বিদেশে উচ্চশিক্ষা

জার্মানিতে এসেই যে কাজগুলো করবেন

৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৩ PM
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীরা জেনে নিন দেশটিতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে যেসব কাজ করবেন

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীরা জেনে নিন দেশটিতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে যেসব কাজ করবেন © সংগৃহীত

বর্তমানে জার্মানি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রমেই জনপ্রিয় একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ থেকে অনেক অ্যাপ্লিকেন্ট জার্মানিতে আসছেন, দেখতেও খুব ভালো লাগে। তবে জেনে রাখা ভালো, আপনার আসল পরিশ্রমের শুরুই হবে এখানে আসার পর থেকে। আমার যা যা মাথায় আছে এখন, আমি বলার চেষ্টা করব—কী কী বিষয় আপনার অবশ্য কর্তব্য জার্মানিতে আসার পর।

১. আইসিই (ICE) টিকিট কাটা

আপনি জার্মানিতে ল্যান্ড করার আগেই আমি বলব, আপনি আইসিই ট্রেনের টিকিট কেটে রাখবেন। তাহলে আপনি প্রথম দিন এসে ট্রেন চেঞ্জ করে এতগুলো লাগেজ নিয়ে টানাটানির হ্যাসল থেকে বেঁচে যাবেন। আর আগে আগে কেটে রাখলে প্রাইসও কম পড়বে (Sparpreis/Super Sparpreis)। এক্ষেত্রে জার্মানিতে আপনার পরিচিত কেউ থাকলে তাকে বলবেন আপনাকে পেমেন্ট করতে সাহায্য করতে। এখানে এসে টিকিট কাটতে গেলে দ্বিগুণ/তিনগুণ দাম পোহাতে হতে পারে।

২. ডয়েচল্যান্ড টিকিট রেডি করে রাখা

আপনার ইউনিভার্সিটি যদি ডয়েচল্যান্ড টিকেট প্রোভাইড করে, তাহলে তো অসাধারণ ব্যাপার। কিন্তু অনেক ইউনিভার্সিটি প্রোভাইড করে না। সেক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব টিকিটটা কিনে ফেলা, কারণ এটা ছাড়া আপনি অনেকটা অচলপ্রায়। মনে রাখবেন, ডয়েচল্যান্ড টিকিট মূলত রিজিওনাল ট্রান্সপোর্টে ব্যবহার করা যায়, আইসিই ট্রেনে নয়, এবং সাধারণত এটি অটো-রিনিউ হয়।

আরও পড়ুন: জেনে রাখুন বিশ্বসেরা ২৯ স্কলারশিপের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

৩. সিম কেনা

অনেক জায়গায় পাবলিক ওয়াইফাই পাবেন, কিন্তু আপনার ডে-টু-ডে লাইফে যদি একটা সিম এবং ইন্টারনেট না থাকে, আপনি অনেক কাজেই সমস্যায় পড়বেন। ম্যাপ দেখে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া থেকে শুরু করে যেকোনো কিছু, সিম আর ইন্টারনেট থাকলে নিজে নিজে সব বুঝে করা যায়। তাই এসেই সর্বপ্রথম একটা সিম কিনবেন। Aldi, Vodafone, Lyca, O2-সহ আরও কিছু সিম প্রোভাইডার প্রিপেইড সিম বিক্রি করে। সিম অ্যাক্টিভেট করার সময় অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট দিয়ে আইডেন্টিফিকেশন করতে হয়। পরে সবকিছু সেট হয়ে গেলে ভালো প্যাকেজ দেখে পার্মানেন্ট সিম নিতে পারেন।

৪. এসেনশিয়াল শপিং

এত ঘণ্টা জার্নি করে এসেছেন, বাবা-মা আর প্রিয়জনকে দূরে রেখে—এখন যদি পেটভরে কিছু না খান, আপনার মনটা আরও খারাপ লাগবে। রান্না করার জন্য বেসিক যে বাজার-সদাই, সেগুলো কিনে ফেলবেন। যেমন: ফ্রাই পেন, রাইস কুকার, তেল, লবণ, চিনি, টিস্যু—আই মিন, যা যা লাগবে। ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার জন্য MediaMarkt, কসমেটিকসের জন্য DM, বাসার বেসিক জিনিসপত্রের জন্য Kik, Euro Shop, Woolworth আর বাজার-সদাইয়ের জন্য Aldi, Lidl, Rewe, Netto, Norma, Edeka, Kaufland, Lekkerland—বেসিক্যালি আপনার বাসার আশপাশে যেটা আছে, সেটাতেই। এছাড়া হালাল টার্কিশ কিছু সুপার মার্কেটও আছে, ম্যাপে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা: জেনে নিন যুক্তরাষ্ট্রের ফুল-ফ্রি ১৬ স্কলারশিপ সম্পর্কে

৫. সিটি রেজিস্ট্রেশন

আপনি যে সিটিতে উঠেছেন, সেই সিটিতে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার বাসার মালিকের কাছ থেকে নেওয়া Anmeldung পেপার এবং পাসপোর্ট নিয়ে সিটি অফিস বা Rathaus-এ যেতে হবে। অনেক সিটিতে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়, আবার অনেক সিটিতে সরাসরি গেলেও হয়। Anmeldung করার কিছুদিনের মধ্যেই Tax ID ডাকযোগে আপনার ঠিকানায় চলে আসে।

৬. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আপনার সিটি রেজিস্ট্রেশন এবং Tax ID দরকার হবে। এগুলো পেয়ে গেলে আপনার পছন্দের যেকোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে জার্মান ব্যাংক হিসেবে Sparkasse বা অন্য লোকাল ব্যাংক এবং শুরুতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসেবে Revolut ব্যবহার করা যায়। Revolut ব্যবহার করতে মূলত ফোন নম্বর থাকলেই হয়। বি.দ্র: এখানে এসে অনেকে রেফারেন্স নিয়ে অহেতুক চাপ দেয়—যেগুলোর আসলে তেমন কোনো দরকার নেই। আপনার যেটা ভালো লাগে, সেটাই ব্যবহার করবেন।

৭. ব্লক মানি ও হেলথ ইনস্যুরেন্স অ্যাক্টিভেট করা

ব্যাংক ডিটেইলস পাওয়ার পর খুব দ্রুত ব্লক অ্যাকাউন্টের রিলিজ ম্যান্ডেট সাবমিট করে দিন এবং হেলথ ইনস্যুরেন্স অ্যাক্টিভ করে নিন। হেলথ ইনস্যুরেন্স, Tax ID এবং পরবর্তীতে Social Security Number পেয়ে গেলে আপনি জবের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের দিক থেকে প্রস্তুত হয়ে যাবেন। এরপর শুরু হবে জীবনের আসল যুদ্ধ।

আরও পড়ুন: জেনে নিন মধ্যপ্রাচ্যের ১১ স্কলারশিপ সম্পর্কে

৮. রেসিডেন্ট পার্মিটের জন্য অ্যাপ্লাই করা

যখন আপনি মোটামুটি একটু স্ট্যাবল হবেন এবং ইনিশিয়াল কাজগুলো শেষ করবেন, তখন রেসিডেন্ট পার্মিটের জন্য আবেদন করবেন। এর জন্য আপনার সিটির Ausländerbehörde-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অনেক জায়গায় অনলাইনে ই-মেইল বা ফর্ম সাবমিট করে প্রসেস শুরু করতে হয়। সিটিভেদে সময় কম-বেশি লাগলেও, এটা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি ধাপ।

আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না, দেশকে এগিয়ে নিতে চাই: …
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
‎কিশোরগঞ্জ হাওরে গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
কাল থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
একটা দল পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে: জামায়াত
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বোরকা পরে ভুয়া ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা হলে প্রতিহত করা হবে: ম…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
২৮শ’ কোটির প্রকল্প-ডাকসু সচলসহ ৪১ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম প্র…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬