ট্রাম্পকে খুশি করতে বিক্ষোভকারীরা দেশে ভাঙচুর চালাচ্ছে: খামেনি

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৯ AM , আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১০ AM
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি © সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলমান দেশজুড়ে বিক্ষোভকে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ উল্লেখ করে বলেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই সহিংস কর্মকাণ্ড ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। 

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ ও ‘বিদেশের ভাড়াটে সৈন্য’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

৮৬ বছর বয়সী এই নেতা তার ভাষণে বলেন, ‘দাঙ্গাকারীরা শুধু অন্য দেশের এক প্রেসিডেন্টকে খুশি করতে নিজেদের রাস্তাঘাট ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করছে। যদি ট্রাম্প সত্যিই দেশ চালাতে জানতেন, তবে তিনি নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোই আগে সমাধান করতেন।’ 

খামেনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ট্রাম্পেরও পতন নিশ্চিত হবে। তিনি আরও বলেন, কয়েক লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো ‘নাশকতাকারীর’ সামনে মাথা নত করবে না।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান বর্তমানে ‘বড় বিপদে’ রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ তাদের জনগণের ওপর গুলি চালায় বা হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, তবে আমরা তাদের এমন জায়গায় আঘাত করব যেখানে সবচেয়ে বেশি লাগবে।’ 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির তালিকায় নিল অস্ট্রেলিয়া, যাচাই হতে পারে যেসব নথি

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ইরানের জনগণ এমন কিছু শহর দখল করে নিচ্ছে যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও কেউ সম্ভব বলে ভাবেনি। মার্কিন প্রশাসন এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বলেও তিনি জানান।

অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১৩ দিনে পদার্পণ করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানে বৃহত্তম আন্দোলন। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) এবং ইরান হিউম্যান রাইটস (IHRNGO) এর তথ্যমতে, বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ থেকে ৬২ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯ জন শিশু রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস ও ক্লাউডফ্লেয়ার জানিয়েছে, দেশটিতে ইন্টারনেট ট্রাফিক ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ফলে নগদ অর্থ তোলার এটিএম বুথ ও অনলাইন কেনাকাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। খাবার ও নিত্যপণ্যের সংকটের আশঙ্কায় মানুষ সুপারশপগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে।

ইরান এই বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশক কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র উসকানি এবং অস্থিতিশীলতাকে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করছে।

ইরান বিক্ষোভ ২০২৬, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, মানবাধিকার সংবাদ

সদরঘাটে শ্রমিকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে যুবক নিহত
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
খুকৃবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
‘এমবিবিএস’ পরিচয়ে চিকিৎসা, ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরি…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাকে ‎‘জোর করে…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
এনইউবি ফার্মা ডিবেট ক্লাবের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬