সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে অধ্যক্ষের কক্ষে শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার চড়-থাপ্পড়, চেয়ার ছুড়ে মারধর

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ PM , আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৮ PM
লোগো/ ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দিন নাছির ও সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আওয়ালের সঙ্গে ইফতেখার সিহাব

লোগো/ ছাত্রদল সেক্রেটারি নাছির উদ্দিন নাছির ও সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আওয়ালের সঙ্গে ইফতেখার সিহাব © সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের (এস‌এইচ‌এস‌এমসি) অধ্যক্ষের কক্ষে অধ্যক্ষসহ বেশ কয়েকজন বিভাগীয় প্রধানের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. সাইফ আলীকে ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ সিহাবের চড়-থাপ্পড় থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ সিহাব ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০১৬-১৭ সেশনে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া এই শিক্ষার্থী এখনও দ্বিতীয় প্রফ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়ালের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অপরদিকে সাইফ আলী এখন শেষ বর্ষে রয়েছেন।

এ ঘটনায় গতকাল রবিবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন মেডিকেলটির শিক্ষার্থীরা। তারা সিহাব ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরেক ছাত্রদল নেতা মেহেদি হাসানের বহিষ্কার দাবি করেছেন। এছাড়া আইনি প্রতিকারের দাবিতে ইফতেখার আহমেদ সিহাবের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. সাইফ আলী।

অভিযুক্ত ছাত্রদলনেতা ইফতেখার সিহাব

এদিকে গত শনিবারের (২৫ এপ্রিল) এ ঘটনায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিকেল প্রশাসন। একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ-বিভাগীয় প্রধানদের সামনে হওয়া এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে ৭ থেকে ১৪ দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার মুনকে। ঘটনার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, আগামী ৬ মে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর দাবিতে শনিবার শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল অধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার দাবি জানাতে দাঁড়ালে ছাত্রদল নেতা সিহাব অতর্কিতভাবে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা শুরু করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্র সাইফ আলী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি এন্ট্রি ফি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলাম। প্রোগ্রামটিতে অংশ নিতে এবং ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজের আগ্রহ নিয়েই গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি আমার মতামত জানানোর জন্য যখন প্রিন্সিপাল স্যারকে অ্যাড্রেস করি, তখন ইফতেখার আহমেদ সিহাব আমার গালে চড় মারে। এখনও সেটার দাগ আছে। আমার চশমাও ভেঙে যায় তখন। আমার কানে চিনচিন ব্যাথা করতে থাকে। তখন প্রিন্সিপাল স্যার এবং অনেক ডিপার্টমেন্টের প্রধানরা সাক্ষী ছিলেন। তারা হতভম্ব হয়ে গিয়ে আমাকে পাশে বসান এবং মিউচুয়াল করার চেষ্টা করেন।

সাইফ আলী বলেন, তখন আমার ব্যাচমেটরা আমাকে উদ্ধার করতে আসলে তারা হুমকি-ধমকি, ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করে। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। কবজি কেটে নিবে, গলা কেটে নিবে, কোপ দিয়ে নামায় ফেলবে— এ ধরনের কথা বলতে থাকে। এক সময় তারা আমাদের ব্যাচমেটদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে। ১৬তম ব্যাচের মেহেদি হাসান চেয়ার তুলে হামলা করে। আমরা প্রতিরোধ করলে মেহেদি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।

সাইফ আলীর একাধিক সহপাঠী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর জন্য প্রত্যেক ব্যাচ থেকে কিছু পরিমাণ রেজিস্ট্রেশন ফি ধার্য করা হয়েছিল। তবে স্টুডেন্টদের পক্ষ থেকে অপোজ করা হয়েছে যে আমাদের এই যে রেজিস্ট্রেশন ফিটা ধরা হয়েছে অনেক বেশি। এজন্য সিনিয়র-জুনিয়র বিভিন্ন ব্যাচ মিলে প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে বসেছিল যেন রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো যায়।

তারা বলেন, এটা নিয়ে কথা বলতে গেলে আমাদের বন্ধুকে মারধরের খবরটা আমরা পেলে আমরা সবাই সেখানে যাই। আমরা প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে জানতে চেয়েছি যে স্যার আপনার সামনে কেন মারল, কীভাবে সম্ভব হল। এ সময় তারা গালাগালি, হুমকি-ধমকি এবং এক পর্যায়ে আমাদের ওপর চেয়ার নিক্ষেপ করে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রদল নেতা সিহাব এর আগেও একজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে চড় মারেন। তবে ছাত্রদল তাকে শেল্টার দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মেডিকেল প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বারবার এরকম সুযোগ পাচ্ছেন। তারা বলেন, এটা যদি এরকম ‘আনচেক’ থাকে, তাহলে এ ধরনের ঘটনা সামনে আরও হবে। কারণ ঘটনাটা প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে ঘটেছে। সেখানে নিরাপত্তা না থাকলে বাইরে আর কোথায় থাকবে?

ঘটনার পর অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমেদ সিহাব ও মেহেদি হাসান ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না। এ বিষয়ে জানতে তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ছাত্রদলের কোনো কমিটি নেই। কিছুদিন আগে কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। আর এ ধরণের ব্যক্তিগত কিছু ঘটে থাকলে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল প্রশাসন একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আঈনুল ইসলাম খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিটি যে সুপারিশ করবে, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।

যে পাঁচ কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি হলো ট্রাম্পের
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
এইচএসসির ফলাফলে ধস, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে মাইকিং
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
দুই যুগেও মেলেনি এমপিও, ঋণের চাপে সর্বস্বান্ত হয়ে প্রাণ গেল…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
হামের টিকা নিয়ে তদন্ত করছে সরকার
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
জায়গা দখল করে ছাত্রদল নেতার অবৈধ দোকান, নিউজ করায় সাংবাদিকে…
  • ০৪ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950