জকসু নির্বাচন
জকসু নির্বাচন ও শিবিরের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল।
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে গত ৩০ ডিসেম্বরের স্থগিত হওয়া নির্বাচনের প্রস্তুতিকালীন নানা অনিয়ম ও ত্রুটির বিস্তারিত পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল। বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর মেইন গেট খোলা থাকায় কয়েকশ অছাত্র ও বহিরাগত অনায়াসেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। একইসঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দেরিতে উপস্থিত হওয়া এবং ভোটারদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ বা কার্যকর সিকিউরিটি চেকিং না থাকায় বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে প্যানেলটি দাবি করেছে।
আরও পড়ুন : মিডিয়ায় থাকা ফ্যাসিবাদের দোসররা বিপ্লবীদের ভিলেন বানাচ্ছে: জাকসু জিএস
গুরুতর অভিযোগ হিসেবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের জন্য আগে থেকে ছবিযুক্ত স্থায়ী পরিচয়পত্র নিশ্চিত না করায় অনেকে ফটোকপি করা আইডি কার্ড ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের সামনে প্রচারপত্র বিলি করা এবং লিফলেটভর্তি বস্তা উদ্ধারের মতো ঘটনাগুলোকে নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল মনে করে, আসন্ন ৬ জানুয়ারির নির্বাচনে এসব দুর্বলতা দূর করা না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্যানেলের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যেন গেটে চেকিংয়ের দায়িত্ব শিক্ষকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হয় এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়।
জবি শাখা শিবির সভাপতি ভিপি পদপ্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে এবং একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তারা এই পর্যালোচনা ও আবেদন জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এই জকসু নির্বাচনকে ঘিরে যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তুঙ্গে, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিগুলো কাটিয়ে উঠতে কী ভূমিকা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।