একসঙ্গে বেড়ে উঠছে পাঁচ সন্তান, নানা চ্যালেঞ্জের মুখে মা-বাবা

সুমন-এনি আক্তার দম্পতির ৫ সন্তান

সুমন-এনি আক্তার দম্পতির ৫ সন্তান © টিডিসি

দীর্ঘ ১০ বছর নিঃসন্তান থাকার পর গত বছরের (৮ ডিসেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পিপলস হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মনেয়াবাদ গ্রামের হালিমা বাপের বাড়ির এনি আক্তার। টানা ৩ মাস নগরীতে অবস্থানের পর সম্প্রতি পাঁচ সন্তানকে নিয়ে ওয়াহিদুল ইসলাম সুমন-এনি আক্তার দম্পতি গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছেন।

২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে সুমনের সঙ্গে এনির বিয়ে হওয়ার ১০ বছর পার হয়ে গেলেও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে এনি জানতে পারেন, তার গর্ভে একসঙ্গে ৪টি সন্তান রয়েছে। এ জন্য গর্ভধারণের পর থেকেই পুরো পরিবার ভয় ও উদ্বেগে ছিলেন। তবে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম দেন তিনি। এর মধ্যে তিনটি মেয়ে ও দুটি ছেলে। পর্যায়ক্রমে তাদের নাম রাখা হয়েছে আরিশফা ওয়াহিদ, শরীফ ওসমান হাদি, জান্নাত ওয়াহিদ, ফরিদা ইয়াসমিন সুমি ও আবরার ফাহাদ।

বর্তমানে ওই পাঁচ সন্তান মা-বাবার পাশাপাশি দাদা লিয়াকত আলী ও দাদি নূরনাহার বেগমের পরম যত্নে বেড়ে উঠছে। তবে মায়ের স্তনের দুধে পাঁচ সন্তানের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তাই প্যাকেটজাত দুধ ক্রয়, চিকিৎসা ব্যয় ও অন্যান্য খরচ জোগাতে এক প্রকার হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। এ ছাড়াও জন্মের পরে পাঁচ সন্তানকে চট্টগ্রাম নগরীর পার্ক ভিউ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা থেকে শুরু করে অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয়ের ফলে আর্থিক টানাপোড়েন চলছে।

সন্তানদের চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের আগমনে আমাদের ঘর আনন্দে ভরে উঠেছে। কিন্তু তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও কাজ করছে। কারণ আমার ভাই চট্টগ্রাম নগরীতে সল্প বেতনে একটি দোকানের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেন। তাই তাদের সঠিকভাবে বড় করে তোলা এবং সব ধরনের চাহিদা পূরণ করা আমাদের পরিবারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।’

দাদি নূরনাহার বেগম বলেন, ‘যখন একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম হয়েছিল তখন বিষয়টি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় আমাদের গ্রামের লোকজন মনে করেছিল সরকার আমাদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব বিষয় হচ্ছে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে এক পয়সাও পায়নি। নিজেদের উপার্জিত অর্থ দিয়েই পাঁচ নাতিকে লালন-পালন করছি।’

মা এনি আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ ৩ মাস পর চট্টগ্রাম নগরী থেকে পাঁচ সন্তানকে নিয়ে সম্প্রতি গ্রামের বাড়িতে এসেছি। তাদের ঘিরে বাড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও নিয়মিত তাদেরকে দেখতে আসছেন। তবে পাঁচ শিশুকে একসঙ্গে লালন-পালন করা সহজ কাজ নয়। তাই আমাদের পুরো পরিবারকে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।’

কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম নিঃসন্দেহে একটি বিরল ও আনন্দের ঘটনা। তবে এটি পরিবারটির জন্য বড় দায়িত্বও বটে। এতগুলো শিশুকে একসঙ্গে সঠিকভাবে লালন-পালন করা অনেক কঠিন কাজ। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উচিত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা পেলে শিশুগুলো সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারবে এবং ভবিষ্যতে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হবে।

অস্ত্র দেখিয়ে হাত-মুখ বেঁধে স্কুলশিক্ষিকার স্বর্ণালংকার ছিন…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
বাসের ধাক্কায় সিএনজির শিশুসহ নিহত ৪ জনের পরিচয় শনাক্ত 
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববাজারে কমল ডিজেলের দাম 
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
এক হাজার সেট ‘কিউই’ ভ্যাকুয়াম এক্সট্রাকশন ডিভাইস দিল ইউএনএ…
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬
কিশোর অপরাধ দমনে অভিযান, ৩ দিনে আটক ৫৪৯
  • ০২ অক্টোবর ২০২৬