স্মার্টফোন পকেটে রাখলে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কমার ঝুঁকি বাড়ে বলে উঠে এসেছে গবেষণায় © টিডিসি সম্পাদিত
স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এটি ছাড়া এক মুহুর্ত কল্পনা করাও কঠিন। ঘরে কিংবা বাইরে যেখানেই যাই, এটি আমাদের সঙ্গী। বাইরে বেশিরভাগ সময় প্রয়োজনীয় ডিভাইসটি আমাদের প্যান্টের পকেটে রাখা হয়, যা পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক গবেষণা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে।
আন্তর্জাতিক সাময়িকী ইউরোপিয়ান ইউরোলজি ফোকাস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (আরএফ-ইএমআর) শুক্রাণুর গতি ও জীবনীশক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাটি ল্যাবভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়, যেখানে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী সুস্থ পুরুষদের শুক্রাণুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফোরজি, ফাইভজি ও ওয়াইফাই সংযোগে কল চালিয়ে নমুনাগুলোকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত রেডিয়েশনের মধ্যে রাখা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, ফোরজি ও ফাইভজি ব্যবহারে তেমন কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পাওয়া যায়নি। তবে ওয়াইফাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর মোট গতি, প্রগ্রেসিভ গতি এবং জীবনীশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
অন্যদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ট্রাউজারের সামনের পকেটে ফোন রাখার ফলে অণ্ডকোষের কাছাকাছি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং রেডিয়েশনের প্রভাব সরাসরি পড়ে। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা ও কার্যক্ষমতা কমতে পারে।
আরও পড়ুন: ভুল স্টেশনে শিশু নামতেই ছেড়ে দিল ট্রেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকলে উদ্ধার
গবেষকরা এ প্রভাবের পেছনে দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, ফোন থেকে নির্গত রেডিওফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়েশন শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা শুক্রাণুর ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ফোনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অণ্ডকোষের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বিঘ্নিত হয়, যা শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষতি সাধারণত স্থায়ী নয়। পুরুষদের শরীরে প্রায় প্রতি তিন মাসে নতুন করে শুক্রাণু তৈরি হয়। ফলে অভ্যাস পরিবর্তন করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্যান্টের পকেটে ফোন না রেখে ব্যাগ বা জ্যাকেটে রাখা, দীর্ঘ সময় ওয়াইফাই কল এড়িয়ে চলা, ফোন শরীর থেকে দূরে রাখা এবং অপ্রয়োজনে স্ক্রিন টাইম কমানো এসব অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, এটি একটি প্রাথমিক গবেষণা এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই বাস্তব জীবনে এর প্রভাব পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।