আর্জেন্টিনা দল © সংগৃহীত
ক্রীড়াঙ্গনে শিরোপা জয়ের চেয়ে সেটি ধরে রাখা অনেক বেশি কঠিন বলে মনে করা হয়। প্রতি মৌসুমে প্রতিটি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। কারণ তাদের সামনে শুধু নতুন করে জয়ের নয়, আগের সাফল্য ধরে রাখারও চাপ থাকে। ২০২৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন ক্রীড়া আসরে একের পর এক দল সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে উতরে যাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে লিওনেল মেসিদের সামনে রয়েছে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন পরীক্ষা। তবে চলতি বছরে বিভিন্ন খেলায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আশাবাদী করে তুলেছে।
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ প্যারিস সাঁ-জার্মেই (পিএসজি)। বহু প্রতীক্ষার পর ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদ পায় ফরাসি ক্লাবটি। সেই সাফল্যকে একবারের অর্জন হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে ২০২৬ সালেও শিরোপা নিজেদের দখলে রাখে তারা। ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করে পিএসজি।
একই দৃশ্য দেখা গেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও। ১৮ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো আইপিএল জিতে শিরোপাখরা কাটিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। পরের বছরও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে হারিয়ে আবারও শিরোপা জিতে নেয় দলটি। ফলে পিএসজির মতো আরসিবিও নিজেদের প্রথম শিরোপার পর সেটি ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখায়।
শুধু পিএসজি বা আরসিবি নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের আরও কয়েকটি ক্লাবও এ বছর শিরোপা ধরে রাখার নজির স্থাপন করেছে। বার্সেলোনা ২০২৪-২৫ মৌসুমে লা লিগা জয়ের পর ২০২৫-২৬ মৌসুমেও স্পেনের শীর্ষ লিগের ট্রফি নিজেদের কাছে রাখতে সক্ষম হয়। এল ক্লাসিকো জয়সহ ৯৪ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করে কাতালানরা।
জার্মান ফুটবলেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে বেয়ার লেভারকুসেনের কাছে শিরোপা হারানোর পর ২০২৪-২৫ মৌসুমে বুন্দেসলিগার মুকুট পুনরুদ্ধার করে বায়ার্ন মিউনিখ। এরপর ২০২৫-২৬ মৌসুমেও তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে। এর মাধ্যমে জার্মান ক্লাবটি নিজেদের ৩৪তম বুন্দেসলিগা শিরোপা জয় করে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভারতের পুরুষ ক্রিকেট দল টানা দুই বছর আইসিসির বড় ট্রফি জিতেছে। ২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডকে চার উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে ভারত।
আরও পড়ুন: এবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা!
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এই ধারাবাহিক সাফল্য আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যেও নতুন আশা তৈরি করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, পিএসজি, আরসিবি, বার্সেলোনা, বায়ার্ন কিংবা ভারতের মতো আর্জেন্টিনাও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে।
তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, কাজটি মোটেও সহজ নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি দেশ টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব দেখাতে পেরেছে। প্রথম দল ইতালি। ১৯৩৪ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৩৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত পরবর্তী আসরেও তারা শিরোপা ধরে রাখে।
এরপর সেই কীর্তি গড়ে ব্রাজিল। ১৯৫৮ সালে সুইডেনে পেলের অনবদ্য নৈপুণ্যে প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৬২ সালে চিলির আসরে গ্যারিঞ্চার নেতৃত্বে আবারও বিশ্বসেরা হয় সেলেসাওরা। এরপর আর কোনো দেশ টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
এবার সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানোর সুযোগ আর্জেন্টিনার সামনে। যদিও দলটিতে কিছু চোট-আঘাতের সমস্যা রয়েছে, তবুও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপজয়ী কোর দলের অভিজ্ঞতা এবং লিওনেল মেসির নেতৃত্ব আর্জেন্টিনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।