সংরক্ষিত নারী আসন

আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ও ত্যাগীদের সঙ্গে বিতর্কিতরাও মূল্যায়নের খাতায়

২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১১ PM , আপডেট: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ PM
সূবর্ণা ঠাকুর ও মাধবী মারমা

সূবর্ণা ঠাকুর ও মাধবী মারমা © টিডিসি সম্পাদিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। গত সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আনুষ্ঠানিকভাবে এ তালিকা প্রকাশ করেন। বিএনপি ঘোষিত তালিকায় স্থান পাওয়া অধিকাংশ নেত্রীরই বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দল ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মসূচিতে উপস্থিতি ছিল।

বেশিরভাগ নেত্রীই রাজপথে পরীক্ষিত, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার পাশাপাশি অনেকে নির্যাতিতও হয়েছেন। যদিও ঘোষিত তালিকায় বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুসারী অন্তত দুজন নারী বিএনপি দলীয় কোটায় মনোনয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নির্যাতিত নেত্রী অবহেলার শিকার হয়েছেন বলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে অতীতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপি ঘোষিত চূড়ান্ত তালিকায় সংরক্ষিত নারী আসনে সাবেক ১০ জন সংসদ সদস্য স্থান পেয়েছেন। এসব নেত্রীর অধিকাংশই দেশের রাজনীতির ইতিহাসের অত্যন্ত ক্রান্তিকাল হিসেবে আলোচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন’-এর প্রেক্ষাপটে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

তারা হলেন— সাবেক সাংসদ বেগম সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার, রাশেদা বেগম হীরা, বিলকিস ইসলাম, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নেওয়াজ হালিমা আরলী ও সুলতানা আহমেদ। রাজনীতি থেকে বিশেষ করে বিএনপির রাজনীতি থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া ‘ওয়ান-ইলেভেন’ অধ্যায় সংরক্ষিত নারী আসনে কিছুটা স্মরণে রাখায় সাধারণ নেতাকর্মীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এক পরিবার এক আসন’। তবে শিরিন সুলতানা ও নিপুণ রায়ের ক্ষেত্রে এই ঘোষণা মানা হয়নি। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত তিন নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বিগত আওয়ামী শাসনামলে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোকে সংগঠিত করে দেশে ও বিদেশে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি রয়েছেন।

ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে মনোনয়ন দেওয়ায় অনেকে এটিকে দলীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। পিন্টু বিগত সরকারের আমলে কারাগারে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলায় মারা যান। এছাড়া ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইনের মনোনয়নকে বাবুর প্রতি বিএনপির মূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন নেতাকর্মীরা।

এর বাইরে আন্দোলন-সংগ্রামে তেমন ভূমিকা না থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন নারী চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন। তারা ব্যক্তিগত যোগাযোগে ‘সৌভাগ্যবান’ হয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এই মনোনয়ন নিয়ে সন্তোষ-অসন্তোষ দুটোই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক এবং মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর মনোনয়নকে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ‘অতি ভাগ্যবান’ মনোনয়ন হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন: আবু সাঈদের ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত মানছে না কে‌উ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এক পরিবার এক আসন’। তবে শিরিন সুলতানা ও নিপুণ রায়ের ক্ষেত্রে এই ঘোষণা মানা হয়নি। শিরিনের স্বামী বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আর নিপুণের পিতা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী। তার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।

দলটির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমানে অসুস্থ স্বামী মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে আমি এমপি হতে চাই না।’ পরে তিনি আরও জানান, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে আমি বিএনপির মনোনয়নই চাইনি।’

তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে কয়েকজন মনোনয়নপ্রাপ্তকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট এক নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গোপালগঞ্জের মতুয়া সম্প্রদায়ের সূবর্ণা ঠাকুর, যিনি জেলা আওয়ামী লীগের পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং বান্দরবানের মারমা সম্প্রদায়ের মাধবী মারমার মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাধবী ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বান্দরবানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত পিপি ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নোটারি পাবলিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সূবর্ণা ঠাকুর ও মাধবী মারমাকে নিয়ে সমালোচনা হলেও উত্তরবঙ্গের অবহেলিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ওঁরাও সম্প্রদায়ের আন্না মিঞ্জের মনোনয়নকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সহস্রাধিক নারী নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৯০০-র বেশি আবেদন জমা পড়ে। এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেয় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মনোনয়ন বোর্ড। যাচাই-বাছাই শেষে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং নির্যাতিত নেত্রীদের অগ্রাধিকার দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

ভারতে এমপি আনার খুনের দুই বছর—তদন্তে নেই অগ্রগতি
  • ১৩ মে ২০২৬
৮ বছর পর সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি, নেতৃত্বে রায়…
  • ১৩ মে ২০২৬
হামের চিকিৎসায় সরকারকে ১০টি ভেন্টিলেটর দিল রেডিয়েন্ট
  • ১৩ মে ২০২৬
যক্ষ্মা চিকিৎসায় এক কোটি ৭০ লাখ অ্যান্টি-টিবি ওষুধ কিনবে সর…
  • ১৩ মে ২০২৬
আট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা পাবেন জবি শিক্ষার্থীরা
  • ১৩ মে ২০২৬
ওয়ালটনের আরও ৪ মডেলের স্মার্ট ওয়াশিং মেশিন উন্মোচন
  • ১৩ মে ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SUMMER 2026
Application Deadline Wednesday, May 13, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9