নারীকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করেছে পুলিশ © সংগৃহীত
লন্ডনের হ্যারো এলাকায় প্রকাশ্যে কবুতরকে খাবার দেওয়ার অপরাধে এক নারীকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করেছে পুলিশ। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
৭ জানুয়ারি (বুধবার) দুপুরে হাররের ওয়েল্ডস্টোন হাই স্ট্রিট এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী ওই নারী রাস্তায় কবুতরকে পাউরুটির টুকরো দিচ্ছিলেন। এ সময় হ্যারো কাউন্সিলের এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন এবং জরিমানা করতে চান। কিন্তু ওই নারী নিজের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ ডাকা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য ও কাউন্সিল কর্মকর্তা ওই নারীকে ঘিরে রেখেছেন এবং তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের ভ্যানে তোলা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় কাউন্সিলের জারি করা পাবলিক স্পেসেস প্রোটেকশন অর্ডার (পিএসপিও) অনুযায়ী ওই এলাকায় কবুতরসহ পাখি বা প্রাণীকে খাবার দেওয়া নিষিদ্ধ। পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে পুলিশ রিফর্ম অ্যাক্টের ধারা ৫০–এর আওতায় আটক করে। এরপর জনসম্মুখে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়।
আরও পড়ুন: আবারও বাড়তে পারে শীতের দাপট
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক পুলিশ সদস্য ও কাউন্সিল কর্মী ওই নারীকে ঘিরে রাখেন। এ সময় আশপাশের পথচারীরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কবুতরকে খাবার দেওয়ার মতো একটি ঘটনায় এ ধরনের পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর এমন আচরণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একজনকে ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘স্রেফ কবুতরকে খাওয়ানোর জন্য এভাবে হাতকড়া পরানো হাস্যকর।’
হ্যারো কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই নারীকে ১০০ পাউন্ডের একটি ‘ফিক্সড পেনাল্টি নোটিশ’ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ দিনের মধ্যে এই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। নোটিশে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে অভিযুক্তকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হতে পারে।’
কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের দাবি, হ্যারো বরোতে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় একাধিক বিশেষ আইন (PSPO) কার্যকর রয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট এলাকায় মদ্যপান, মাদক গ্রহণ এবং পাখিদের খাবার দেওয়া নিষিদ্ধ। মূলত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ইঁদুরের উপদ্রব কমাতেই কবুতর বা পাখিকে খাবার দেওয়ার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে সামান্য এই কারণে একজন নারীর ওপর পুলিশের এমন কঠোর হস্তক্ষেপে স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
হারর কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাখিদের খাওয়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে জরিমানাসহ শাস্তির বিধান রয়েছে। যেমনটি ঘটেছে ওই নারীর বেলায়।
সূত্র: দ্য মিরর, ইয়াহু নিউজ