ইরানের বিক্ষোভ ছড়িয়েছে ৩১ প্রদেশে, ইন্টারনেট বন্ধের মধ্যে নিহত ৫১

১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৭ AM
বিক্ষোভ ইরানের সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে

বিক্ষোভ ইরানের সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে © সংগৃহীত

ইরানে চলমান দেশব্যাপী বিক্ষোভে গত প্রায় দুই সপ্তাহে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, নিহত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাদের সুনির্দিষ্ট বয়স যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন জানায়, তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রথম ১৩ দিনে সারা দেশে অন্তত ৫১ জন নিহত এবং আরও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভ ইরানের সব ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশটিতে মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়, যার ফলে একাধিক স্থানে প্রাণহানি ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব যেখানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হবে। এর অর্থ মাটিতে সেনা পাঠানো নয়, বরং এমনভাবে আঘাত করা, যা তাদের খুব, খুব কঠিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির তালিকায় নিল অস্ট্রেলিয়া, যাচাই হতে পারে যেসব নথি

ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকেই দেশটির বর্তমান অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘তারা খুব খারাপভাবে দেশ চালিয়েছে। তারা জনগণের সঙ্গে খুব খারাপ আচরণ করেছে, আর এখন তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন কী হয়, তা দেখা যাক। আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ সংগঠিত হওয়া এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। ইন্টারনেট বন্ধের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের পর নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন আরও তীব্র হওয়ার এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিক্ষোভকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালানোর খবরও উঠে এসেছে।

ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ‘গত ১৩ দিনে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের বলপ্রয়োগ ক্রমেই বেড়েছে। ইন্টারনেট বন্ধের পর সহিংসতা আরও তীব্র হওয়ার এবং ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর।’

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ইরানের জনগণের জন্য অবাধ ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে কাজ করতে হবে। যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তাদের স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তায় ইসলামিক রিপাবলিককে জানাতে হবে যে বিশ্ব বিক্ষোভকারীদের হত্যাকে কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’

এদিকে আন্দোলন সংশ্লিষ্ট ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তির সংখ্যা ২ হাজার ২০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরান হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন।

তথ্যসূত্র: রয়র্টাস, ওয়ান আমেরিকান নিউজ

‘ভারতে বসে হাসিনা যেন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দিতে পারেন’
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ভাবনার আহ্বান; নর্থ সউথ ইউনিভার্স…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে গেল কনটেইনারবাহী জাহাজ
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে ‘ফিরে দেখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
যে শর্তে মুক্তি পেতে পারেন ইমরান খান 
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধ…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬