‘FAAH’ ট্রেন্ড: হঠাৎ কেন ভাইরাল বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায়?

০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৯ PM
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘FAAH’ ট্রেন্ড

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘FAAH’ ট্রেন্ড © সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই একটি অদ্ভুত শব্দ ছড়িয়ে পড়েছে, টিকটক, রিলস কিংবা ফানি ভিডিওগুলোতে শব্দটির ব্যবহার ব্যাপক দেখা যাচ্ছে। ভাইরাল সেই শব্দটি হলো ‘ফাআআহ!’ (FAAH) বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের লাখো ব্যবহারকারী এখন ভিডিও, মিম বা বাস্তব জীবনেও এই শব্দটি উচ্চারণ করছে। অনেকের কাছে এটি হাস্যকর, আবার অনেকের কাছে এটি ইন্টারনেট সংস্কৃতির নতুন এক ভাইরাল ট্রেন্ডে পরিনত হয়েছে।

কী এই ‘ফাআআহ’?
ডিজিটাল মিম সংস্কৃতিতে ‘ফাআআহ’ মূলত একটি রিঅ্যাকশন সাউন্ড বা এক্সপ্রেশন। এটি কোনো নির্দিষ্ট ইংরেজি শব্দ বা সংক্ষিপ্ত রূপ নয়। বরং এটি এমন এক ধরনের ধ্বনি, যা ভিডিওতে অবাক হওয়া, হতাশা, বিরক্তি বা নাটকীয় প্রতিক্রিয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। 

২০২৫ সালের নতুন ট্রেন্ড মূলত এক ধরনের বিকৃত, তীব্র স্বরের আওয়াজ না পুরোপুরি শব্দ, না পুরোপুরি চিৎকার। তবে অদ্ভুতভাবে এটি মানুষের নানা অনুভূতি প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ভিডিওতে এই শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ হঠাৎ হোঁচট খেলে, কোনো মজার বিপত্তি ঘটলে কিংবা অদ্ভুত দৃশ্য দেখলে ভিডিওর শেষে শোনা যাচ্ছে। 

কোথা থেকে এসেছে?
অনেক ভাইরাল মিমের মতো এই শব্দটির উৎস রহস্যময় নয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালে ইউটিউবার ও টিকটকার টেইলিওন প্রথম এই অদ্ভুত ধাঁচের ভয়েস ক্লিপ তৈরি করেন। তাঁর ভিডিওতে প্রায়ই ইচ্ছাকৃতভাবে অদ্ভুত ও নিম্নমানের শব্দ ব্যবহার করা হতো। পরে আরেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিমিয়ামটাই সেই রেকর্ডিং খুঁজে পেয়ে টিকটকে পোস্ট করেন। 

এরপর টিকটকের অ্যালগরিদম মুহূর্তেই সেটিকে ভাইরাল করে তোলে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এই শব্দটি টিকটকের বিভিন্ন স্লাইডশো, দ্রুতগতির এডিট এবং অদ্ভুত মিমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ভিডিওতে এটি এক ধরনের ‘ইমপ্যাক্ট সাউন্ড’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়-যেন কোনো ঘটনার বিস্ময়, বিরক্তি বা হতাশা প্রকাশের একটি শব্দচিহ্ন।

কেন এই ট্রেন্ড বারবার দেখা যায়?
মানুষ বহুদিন ধরেই শব্দের মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশ করে আসছে। যুদ্ধের সময় যোদ্ধাদের যুদ্ধধ্বনি ছিল, নাবিকদের গান ছিল, খেলাধুলায় সমর্থকদের সমবেত স্লোগান ছিল। ভাষা পুরোপুরি গড়ে ওঠার আগেও মানুষ অনুভূতি প্রকাশ করত নানা ধ্বনি দিয়ে। সেই প্রাচীন প্রবৃত্তির আধুনিক সংস্করণ হলো এই ‘ফাআআহ’ একটি আদিম চিৎকার, যা এখন মিম সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

মিম সংস্কৃতির অদ্ভুত জগৎ
ইন্টারনেটে এই ট্রেন্ড নতুন মাত্রা পেয়েছে। কেউ অন্যদের ‘ফাআআহ’ বলার দক্ষতা রেটিং দিচ্ছেন, কেউ বানাচ্ছেন ডুয়েট ভিডিও, আবার কেউ তৈরি করছেন ১০ ঘণ্টার লুপ। মিম সংস্কৃতির স্বভাবই এমন একটি ট্রেন্ড হঠাৎ আসে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তারপর অন্য কিছুর জায়গা করে দেয়। তবুও এটি প্রমাণ করে দিয়েছে ইন্টারনেট সংস্কৃতিতে কখন কী ভাইরাল হবে, তা আগে থেকে বলা প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুন: তেল রপ্তানি স্থগিত করল চীন : ব্লুমবার্গ

কেন বিভিন্ন শব্দ দ্রুত ভাইরাল হয়? 
প্রথমত, ভাইরাল হওয়ার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফেসবুক ও টিকটকের অ্যালগরিদম। এটি কনটেন্টকে দ্রুত ছড়িয়ে দেয় যেগুলোতে একই ধরনের সাউন্ড বা ট্রেন্ড ব্যবহার করা হয়। কয়েকটি ভিডিও বেশি ভিউ পেলে একই সাউন্ড ব্যবহার করা অন্যান্য ভিডিওও দ্রুত দর্শকের সামনে চলে আসে।

দ্বিতীয়ত, সহজে অনুকরণযোগ্যতা। ভাইরাল কোনো শব্দ ব্যবহার করতে বিশেষ কোনো স্ক্রিপ্ট বা গল্প দরকার হয় না। শুধু একটি মজার বা অপ্রত্যাশিত মুহূর্ত দেখিয়ে শেষে এই শব্দটি যোগ করলেই একটি মিম ভিডিও তৈরি হয়ে যায়। ফলে ব্যবহারকারীরা দ্রুত এটি কপি করে নতুন ভিডিও বানাতে পারছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ট্রেন্ড আসলে বাংলাদেশের তরুণদের দ্রুত পরিবর্তনশীল অনলাইন সংস্কৃতির প্রতিফলন। কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন শব্দ বা সাউন্ড ভাইরাল হয়েছিল যা এখনো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের ভিডিওতে দেখা যায়।

সংশোধিত হচ্ছে এমপিও নীতিমালা, আসছে পাঁচ পরিবর্তন
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
এসিল্যান্ড হলেন প্রশাসন ক্যাডারের ৬২ কর্মকর্তা
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
পোশাক শিল্পে সহিংসতার নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল: …
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রাথমিকে আসছে নতুন মনিটরিং নীতিমালা
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো ‘টেডএক্স ইডব্লিউ…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পেলেন অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950