জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল করতে হবে: মির্জা ফখরুল

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫০ PM
যৌথ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

যৌথ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর © সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী কখনোই সুস্থ চিন্তা করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে যেন পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংকালে এমন মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি আজকে পত্রিকায় একটি সংবাদ দেখলাম। যে সংবাদটি আমাকে অত্যন্ত আহত করেছে। জামায়াতে ইসলামের আমির বলছেন যে, বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং তিনি বা তার দল যে কখনোই সুস্থভাবে চিন্তা করেন না তা প্রমাণিত হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের (জামায়াতে ইসলামী) যে অতীত ইতিহাস, তা আমরা সবাই খুব ভাল করে জানি। সেই কারণেই সমগ্র জাতি অত্যন্ত সচেতনভাবে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আগামীতে যেন পুরোপুরি তাদেরকে নির্মূল করা যায় রাজনৈতিকভাবে সেভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুন: ইতিহাসে আর কোনো সরকার দুই মাসে এতটা অজনপ্রিয় হয়নি: নাহিদ ইসলাম

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সমগ্র পৃথিবীর দেশগুলো থেকে যারা অবজারভার এসেছিল, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো, পত্রপত্রিকা মিডিয়া এক বাক্যে স্বীকার করেছে যে, এই নির্বাচনটি ছিল এ কালের অর্থাৎ বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে সবচাইতে নিরপেক্ষ, অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচন। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বিএনপি তার জনপ্রিয়তায় ২১৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এই বক্তব্য আমি আবার প্রত্যাখ্যান করছি শুধু নয়, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বিভিন্নভাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপরে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে— ওই শক্তিটির (জামায়াতে ইসলামী) পক্ষ থেকেই একটা ধুম্রজাল সৃষ্টি করা, আবার একটা বিভেদ সৃষ্টি করা। আমরা ৫ আগস্টের পরে যে সুযোগ পেয়েছি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, সেই প্রচেষ্টাকে নষ্ট করে দেওয়া, সুযোগকে নষ্ট করা এবং আবার একটা ফ্যাসিস্ট শাসনের পায়তারা তারা (জামায়াত) করছে কিনা; সেটা আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, দেশবাসীকে চিন্তা করতে হবে। ভিন্নভাবে দেশকে আবার স্বৈরাচারের মধ্যে তারা নিতে চায় কিনা সেটাও আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে।

আসন্ন মহান মে দিবসে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশের গুরুত্ব বেশি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব এই সমাবেশ সর্বাত্মকভাবে সফল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১ মে দুপুর ২টায় এই সমাবেশ হবে। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমাদের দলের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের সবচাইতে জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সভাটিকে সফল করার জন্যে আমরা দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।

আরও পড়ুন: বট অ্যাকাউন্টের এডিটেড পোস্ট নিয়ে ছাত্রদলে উত্তেজনা, হামলায় আহত ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকরা

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমাদের আবেদন থাকবে যে তারা এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করবেন। প্রত্যেকটি ইউনিটের আমাদের জেলা এবং উপজেলা ইউনিটগুলোতে একইভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারাও সেইভাবে তারা এই দিবসটি পালন করবেন। আমরা ঢাকাতে এই দিবসটিকে একটা উৎসবের দিন এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক শপথ গ্রহণ করবার দিন হিসেবে আমরা এটাকে নিতে চাই। যাতে করে আমরা ভবিষ্যতে আমাদের রাজনীতিকে আরো বেগবান করতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সবসময় লক্ষ্য করেছেন আমরা এর আগেও বলেছি যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করবার জন্য একটি পক্ষ প্রথম থেকেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে… সে নির্বাচনের আগে থেকেই। তখনও আপনার অফুরন্ত মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা, ফেইক ইনফরমেশন, সোশ্যাল মিডিয়াকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে, অনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিএনপিকে জনগণের কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা চলেছে। কিন্তু সেটা সক্ষম হয়নি, সফল হয়নি।

তিনি বলেন, এখনো আবার দেখেন যে সমস্ত কার্টুনগুলো করে তারা দিচ্ছে এবং সেগুলোকে নিয়ে গিয়ে যে প্রচেষ্টা তৈরি করছে খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ওই শক্তি যারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়— একটা ইনস্টেবল অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, অনিশ্চিত অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তারা এই কাজগুলো করছে। আমরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছি, নিন্দা জানাচ্ছি এবং ছাত্র রাজনীতিতে এ ধরনের যে একটা অবস্থা তৈরি করার যে প্রচেষ্টা করা হচ্ছে আমরা তারও নিন্দা জানাচ্ছি। আমি আশা করব যে যে সমস্ত পক্ষগুলো এই ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছেন তার বিরুদ্ধে তারা থাকবেন। কারণ বাংলাদেশের স্বাধীন সচেতন ছাত্র সমাজ বরাবরই অপরাজনীতিকে পরিহার করেছে এবং জনগণও অপরাজনীতি পরিহার করেছে এবং আমরা এবারও দেখব যে জনগণ এগুলোকে প্রতিরোধ করবে এবং তাদেরকে পরিহার করবে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির ‍হোসেন, তারিকুল ইসলাম তেনজিং, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  ওবায়দুল রহমান টিপু, জাসাসের সভাপতি হেলাল খান, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, তাঁতী দলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মজিবুর রহমান, ওলামা দলের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা, সদস্য সদস্য আবুল হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, প্রচার সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম মনজু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে যবিপ্রবিত…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
৬ শতাংশ জমির মালিক মানসুরার আছে সোয়া লাখ টাকার আসবাবপত্র-ইল…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
রিফাত-হাসিবের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে স্ক্রিনশট ফাঁ…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে চবিসাসের …
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
কোটিপতি জামায়াতের এমপি প্রার্থী সাবিকুন্নাহার মুন্নী, মোট …
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জনগণকে ক্ষমতায়ন ও তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে সরকার: উ…
  • ২৫ এপ্রিল ২০২৬