ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রেজা পাহলভী © সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরানের বিরোধী দলীয় নেতা রেজা পাহলভীকে নিয়ে তাঁর সংশয় প্রকাশ করেছেন। ওভাল অফিসে রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, পাহলভীকে তাঁর কাছে ‘বেশ ভালো মানুষ’ বলে মনে হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তাঁর পর্যাপ্ত জনসমর্থন আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে উল্লেখ করলেও, পাহলভী সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দেশটির ক্ষমতা নিতে পারবেন কি না—সে বিষয়ে ট্রাম্প নিশ্চিত নন।
সাক্ষাৎকারে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শাহের ছেলে রেজা পাহলভীর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'তাকে বেশ ভালো মানুষ বলেই মনে হয়, কিন্তু তার নিজের দেশে সে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে তা আমি জানি না। আর আমরা আসলে এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।' পাহলভীর প্রতি ইরানের জনগণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'আমি জানি না সে দেশের মানুষ তার নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না; তবে তারা যদি মেনে নেয়, তবে আমার কোনো আপত্তি নেই।'
৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই তিনি প্রবাসে থাকলেও সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভগুলোতে তিনি একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন। তবে ইরানের বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এবং দেশটির ভেতরে শক্তিশালী কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি না থাকায় ট্রাম্প এই সংশয় প্রকাশ করেছেন। পাহলভীর সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন ট্রাম্প, আর এবার সরাসরি তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন।
নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর শেষ করতে যাওয়া ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুও। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেছেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সমঝোতার জন্য প্রস্তুত আছেন বলে দাবি করেছেন। এ ছাড়া আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতলেই যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতা যাবে এমন নয়। তবে আমরা জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।' বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তিনি একটি ‘মজাদার সময়’ হিসেবেও অভিহিত করেন।