এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
কুমিল্লার একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর জান্নাতুল ফারজানা। ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত এ শিক্ষক ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে যোগদান করেছেন। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় তার সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদানের দিন থেকে বেতন পেলেও ফারজানার বেতন ধরা হচ্ছে ডিসেম্বর থেকে। অর্থাৎ যোগদানের চার মাস পর থেকে তিনি বেতন পাচ্ছেন।
জান্নাতুল ফারজানা আক্ষেপ করে বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশায় অনেক সম্মান থাকে এটা জেনে এ পেশায় এসেছিলাম, কিন্তু এসে দেখলাম এখানে অর্থনৈতিক কোনো সম্মান নেই। যোগদানের পর ধার-দেনা করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। বকেয়া বেতন না পাওয়ায় এই ধার পরিশোধ করতে পারছি না। আমি আমার বকেয়া বেতন চাই।’
নড়াইল সদরের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক হিসেবে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশ পেয়েছেন প্রভাষক আবুল হাশেম। তার ভাষ্য, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা যোগদানের দিন থেকে বেতন পাচ্ছেন। তবে কারিগরি অধিদপ্তরের শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার। আমরা যোগদানের দিন থেকে বেতন চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
শুধু এই দুই শিক্ষকই নয়; ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তিতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদান করা প্রায় এক হাজার ১০০ শিক্ষক যোগদানের দিন থেকে বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও তাদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অধিদপ্তর। এর ফলে চরম বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে তাদের।
আরও পড়ুন: আজ থেকে স্কুলে তিন দিনের ছুটি শুরু, দুদিন ক্লাস চলবে মাদ্রাসায়
শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপারিশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় তাদের বেতন দেওয়া হয়নি। অথচ একই সময়ে সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য শিক্ষকরা যোগদানের দিন থেকেই নিয়মিত বেতনভাতা পাচ্ছেন। এতে করে স্পষ্টতই বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে তাদের। এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষক হিসেবে তাদের জন্য চরম হতাশাজনক ও অনাকাক্সিক্ষত।
তাদের দাবি, বিএনপি সরকার যেন এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত তাদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। এটি সমাধান না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করি। শিক্ষকদের বিষয়টি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে আলোচবা করা হবে। আলোচনায় মন্ত্রণালয় যেভাবে নির্দেশনা দেবে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’