বিএনপিসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে বেহাল দশা

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩১ PM , আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ PM
বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের লোগো

বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোতে দেখা দিয়েছে বেহাল দশা। চরম সাংগঠনিক স্থবিরতা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে সংগঠনগুলোতে। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার ফলে এবং নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় মূল দলসহ ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিই বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে কমিটির নেতাদের কর্মকাণ্ডেই দেখা দিয়েছে সংগঠনের প্রতি অনীহা। এতে ভেঙে পড়ছে দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি। আর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না থাকায় নেতাকর্মীরাও ঝিমিয়ে পড়ছেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটির অনুমোদিত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সংখ্যা ১১টি। দলের গঠনতন্ত্রে অঙ্গ সংগঠন সম্পর্কে বলা হয়েছে, দলের এক বা একাধিক অঙ্গ সংগঠন থাকতে পারে। অঙ্গ সংগঠন হিসেবে দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সংগঠন জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গ সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে না। এ পর্যন্ত যে সমস্ত সংগঠন দলের চেয়ারম্যানের অনুমোদন পেয়ে অঙ্গ সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে— জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, জাতীয়তাবাদী যুবদল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা, জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল, জাতীয়তাবাদী ওলামা দল, জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল। সহযোগী সংগঠনের মধ্যে রয়েছে— জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের মূল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির প্রায় সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও বাড়ছে হতাশা।

দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার গঠনের পর সরকারের নানা কাজে ব্যস্ত। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হওয়ার পর হয়তো সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে— ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি

একই পরিস্থিতি মূল দল বিএনপিতেও। দলটির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে। নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকেও তা হয়নি। তবে দীর্ঘ দশকব্যাপী কাউন্সিল না হলেও প্রতিনিয়ত দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে আনা হয়েছে পরিবর্তন-পরিবর্ধন। নেওয়া হয়েছে নতুন মুখ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেককেই দেওয়া হয়েছে পদোন্নতি।

দলীয় নেতারা বলছেন, আপাতত সরকারের কার্যক্রম পরিচালনাই শীর্ষ নেতৃত্বের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই চলতি বছর জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের চিন্তা রয়েছে দলটির। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, আসন্ন ঈদ-উল আজহার পর থেকেই অঙ্গসংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন। তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো তেমন কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার গঠনের পর সরকারের নানা কাজে ব্যস্ত। সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হওয়ার পর হয়তো সাংগঠনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

TDC - 2026-04-29T212445-846
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনে অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনেরও অফিস রয়েছে

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, আপাতত মূল দলের পুনর্গঠন বা জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা নেই। অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অনেকে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে গেছেন। অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্বিন্যাসের সময় এসেছে। নীতিনির্ধারণী মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিগগিরই বেশ কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী গঠনে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে।

টানা ৪১ বছর চেয়ারপারসনের দায়িত্বপালনকারী বেগম খালেদা জিয়া গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হয়েছেন। তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। দলের শীর্ষ পদে গিয়েই প্রথমবার নির্বাচনে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমানে সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারেক রহমান। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ব্যস্ত রয়েছেন। সিনিয়র নেতাদের কয়েকজন বাদে অনেকেই সরকারের মন্ত্রী বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদ পেয়েছেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের: প্রধানমন্ত্রী

দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহল জাতীয় স্থায়ী কমিটিরও বেশ কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। দলের চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও মহাসচিবসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৯ জন। কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছে। সে কারণে তার পদটিও শূন্য। বর্তমানে কমিটির সদস্য রয়েছেন— তারেক রহমান (চেয়ারম্যান), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মহাসচিব), আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বেগম খালেদা জিয়া, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলামসহ স্থায়ী কমিটির আরও কয়েক সদস্য গত কয়েক বছরে মারা গেছেন।

বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। ঈদ-উল আজহার পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড।

জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল-এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদল পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি করতে পারেনি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোই দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।

আপাতত মূল দলের পুনর্গঠন বা জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা নেই। অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অনেকে জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদে গেছেন। অনেকে মন্ত্রীও হয়েছেন। তাই অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্বিন্যাসের সময় এসেছে। নীতিনির্ধারণী মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিগগিরই বেশ কয়েকটি অঙ্গ-সহযোগী গঠনে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থায়ী কমিটির সদস্য

বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি তারা। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, জাসাস, শ্রমিক দল ও মৎস্যজীবী দল— এসব সংগঠনেরও কোনো কমিটির মেয়াদ নেই। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজীব বর্তমানে সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। সভাপতি তুহিন পরাজিত হলেও বাবুল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য। সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে মতভিন্নতার পাশাপাশি ব্যাপক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলেও কৃষক দল সূত্রে জানা গেছে। এতে সাংগঠনিক স্থবিরতা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

আরও পড়ুন: জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে: মির্জা ফখরুল

২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। সাম্প্রতিককালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ছাত্রদলের ‘ভরাডুবি’ সংগঠনটির অতীত ঐতিহ্য ধূলিসাৎ করেছে বলে দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মন্তব্য। ফলে সংগঠনটির পুনর্গঠন ও নতুন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি উঠেছে খোদ সংগঠনটির মধ্য থেকেই। দ্রুত নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে না পারলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও ১০ বছর একই কমিটি দিয়ে চলছে। এর মধ্যে সুলতানাকে চলতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

সাম্প্রতিককালে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ছাত্রদলের ‘ভরাডুবি’ সংগঠনটির অতীত ঐতিহ্য ধূলিসাৎ করেছে বলে দলটির সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মন্তব্য। ফলে সংগঠনটির পুনর্গঠন ও নতুন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের দাবি উঠেছে খোদ সংগঠনটির মধ্য থেকেই।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ও সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তিন বছর পরপর সংগঠনটির নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এই সময়েও নতুন কমিটি না হওয়ায় এক সময় বিএনপির ‘অহংকারে’র এই সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

২০১৪ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে শ্রমিক দলের কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন করে আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। বর্তমানে শীর্ষ দুই নেতাই অসুস্থ ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়ায় এই সংগঠন কার্যত মাঠে নেই বলেই দেখা যায়।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে মারা যান রফিকুল ইসলাম। পরে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর আর কোনো কমিটি হয়নি।

আরও পড়ুন: আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগীদের সঙ্গে বিতর্কিতরাও মূল্যায়নের খাতায়

জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের ২০১৯ সালে গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও তামাদী হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছরের মেয়াদ থাকলেও ২০২২ সালে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যা তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার কথা ছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় পুরোনো নেতারাই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এদিকে, বিভিন্ন দিবসে ‘প্রতীকী’ উদযাপনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম। অভিনেতা হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্য সচিব করে ২০২১ সালের নভেম্বরে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও ওই কমিটি প্রায় ৫ বছর পার করছে। বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী স্বৈরশাসনে এক সময়ের ‘প্রেস্টিজিয়াস’ এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটির ন্যূনতম ভূমিকাও ছিল না বলে বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

image_34914_0
কবি আল মাহমুদ ছিলেন জাসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

দেশের অন্যতম সেরা ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য কবি আল মাহমুদের নেতৃত্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাসাস প্রতিষ্ঠা করেন। আল মাহমুদ ১৯৮০ সালে জাসাসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কেবল জাসাসের নেতৃত্বই দেননি, বরং জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও সংস্কৃতি চর্চায় দীর্ঘকাল গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। অতীতে সংগঠনটির সঙ্গে দেশের খ্যাতনামা সব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা জড়িত থাকলেও বিগত কয়েকটি কমিটি অখ্যাত, কিছু নেতার ‘মাই ম্যান’দের দিয়ে গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা না থাকায় বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও এদের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি বলে মন্তব্য তাদের।

এদিকে, নির্বাচনের পর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে যেতে আগ্রহীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে লবিং শুরু করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অনেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথাও তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন তারা। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় একদিকে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় অনেক পদবঞ্চিত কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন থাকার ফলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে।

তারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রুত সময়ের মধ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা না হলে দল সাংগঠনিকভাবে আরও দুর্বল, স্থবির হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা।

দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু জামায়াত 
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাংক এশিয়া নিয়োগ দেবে ৭ জেলায়, আবেদন শেষ ১৩ মে
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
স্রোতে ভেসে যাওয়া মিটার রিডারের মরদেহ উদ্ধার
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ছাঁটাই আতঙ্কে তিতুমীর কলেজের ১৭৭ কর্মচারী 
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
রাবি শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের ছবি সংবলিত এটিএম কার্ড দিচ্ছ…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতক-স্নাতকোত্তরের সুযোগ অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬