বিটিআরসির লোগো © সংগৃহীত
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমে মোবাইল রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে নতুন যুক্ত হওয়া অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে ধাপে ধাপে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির অজান্তেই তার এনআইডি ব্যবহার করে একাধিক রেজিস্ট্রেশন হওয়ার তথ্য সামনে আসায় আইনি ঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে বিটিআরসির উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন খাঁন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা প্রথমে সবাইকে নিরাপত্তার আওতায় আনতে চাই। এজন্য একটি বড় ডাটাবেজ তৈরি করেছি। এই ডাটাবেজের ভেতরে আমরা ধীরে ধীরে কাজ করে অবৈধ সেটগুলো শনাক্ত করব এবং সেগুলোকে আলাদা করার চেষ্টা করব। এটি খুব কঠিন কাজ এবং একদিনে সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে যেন নতুন করে অবৈধ সেট নেটওয়ার্কে ঢুকতে না পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: এনইআইআর চালুর পর চাঞ্চল্য: অজান্তেই এনআইডি দিয়ে ডজন ডজন মোবাইল রেজিস্ট্রেশন
তিনি বলেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেটওয়ার্কে যেসব সেট ব্যবহার হয়েছে, সেগুলো ডাটাবেজে যুক্ত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে বৈধ সেটের পাশাপাশি কিছু অবৈধ সেটও রয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে নেটওয়ার্কে থাকা কিছু সেট সাম্প্রতিককালে নতুনভাবে সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে বলে তা ২০২৫ সালের এন্ট্রি হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তবে এখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়নি বলে জানান তিনি।
কর্মকর্তা বলেন, আমরা যেটা করছি তা গ্রাহকের স্বার্থে। একটি আইএমইআই নম্বর অনেক সেটে ব্যবহৃত হলে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই আমরা ধাপে ধাপে এসব ডাটা সাজিয়ে এমন অবস্থায় নিতে চাই, যাতে মূল অপরাধীকে শনাক্ত করা যায় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা নিরাপদ থাকেন। ঠিক যেমনটা আমরা সিমের ক্ষেত্রে করেছি।
এনআইডিতে একাধিক সেট নিবন্ধিত দেখালে করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যবহারকারীর নামে একাধিক সেট নিবন্ধিত থাকে এবং তার ব্যবহৃত সেটটির আইএমইআই মিলে যায়, তাহলে অন্যগুলো ডিএক্টিভেট করলে সাধারণত কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে যে প্রসেস দেওয়া আছে সেটি অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করলে সহায়তা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত সিম কোনো সময় অন্য ফোনে ব্যবহার করা হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট তালিকায় যুক্ত হতে পারে। তাই যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।