বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অডিট বিষয়ে ত্রি-পক্ষীয় সভা © সংগৃহীত
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দুদিন ব্যাপী অডিট বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রি-পক্ষীয় সভা শুরু হয়েছে। সভায় সঠিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ সুশাসন নিশ্চিতকরণে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে অডিট বিষয়ক দুই দিনব্যাপী ত্রি-পক্ষীয় সভা শুরু হয়।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অডিট) মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। এতে সঞ্চালনা করেন পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে অডিট কার্যক্রমের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা সংক্রান্ত ঝুঁকি হ্রাসে অডিট বিষয়ক এ ধরণের সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অডিট কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, যথাযথ অডিটের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কার্যক্রমকে সু-শৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণে বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এই সভা যৌক্তিক ও বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গিও মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে অডিট আপত্তিসমূহ নিষ্পত্তিকরণেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সভার শুরুতে স্বাস্থ্য ও পরিবার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (আর্থিক ব্যবস্থাপনা অধিশাখা) আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. গোলাম রহমান, বিএমইউর উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল, স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হাসান নাজমুল কবীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. গোলাম রহমান বলেন, আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধ, আর্থিক বিষয়সমূহ পর্যালোচনা, আপত্তিসমূহ নিষ্পতিকরণসহ সুশাসন নিশ্চিতকরণে অডিট কার্যক্রম বিরাট অবদান রাখছে। প্রজাতন্ত্রের সরকারি আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করা অডিটের আওতাভুক্ত। এর মূল লক্ষ্য হলো সরকারি অর্থ ব্যয় কার্যক্রম যেন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়। এর সাথে সাথে আর্থিক ব্যবহারের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা শিক্ষা, সেবা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএমইউ তথা এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবহারে স্বচ্ছতা থাকবে ও যথাযথ বিধি বিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হবে সেটাই কাম্য। যাথাযথ নিয়ম-নীতি মেনে এই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক কার্যক্রম গতিশীল করার মাধ্যমে দেশে একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত হউক সেটাই জাতি প্রত্যাশা করে।
ত্রি-পক্ষীয় সভায় বিএমইউ প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইরতেকা রহমান, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) খন্দকার শফিকুল হাসান রতন, চীফ এস্টেট অফিসার ডা. এহেতাশামুল হক তুহিন, পরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপা বিভাগ) মো. মাসুদ রানা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (অডিট) নাজমা সিদ্দিকা বেগম, উপ-সচিব (অডিট) মোসা. শারমিন আক্তার, বিএমইউর অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ডা. সাইফ উদ্দিন নিসার আহমেদ, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল পাশা, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. হাসনাত আহসান, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. নাছির উদ্দিন ভূঁঞা, অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ বদরুল হুদা, স্বাস্থ্য অডিট দপ্তরের উপ-পরিচালক তানজিনা আফরিন, উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সহকারী পরিচালক মো. আবু নাজির, স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আহসান হাবীব, অডিট অ্যান্ড একাউন্টস অফিসার মো. গোলাম মাহমুদ, বিএমইউর অডিট অ্যান্ড একাউন্টস অফিসার মো. আব্দুল মতিন, অডিট অ্যান্ড একাউন্টস অফিসার তাজকিয়া হোসেন, অডিট অফিসার সোমাইয়া সরকার স্বর্ণা প্রমুখ।