চবিতে শিবিরের বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন চবি শিবির। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে এগারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে শাখা শিবিরের আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় চবি শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, খুনি হাসিনার শাসনামলে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠন মিলিতভাবে এমন একটি সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল, যাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ ছিল না। দুঃখজনকভাবে, একই ধারাবাহিকতায় আজ ছাত্রদল, বিএনপি ও যুবদলও অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আপনাদের স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—যেভাবে আমরা সেই সন্ত্রাসী শক্তিকে বিতাড়িত করেছি, প্রয়োজনে আপনাদেরও বিতাড়িত করতে পিছপা হব না। নিজেদের দলীয় কোন্দল থেকে যে হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিলেন, আজ তা দলীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ হত্যায় রূপ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আপনারা প্রমাণ করেছেন যে, আপনারা খুনি হাসিনার বাহিনীরই উত্তরসূরি হয়ে উঠতে যাচ্ছেন।
তাদের নেতা লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এসে বলেছিলেন, 'আই হ্যাভ অ্যা প্লান' আজকের এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই আমরা সেই তথাকথিত ‘প্ল্যান’-এর বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এর আগে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যানশ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এই হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো চবিতেও প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ, শিক্ষা সম্পাদক সাদরুজ্জামান মুজাহিদ। উপস্থিত ছিলেন শিবিরের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।