মায়ের স্মৃতিতে শৈশবের খালেদা

‘ওর বাবা বলত, আমার মেয়েটি বিদ্বান হবে’

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৭ PM , আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৯ PM
বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া © সংগৃহীত

না ফেরার দেশে চলে গেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। নিতান্ত গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে সারা দেশজুড়ে। বেগম খালেদা জিয়া জন্ম নিয়েছিলেন ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, তৎকালীন ব্রিটিশ-বঙ্গের জলপাইগুড়িতে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর বাবা ইস্কান্দর মজুমদার সপরিবারে চলে আসেন দিনাজপুরে। সেখানেই বেড়ে ওঠেন খালেদা খানম, আদর করে পরিবারের সদস্যরা ডাকতেন পুতুল।

৫ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশনারি কিন্ডারগার্টেনে শুরু হয় শিশু খালেদা খানমের শিক্ষাজীবন। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুল। পরবর্তীতে পড়াশুনা করেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় খুব বেশি না আগালেও খালেদা জিয়া জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর রাজনৈতিক বিচক্ষণতার জন্য প্রশংসিত হন বারবার। ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান অর্জনের প্রতি তার এই নেশা। তাঁর মা বেগম তৈয়বা মজুমদারের স্মৃতিকথায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবদাল আহমেদের ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া: সংগ্রামমুখর জীবনের আলেখ্য’ গ্রন্থের ‘সোনালি শৈশবে, স্বপ্নের কৈশোরে’ অধ্যায় থেকে থেকে মায়ের সেসব স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের পাঠকদের জন্য—

পুতুল ছিল আমার সবার আদরের মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই ও খুব সুন্দর। ওর বাবা ওকে ভীষণ আদর করত। কাউকে কিছু বলতে দিত না। প্রতিদিন ওর বাবা বাসায় এলেই ও দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠত। ওর বাবা ওর কাছে জিজ্ঞাসা করত কে কে আদর করেছে, কে করেনি। কেউ কিছু বলেছে কি-না। পুতুলের বয়স তখন দুবছর। মুখে কথা ফুটেছে। আমরা জলপাইগুড়িতে। আমাদের পারিবারিক চিকিৎসক ডাক্তার অবনীগুহ একদিন আমাদের বাসায় এসে পুতুলকে কোলে নিল। অবনীগুহের গোঁফ ছিল অনেক বড়। সে পুতুলকে আদর করে বলল, ‘এই বুড়ি! তোকে গোঁফ দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাব।’ পুতুল তখনি ওর কোল থেকে নেমে এসে আমার কাছে নালিশ করে—‘চাচ্চুটা ভাল না। আমাদের বাসায় আর ওকে আসতে দিও না।’ বিউটিকে নিয়ে পুতুল সারাক্ষণ খেলত। কাঠের পুতুল, মাটির পুতুল নিয়ে ওরা বউ খেলায় মেতে থাকত। ছোট হাঁড়িতে বালি দিয়ে রান্না চড়াত। মিছেমিছি খাবারের ভান করত। ওদের মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি। পুতুলের একদিন আঙুল কেটে গিয়েছিল, বিউটি তো কেঁদেই অস্থির। ছোটবেলায় পুতুল ওর বাবার গামছাকে শাড়ি হিসাবে পরত। ওর শখ দেখে ওর বাবা একটি ছোট্ট লাল শাড়ি এনে দেয়। ওটা ও পরত। আমরা ওকে তখন বলতাম লাল টুকটুকে বউ। বিউটি যখন পড়তে বসত, পুতুলও বিউটির কাছে গিয়ে বসত। বিউটির সঙ্গে সেও পদ্য মুখস্থ করত। ওর বাবা বাসায় এলে পদ্য মুখস্থ শুনাত। ওর বাবা বলত, আমার ওই মেয়েটি বিদ্বান হবে। বইয়ের ছবি দেখতে পুতুল পাগল ছিল। নতুন বই আনলেই উলটে-পালটে ছবি দেখত।

ওর বয়স তখন চার। রোজার দিন। আমরা সবাই রোজা রাখছি। সেও রোজা রাখতে প্রতিদিন কান্নাকাটি করত। আমরা বলতাম ছোট মানুষের রোজা এমনিতেই হয়। কিন্তু সে মানত না। পুতুল ‘রোজা রাখব’ বলতে পারত না। বলত ‘আম্মা আমি আজ রোজা খাব’। একদিন তো সে একটি রোজা রেখেই দিল। অনেক চেষ্টা করেও আমরা রোজা ভাঙাতে পারিনি। আমার সঙ্গে নামাজের বিছানায় নামাজও পড়ত। ওর বাবা এবং আমি ওকে মুখে মুখে কলমা শিখিয়েছি। অবশ্য একটু বড় হলে মৌলানা সাহেব রেখে আমরা ওদের নামাজ ও কলমা-কালাম শিখিয়েছি। শবে বরাতের দিন ফকির-মিসকিনদের পুতুল হালুয়া রুটি বিলিয়ে দিত। রাতে আমাদের সঙ্গে নামাজ পড়ত। ঈদের দিনে নতুন কাপড় পরে খুব মজা করত। ছোটবেলা থেকেই পুতুলের তেমন চাহিদা নেই। অন্যের নতুন জামা-কাপড় দেখে ও কিনে দেয়ার জন্য বায়না ধরত না। ছোটবেলায় পুতুল গান করেছে, নাচ করেছে। ওর জন্য নাচের মাস্টার রেখেছিলাম। বাসায় ও নাচ করেছে। অবশ্য একটু বড় হলে আর নাচে উৎসাহিত করিনি।

পুতুলকে ওর বাবা পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি করে দেন। প্রথম দিন স্কুলে গিয়ে তো সে খুব খুশি। স্কুল থেকে এসে নানান গল্প করল। স্কুলের অন্য ছেলেমেয়েরা কী বলেছে, স্যার কী বলেছেন, স্যারটি কেমন—আরো কত কি! খেলাধুলা সে খুব পছন্দ করত। মিশন স্কুল থেকে ওকে দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি করা হল। স্কুলে লেখাপড়ার পাশাপাশি নানা খেলাধুলায় সে মেতে থাকত। দৌড়, লং জাম্প, মিউজিক্যাল চেয়ার, যেমন খুশি তেমন সাজো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুতুল অংশ নিত। খেলাধুলায় বরাবরই সে প্রথম হয়েছে এবং পুরস্কার পেয়েছে। পাড়ায়ও সে খেলাধুলা করত। আমার বোন থাকত পাশের বাসায়। বোনের ছেলে-মেয়ে ছিল বারো জন। পুতুল ও বিউটি ওদের সঙ্গেই খেলত। কানামাছি, এক্কা দোক্কা, লুডু, কোম সে খেলত। কারো মধ্যে কোনোদিন ঝগড়া হয়নি।

আমার ছেলে সাঈদ ও শামীম জন্ম নেয়ার পর পুতুল সব সময় ওদের যত্ন নিত। সাঈদকে কাপড় পরানো, শামীমকে গোসল করানো এগুলো পুতুলই করত। ওদেরকে গান গেয়ে ও গল্প বলে জমিয়ে রাখত। এছাড়া সব সময় ওদের পোশাক পরিয়ে টিপটপ রাখত। ছোটবেলা থেকেই পুতুলের সঞ্চয়ের প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল। টাকা-পয়সা পেলেই রেখে দিত। প্রয়োজন না হলে খরচ করত না। ওর বাবা ওকে টাকা দিতেন। ও জমা করে রাখত। আমার অন্য মেয়েরা ওকে এ বলে ক্ষ্যাপাত যে, ‘তোর শ্বশুরবাড়ি গেলে তুই কিপটেমি করে ভালো কিছু খাওয়াবি না।’ পুতুল হাসত। ভাল জিনিস খাওয়ার প্রতিও ওর ঝোঁক ছিল। খুব হালকা- পাতলা গড়ন ছিল কৈশোরে। মাছ একেবারেই খেত না। মাংস ছিল তার পছন্দ। তরিতরকারির মধ্যে আলু ও ঢেঁড়স পছন্দ করত। দিলরুবা নামে ওর একজন বান্ধবী ছিল। ওর সঙ্গে পুতুল গল্প করত। সে ফুল কুড়িয়ে এনে বাসায় মালা গেঁথে ছোট ভাইদের দিত। ফুলদানিতে ফুল রাখত, ঘর সাজাত। ওর বাবা বলত— মেয়েদের সব কাজ শিখিয়ে রাখা ভাল। ফলে আমার বড় মেয়ে চকলেট, সেজো মেয়ে বিউটি ও পুতুলকে আমরা সব ধরনের রান্না-বান্না ও অন্যান্য কাজ করতে শিখিয়েছি। পুতুল সব রান্না জানে। কৈশোরে ওদের পালা করে রান্না করতে দিতাম। এভাবেই ওরা রান্না শিখেছে।

পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতাও যাচ্ছে বিজেপির দখলে, এনডিটিভির খবর
  • ০৪ মে ২০২৬
তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচন: চমক দেখাচ্ছেন তামিল অভিনেতা বি…
  • ০৪ মে ২০২৬
নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি, পশ্চিমবঙ্গের মসনদ হারাচ…
  • ০৪ মে ২০২৬
২৩৩ আসনের ফল প্রকাশ, বিজেপি-তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
  • ০৪ মে ২০২৬
দেশে এলো যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার…
  • ০৪ মে ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন: ১৬৯ আসনের ফল প্রকাশ, এগিয়ে …
  • ০৪ মে ২০২৬