যদি পারতাম সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকতাম: বাবর

১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১৭ PM
সিজদারত অবস্থায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর

সিজদারত অবস্থায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর © সংগৃহীত

সময়ের আবর্তনে মানুষ পাল্টায়। অনেকেই সময়ের পালাবদলে হারিয়ে যান মহাকালের গর্ভে কেউ বা আবার ফিরে আসেন নতুন ভাবে। চেনা মুখ,পরিচিত অঙ্গভঙ্গি সব একই থাকলেও সৃষ্টিকর্তা সম্বন্ধে উপলব্ধি নতুন করে জন্ম নেয় তাদের মধ্যে। ঠিক তেমনই একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মন্ত্রিসভায় একসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা ও নেত্রকোণা-৪ আসনে দলটির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী আমলে দীর্ঘ কারাবাস পার করে অবশেষে যখন তিনি মুক্ত হলেন তখন তিনি সম্পূর্ণ নতুন এক অবয়বে ধরা দিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাই আবারও ভাইরাল হয়েছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি তার অগাধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভঙ্গি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কো-একিউজড (সহ-আসামি) তথা জামায়াত নেতা শহীদ আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছেলে আলী আহমদ মাবরুরের এক পোস্টে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সংসদের গত অধিবেশন চলাকালীন সংসদ ভবনের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ফরজ ও সুন্নত নামাজ শেষ করে বের হওয়ার সময় হঠাৎ তার চোখে পড়ে একজন মানুষ টানা ২-৩ মিনিট ধরে দীর্ঘ সিজদা দিয়ে নফল নামাজ পড়ছেন। ভালো করে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, ব্যক্তিটি আর কেউ নন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

সেখানে লুৎফুজ্জামান বাবরকে দীর্ঘ সিজদা দেওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি (আহমদ মাবরুর) সেখানে দাঁড়িয়ে যান। নামাজ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রীর পাশে গিয়ে বসেন এবং কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। লুৎফুজ্জামান বাবরও অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সাড়া দিয়ে বলেন, ‘বলেন না, কী বলবেন।’

তিনি বাবরকে জিজ্ঞেস করেন, দীর্ঘ বছর ধরে আদালতে আনা-নেওয়ার সময়কার তার চেহারা মনে পড়ে কি না। এরপর নিজের বাবার পরিচয় দিয়ে জানান, লুৎফুজ্জামান বাবর এবং তার বাবা দুজনেই ২১ আগস্ট মামলার সহ-আসামি ছিলেন। বাবার সাথে দেখা করতে তিনি যখন আদালতে যেতেন, তখন সেখানে বাবরের সাথেও তার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে এবং সবাই মিলে খাবার ভাগ করে খেয়েছেন।

বাবার পরিচয় পাওয়া মাত্রই লুৎফুজ্জামান বাবর বসা অবস্থাতেই তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘তুমি মুজাহিদ সাহেবের ছেলে। তোমরা কেমন আছো? আমি তোমার বাবার খুব ক্লোজ ছিলাম।’ এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন।পরে আহমদ মাবরুর আদালতে বাবরের জামার বোতাম ছিঁড়ে যাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের হাসাহাসি কিংবা গাড়ি ওঠার সময় জুতোর তলা খুলে যাওয়ার মতো দুঃসময়ের দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে দীর্ঘ সিজদার রহস্য জানতে চাইলে লুৎফুজ্জামান বাবর চরম আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, ‘আংকেল, যদি পারতাম সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকতাম। আমার তো ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি। আমার আল্লাহ আমাকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন। অপমানের জীবন থেকে আজকের জায়গায় এনেছেন। ১৭ বছর কারাগার আর কনডেম সেলের জীবন থেকে আবার সংসদে এনেছেন। আমি যদি সারাদিন সিজদা দিয়ে থাকি তাহলেও তো আল্লাহর শুকরিয়ার কিছুই আদায় করা হবে না।’

সৌদিতে চাকরি না পেয়ে দেশে ফেরা, পাওনা চাইতে গিয়ে বাবা-ছেলেস…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা হবে বেতন স্কেল
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
সিপিএলে দল পেলেন মিরাজ
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
দাখিল-আলিমের ‘সাধারণ শাখা’র নাম পরিবর্তন
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
নতুন পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক শুভ, সদ…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬