ফিফা সভাপতি © টিডিসি ফটো
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত সত্ত্বেও আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান অংশ নিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর আরব নিউজ।
আগামী গ্রীষ্মে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি সংশয় তৈরি হয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে আলোচনা হয় বলে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান ফিফা প্রধান। তিনি লিখেছেন, ‘আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানি দল অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে।’
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ প্রসঙ্গে এটাই ইনফান্তিনোর প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য। তবে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে কি না তা নিয়ে তিনি মাথা ঘামান না। হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ চলাকালে ইরানের কয়েকজন নারী ফুটবলার দেশ ত্যাগের ঘোষণা দেওয়ায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদী তাজ। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পরিস্থিতি যদি এমন হয়, তবে সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ কি নিজের জাতীয় দলকে এমন জায়গায় পাঠাবে?’
সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তবে ১৯৫০ সালের পর এটি হবে কোনো দেশের বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের প্রথম ঘটনা।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় চলমান নারী এশিয়ান কাপে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়া ইরানের অন্তত পাঁচজন খেলোয়াড়—যাদের মধ্যে অধিনায়ক জাহরা গানবারিও রয়েছেন—গোপনে দল ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। পরে আরও দুজন খেলোয়াড় একই আবেদন করেন।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, একজন খেলোয়াড় পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত বদলেছেন এবং ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এর ফলে বাকি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার খাতিরে গোপন আস্তানা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।