ছাত্রশিবির ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপির সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা। একইসঙ্গে খুনের রাজনীতি বন্ধে ছাত্রজনতাকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জাবি ছাত্রশিবিরের ভারপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে শাখা সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর বিএনপি নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর প্রমাণ করে তারা এখনো পেশিশক্তি ও খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতার মোহে অন্ধ বিএনপি তাদের প্রকৃত সহিংস রূপ দেশবাসীর কাছে উন্মোচন করেছে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে স্থিতিশীলতা কাম্য, সেখানে বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
নেতৃদ্বয় অভিযোগ করেন, বিএনপি চাঁদাবাজ, ধর্ষক, নারী নিপীড়ক, হত্যাকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। গত দেড় বছরে তাদের হাতে ২২০ টিরও বেশি হত্যাকাণ্ড, ৭০টিরও বেশি ধর্ষণ, অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মারাসহ মসজিদে ঢুকে নারীদের মারধর ও হেনস্তার মতো পৈশাচিক ঘটনাগুলো চরম উদ্বেগজনক। নানা অজুহাতে দলটির নেতাকর্মীদের বারবার আইন হাতে তুলে নেওয়া এবং প্রশাসনের নীরব দর্শক হয়ে থাকা দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে ত্বরান্বিত করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী-নিপীড়নের ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যত ব্যর্থতা দেখিয়েছে। অবিলম্বে এসব অপরাধের বিচার নিশ্চিত না হলে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ নতুন করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
নেতৃবৃন্দ নিহত মাওলানা রেজাউল করিমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।