গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি © টিডিসি ফটো
ফেনীতে অটোরিকশা চালক কিশোর শান্ত কুমার সাহা (১৬) হত্যা মামলায় ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (১১ মার্চ) রাতে গ্রেপ্তাকৃতরা আদালতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলার হকদি এলাকার বাসিন্দা কানু কুমার সাহা গত ৯ মার্চ ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে লালপোল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের বিপরীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি ট্রাক তার ছেলে শান্ত কুমার সাহাকে (১৫) ধাক্কা দিলে সে গুরুতর আহত হয় এবং পরে মারা যায়।
তদন্তের একপর্যায়ে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার আগে নিহত শান্তর অটোরিকশা ও মুঠোফোন ছিনতাই করা হয়েছিল। এরপর ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক রেজোয়ানের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ফেনী জেলা সাইবার সেলের সহায়তায় সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি পুলিশ ও ফেনী সদর মডেল থানার একটি দল চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার আল-আমিন হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশা বিক্রির ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
একই অভিযানে ছিনতাই হওয়া শান্তর মোবাইল ফোনসহ নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহাগের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কড়ইতলা এলাকা থেকে ইমাম উদ্দিন ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেখানো মতে স্থানীয় আনোয়ারের একটি গ্যারেজ থেকে শান্তর ছিনতাই হওয়া অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামে ইমাম উদ্দিন ও নাসিরের বাড়ি পাশাপাশি। নাসির ও সোহাগ চট্টগ্রামে একই বাসায় থাকতেন এবং তারা একটি অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী নাসির ফোনে ইমাম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সোহাগকে ফেনীতে পাঠায়। পরে সোহাগ নিহত শান্তর অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে। পরে ইমাম উদ্দিন ছিনতাই করা অটোরিকশাটি কোম্পানীগঞ্জের কড়ইতলা এলাকায় আনোয়ারের গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে সেটির যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে। আর ছিনতাই করা মোবাইল ফোনটি নাসিরের কাছে দেওয়া হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গ্রেপ্তার নাসির একাধিক ছিনতাই মামলার আসামি। একইভাবে সোহাগের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে ফেনী মডেল থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করা হয়।