ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম © টিডিসি ফটো
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ধাওয়া–ধাওয়া এবং হুমকির অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টায় জকসু নির্বাচনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগের কথা বলেন তিনি।
রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দর্শন বিভাগে যাওয়ার পর দেখা যায় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের এজেন্টরা বই আকারে প্রকাশিত তাদের প্যানেল পরিচিতি সামনে রেখে কেন্দ্রের ভেতর বসে আছেন। তাদের প্যানেলের এক এজেন্ট বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে কেন্দ্রের ভেতরেই তাকে মারধরের জন্য তেড়ে আসে ছাত্রদল প্যানেলের নেতাকর্মীরা এবং চিৎকার–চেঁচামেচি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। পরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি বলেন, শুধু দর্শন বিভাগেই নয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগসহ তারা যে যে বিভাগে গেছেন, প্রতিটি জায়গায় ছাত্রদল প্যানেল একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় ইংরেজি বিভাগে। সেখানে ছাত্রদল প্যানেলের ক্যাডাররা সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে ব্যালটে ব্যবহৃত প্যানেল পরিচিতি হাতে নিয়ে অবস্থান করছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থী ও ভোটারদের ওপর হামলার জন্য তেড়ে আসে।
তিনি দাবি করেন, এসব ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ভোটগ্রহণ ও বিশেষ করে ভোট গণনার সময় বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় ছাত্রদল প্যানেলের ক্যাডাররা লুকিয়ে অবস্থান করছে, যাতে সুযোগ পেলেই নাশকতা সৃষ্টি করা যায়।
রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তারা এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে গেলে কমিশন বরাবরের মতোই জানায় যে এখনো তাদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ পৌঁছায়নি। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান সম্ভব নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এগিয়ে এসে সমস্যা সমাধান করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে এবং ছাত্রদল প্যানেলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে প্যানেল পরিচিতি নিয়ে প্রবেশ করছে, ছাত্রদল প্যানেলের এজেন্টরা শিক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে এবং নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে নারী শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জকসু নির্বাচন সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরবিচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। আমরা মনে করি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ এখন অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।’