেশ কয়েকগুণ। শিশু-কিশোররা বর্তমানে ফোন হাতে পেলেই রিলস, নয় সোশাল মিডিয়ায় ব্যস্ত। অনেকে আবার গেমের নেশায় বুঁদ। 

কেন বাড়ছে গেমে ঝোঁক?
অনলাইন গেম শিশুদের জন্য তাৎক্ষণিক আনন্দ, প্রতিযোগিতা ও পুরস্কারের অনুভূতি তৈরি করে। লেভেল জেতা, পয়েন্ট পাওয়া বা বন্ধুদের সঙ্গে খেলায় যুক্ত থাকা এসব কারণে তারা সহজেই এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাইরে খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়া ও অভিভাবকদের ব্যস্ততা এ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কীভাবে বুঝবেন সন্তান মোবাইল কিংবা গেমের নেশায় বুঁদ?
আচমকা ধরুন আপনার পড়াশোনার অবহেলা করছে। কিংবা ধরুন অবসরযাপনের অভ্যাস বদলেছে, তবে সাবধান হোন। যদি দেখেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল নিয়ে বসে রয়েছে, তবে নজর রাখুন সে কী করছে। হঠাৎ সন্তান অন্যমনস্ক হয়ে ওঠার নেপথ্যেও দায়ী অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যবহার। মোবাইল কেড়ে নিতে গেলে যদি অত্যন্ত বিরক্ত হয়, তবে বুঝবেন।

সন্তানের মধ্যে উপরোক্ত পরিবর্তনগুলো দেখলেই বকাঝকা শুরু করবেন না। তাতে সন্তান জেদি হয়ে যেতে পারে। তাই বকাঝকা নয়, সমস্যা সামাল দিন সুকৌশলে।

করণীয়
সন্তান কেন গেম খেলতে পছন্দ করে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। বন্ধুর মতো কথা বললে তারা সহজেই খুলে বলবে। তাকে বোঝান যে সবসময় মোবাইল নিয়ে বসে থাকা যাবে না। মোবাইল ব্যবহার তার জীবনে কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা বোঝান। পুরোপুরি নিষেধ না করে দৈনিক বা সাপ্তাহিক সময়সীমা নির্ধারণ করুন। যেমন হোমওয়ার্ক শেষে এক ঘণ্টা গেম।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের বন্ধ চার দিন নয়, ৮ দিনের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

খেলাধুলা, বই পড়া, আঁকা, সংগীত বা পরিবারের সঙ্গে আউটডোর কার্যক্রমে যুক্ত করলে স্ক্রিন টাইম স্বাভাবিকভাবেই কমে। পড়াশোনা, ঘুম ও খেলাধুলার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকলে শিশুরা শৃঙ্খলিত অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়। অভিভাবক নিজেরাও যদি সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে শিশুদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। পরিবারে ‘স্ক্রিন-ফ্রি টাইম’ চালু করা কার্যকর হতে পারে।

মোবাইল কিংবা গেমের আসক্তি মোটের কাজের কথা নয়। এ আসক্তি আপনার সন্তানের দূর করতেই হবে। তবে ছোট বলে তার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেবেন না। অতিরিক্ত শাসন নয়। মনে রাখবেন, আপনার ভালোবাসা, মায়া মমতাই সন্তানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

কখন সতর্ক হবেন?
যদি সন্তান গেমের জন্য খাওয়া-ঘুম বাদ দেয়, পড়াশোনায় মারাত্মক অমনোযোগী হয়ে পড়ে বা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে কাউন্সেলর বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া নিন। (সংবাদ প্রতিদিন)

ঢাকার বাতাস আজ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
মার্কিন ৬ ক্যাটাগরির ভিসা পেলেও বাতিল হতে পারে যে কারণে, নত…
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
একটি দেশে ঈদের তারিখ ঘোষণা, বাংলাদেশে কবে?
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
ফাঁড়ি আছে নেই পুলিশ, নিরাপত্তাহীনতায় ববি শিক্ষার্থীরা
  • ১৪ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081