সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ © সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থানবিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘একটা প্রমিস আজকে ওপেন প্ল্যাটফর্মে করে যাচ্ছি। আমার বা আমার রক্তের সম্পর্কের ফার্স্ট ব্লাডের যেসব আত্মীয়স্বজন আছেন, আমি তাদের কাছে বার্তাটা খুব ক্লিয়ারলি বলে দিয়েছি এবং আপনাদের সামনেও বলে যাচ্ছি। তারা সামনের কোনো লোকাল ইলেকশনও করতে পারবে না। কোনো পদ-পদবীতেও আমার পরিবারের কেউ সামনে আসতে পারবে না।’
রবিবার (৩১ মে) সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সাইয়েদ আব্দুল্লাহ বলেন, থানায় গিয়ে যদি কোনো অবস্থাতে কেউ নিপীড়নের শিকার হন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে ছাড়া অন্য কোনোভাবে ডিল করা হয়, আমার কান পর্যন্ত খবরটা পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। যেসব সরকারি অফিসে ঘুষ ছাড়া একটা ফাইল নড়ে না, খবরটা আমার কান পর্যন্ত পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। ইনস্ট্যান্ট ওই দায়িত্ব, ওই কর্মকর্তা যারা ঘুষ নেবে, ইমিডিয়েটলি দাঁড়িয়ে থেকে আমি এর ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব। এই জিনিসটা দরকার, এইজন্যই ক্ষমতার ভরকেন্দ্র কখনোই একটা জায়গায় সন্নিবেশিত থাকা উচিত না। এতে করে কী হয়? একজন বড় হয়, দলটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আমাদের সবার আগে যেটা মাথায় রাখা উচিত, দলের ভরকেন্দ্র বিভিন্ন জায়গায় থাকবে এবং দলের নেতাকর্মী যারা আছে, আমি চাই প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে, উপজেলা, পৌরসভায়—প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা যত আমাদের অঙ্গসংগঠন আছে, আলাদা আলাদা জায়গায় আলাদা আলাদা মানুষ ক্ষমতায়িত হয়ে দাঁড়িয়ে যাক। শুধুমাত্র তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, এমনটা যাতে না হয়। আশপাশের প্রত্যেকটা জায়গাকে আমি দেখতে চাই, সবগুলো ইউনিট যাতে শক্তিশালী হয়। সেই লক্ষ্যে আমি যদি আমার নিজের পরিবারকে সবার আগে স্যাক্রিফাইস করতে পারি, তার মিনিংটা হলো অন্য সবারও এই মতাদর্শের দিকে আগাতে হবে। একা একা বড় হও না, সবাইকে নিয়ে বড় হতে হবে।
জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুই নম্বর, আরেকটা কথায় আসি। চমৎকার কিছু কথা ছিল। জিয়াউর রহমান সাহেব যে বয়সে তিনি রাষ্ট্রের হাল ধরেছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে মাত্র অল্প কয়েকটা বছর আমরা তাকে পেয়েছিলাম। কিন্তু এর ভেতরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রের গতি-প্রকৃতি চিরতরে তিনি চেঞ্জ করে দিয়েছিলেন। দেশটা স্বাধীন হলো প্রচুর আশা, প্রত্যাশা ও ভরসা নিয়ে। কিন্তু দেখবেন, ঠিক তার পরক্ষণেই মাঝে মাঝে হতাশা চলে আসা শুরু করল।
আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর আজ, কোনটির লিটার কত?
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বুকে এমন নজির খুব বেশি নেই, যেখানে মিলিটারি ব্যাকগ্রাউন্ডের একজন মানুষ ইউনিফর্ম খুলে দেশে গণতন্ত্রের দিকে দেশটাকে ধাবিত করেছেন। জিয়াউর রহমানের পরিচয় হলো পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, মিলিটারি ব্যাকগ্রাউন্ডের যারা আছে, তারা ক্ষমতা পেলে ক্ষমতাকে এমনভাবে কুক্ষিগত করে রাখে যে গণতন্ত্রের পথটাকে বন্ধ করে দেয়। জিয়াউর রহমান সাহেব ওই ধরনের ব্যতিক্রমী একজন মানুষ, যিনি ক্ষমতার সঙ্গে নিজের ইউনিফর্মটাকে খুলে ফেলে দেশে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাটা শুরু করেছিলেন। এই নজিরটা সারা বিশ্বের ভেতরেই অন্যতম সম্মানজনক এবং বিরল একটি ঘটনা।
জিয়াউর রহমান সাহেবকে রিড করতে হলে আরও দুইটা ব্যাপারে আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। স্বাধীনতার পরে দেশের অর্থনীতি ক্রমেই খারাপের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি মানুষ ওই সময়ে এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছিল যে একটি দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা যেতে থাকে। নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, কারণ আমি জানি এই সাঁথিয়ায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করেন এমন অনেক মানুষ আছেন। নিশ্চয়ই একটি কবিতার কথা মনে আছে—‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাবো’। এই কবিতাগুলো কেন এসেছিল? ওই যে দুর্ভিক্ষ, ওই অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ফেইলিউর। দেখেন, দেশ স্বাধীন হলো, কিন্তু আমাদের স্বপ্নটা অধরাই ছিল।
‘জিয়াউর রহমান সাহেব আসার পরে আইডেন্টিফাই করলেন কোন কোন জায়গায় এই চুরি-চামারি হয়। সমগ্র খাতকে সরকারি মালিকানা থেকে প্রাইভেটাইজেশন দিয়ে গেলেন। কারণ, প্রাইভেট কোনো প্রতিষ্ঠান যদি থাকে, সরকারি তদারকি যদি থাকে, দেখবেন প্রতিষ্ঠানগুলো লাভে চলে যায়। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো লসে আছে। সো, আমি আগেই বলেছি, তাঁর জীবনের থেকে আমাদের কী কী শেখার আছে, সেই ব্যাপারগুলোর দিকে আমরা আগাতে থাকব। আমি কোনো টিপিক্যাল পলিটিশিয়ানের মতো কথা বলব না। কারণ, আমরা যাদের নিয়ে কথা বলব, তাদের থেকে যদি আমরা শিখতে না পারি, তাহলে আমাদের এত আয়োজন, এত কথা বলা—সবকিছু ব্যর্থ হয়ে যাবে।’
নিজ এলাকার প্রসঙ্গ টেনে সাইয়েদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের সাঁথিয়ায় অনেক ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হওয়া সম্ভব। আমি বেশ কিছু সেক্টরের এক্সপার্টদের দিয়ে অলরেডি ফিল্ড স্টাডি করিয়েছি। নিশ্চয়ই আপনারা জানেন, আমি কিন্তু প্রচুর দৌড়ে বেড়াই। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখবেন, আমি কোথাও আসলেও চট করে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের রাউন্ডে চলে যাই। দেখার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে, এই এলাকায় সামনে কিছু ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করা সম্ভব।
‘আমাদের পেঁয়াজের সংরক্ষণাগার যেটা আছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের প্রোডাকশন হয় আমাদের এই পাবনার সাঁথিয়া এবং সুজানগরে। পেঁয়াজের কোল্ড স্টোরেজ করার জন্য অলরেডি সরকারের নীতিগত কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু এক্সপার্ট টিমকে আমি সাঁথিয়ায় পাঠানোর জন্য শিডিউলও রেডি করে দিয়েছি। তারা সমগ্র সাঁথিয়া ঘুরে বেড়াবে। এই যে কোল্ড স্টোরেজের ব্যাপারটা, প্রাইভেটাইজেশনের মাধ্যমে শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা যেভাবে করা সম্ভব, একই সঙ্গে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা যারা পেঁয়াজ তোলার পরে ইমিডিয়েটলি বিক্রি করার জন্য চাপের মধ্যে থাকেন, এই চাপ থেকে তাদের রিলিফ দেওয়া সম্ভব হবে। অতএব, সেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেটআপটা কীভাবে আগানো যায়, সেটা নিয়ে আমি একটু কাজ করছি।’
‘ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি আমাদের এই সাঁথিয়ায় খুব ভালো হওয়া সম্ভব। তার কারণ, এই এলাকাতে গরুর দাম যেমন কম, তেমনি গরুর খাবার, ঘাস থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিসও খুবই ভালো হয়। সো, ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। নারীরা যাতে ঘরে বসে হলেও, যারা গৃহিণী আছেন, তারা এমন কোনো ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে কাজ করতে পারেন—যদি তাদের বাইরে যাওয়ারও দরকার না হয়। তাদের কাজগুলোকে অনলাইনের সঙ্গে যুক্ত করে, তারা ঘরে বসে কাঁথা সেলাই করতে পারে, ঘরে বসে বুটিকসের কাজ করতে পারে এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করার জন্য তরুণ ভাইদের পাইপলাইনে যুক্ত করে এই এলাকার নারীদেরও আমাদের মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসতেই হবে।’
শেষে সাইয়েদ আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা একা ইনকাম করে সংসার চালানো খুব কঠিন হবে। এইজন্য আমি বলছি, অর্থনীতি যদি ঠিক থাকে, রাজনীতিও কারেক্ট লাইনে চলবে। অর্থনীতি যদি ঠিক না থাকে, তাহলে অনেক এলোমেলো কাজ হবে।