কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর © সংগৃহীত
বর্তমানে স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা বা ডিজাইনের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রসেসরকে। কেননা একটি ফোন কত দ্রুত কাজ করবে, গেমিং কেমন হবে, ব্যাটারি কতক্ষণ টিকবে কিংবা ফোন গরম হবে কি না, এসবের বড় অংশই নির্ভর করে প্রসেসারের ওপর। আর এই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর থাকা মানেই সাধারণত ফোনের পারফরম্যান্স ভালো। আর সে কারণেই এসব ফোনের দামও তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।
কি এই স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর?
এটি মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কোয়ালকমের একটি ‘সিস্টেম-অন-চিপ’, যার মধ্যে একটি প্রসেসর, গ্রাফিক্স প্রসেসর, এআই ইঞ্জিন এবং মডেম একত্রে যুক্ত থাকে।
কেন এত জনপ্রিয় স্ন্যাপড্রাগন?
স্মার্টফোন প্রসেসরের বাজারে বর্তমানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ও মিডিয়াটেক। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়াটেক শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে, তারপরও ফ্ল্যাগশিপ ও প্রিমিয়াম স্মার্টফোনে এখনও নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ স্ন্যাপড্রাগন।
এর অন্যতম কারণ হলো, অপটিমাইজেশন। অর্থাৎ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের সমন্বয় খুব ভালোভাবে করতে পারে কোয়ালকম। যার কারণে ফোন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলেও পারফরম্যান্স দ্রুত কমে যায় না।
কম গরম হয়?
বর্তমান বাজারের মোবাইল ফোনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গরম হয়ে যায়। বিশেষ করে গেম, ভিডিও এডিটিং বা অনেকসময় ধরে ভিডিও দেখার সময় এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। স্ন্যাপড্রাগনের উন্নত থার্মাল ম্যানেজমেন্ট প্রযুক্তির কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ফোন তুলনামূলক কম গরম হয়।
সফটওয়্যার আপডেটে এগিয়ে
বর্তমানে শুধু শক্তিশালী প্রসেসর থাকলেই হয় না, দরকার দীর্ঘমেয়াদি সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট। আর এই জায়গায়ও এগিয়ে রয়েছে কোয়ালকম।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন নির্মাতারা নিয়মিত অ্যান্ড্রয়েড আপডেট দিতে প্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। কোয়ালকম দীর্ঘ সময় সফটওয়্যার সাপোর্ট দেওয়ায় অনেক ব্র্যান্ড তাদের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে স্ন্যাপড্রাগন ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।
যদিও স্ন্যাপড্রাগন নাম দেখেই ফোন কেনা ঠিক নয়। কারণ একই সিরিজের মধ্যেও পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই ফোন কেনার ক্ষেত্রে কোন সিরিজ ও কোন প্রজন্মের প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও দেখা জরুরি।
কোন সিরিজ কার জন্য?
ফ্ল্যাগশিপের রাজা কোয়ালকমের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রসেসর সিরিজ হলো স্ন্যাপড্রাগন ৮ সিরিজ। এর মধ্যে বর্তমানে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জেন ৫ ও ৮ এলিট বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। এই সিরিজের প্রসেসর ব্যবহার করা হয় মূলত প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে। ছবি তোলা, ভিডিও এডিটিং, এআইভিত্তিক কাজ, ফোরকে বা এইটকে ভিডিও রেকর্ডিং, হাই-এন্ড গেমিং সব ক্ষেত্রেই এগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেয়।
আরও পড়ুন: শিক্ষকদের বেতন দেরিতে কেন—প্রশ্নের জবাবে যা বললেন মাউশি ডিজি
গেমিংয়ের জন্য কেন ভালো?
বিজিএমআই, পাবজি, জেনশিন ইমপ্যাক্ট কিংবা কল অব ডিউটির মতো ভারী গেম খেলতে হলে শক্তিশালী জিপিইউ দরকার হয়। স্ন্যাপড্রাগনের অ্যাড্রেনো জিপিইউ দীর্ঘ সময় গেম খেলার পরও তুলনামূলক স্থিতিশীল পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। যারা মাঝারি বাজেটের মধ্যে ভালো গেমিং, ক্যামেরা ও ব্যাটারি ব্যাকআপ চান, তাদের জন্য জনপ্রিয় স্ন্যাপড্রাগন ৭ সিরিজ।
এই সিরিজে রয়েছে ৭এস জেন ৪, ৭ জেন ৪ ও ৭ জেন ৩-এর মতো প্রসেসর। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে শুরু করে মাঝারি পর্যায়ের গেমিং ও ফটোগ্রাফির জন্য এগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী।
সব ক্ষেত্রেই কি স্ন্যাপড্রাগন সেরা?
এটি পুরোপুরি বলা ঠিক হবে না। কারণ বর্তমানে মিডিয়াটেকের ডাইমেনসিটি সিরিজও অনেক ক্ষেত্রে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বিশেষ করে কম দামে ভালো পারফরম্যান্স দেওয়ার ক্ষেত্রে মিডিয়াটেকের অবস্থান আগের চেয়ে অনেক শক্ত হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পারফরম্যান্স, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন, গেমিং ও তাপ নিয়ন্ত্রণের মতো দিক বিবেচনায় এখনও প্রিমিয়াম বাজারে স্ন্যাপড্রাগনের চাহিদা বেশি। (সূত্র: আনন্দবাজার)