বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস © সংগৃহীত
বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহর হাউজিং এস্টেট এলাকায় বেসরকারি মালিকানাধীন একটি ভাড়া ভবনে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একই এলাকায় আরও একটি বহুতল ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬ পাস হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। এর আগে ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাস হলেও দীর্ঘদিন তা কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহানকে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপশহর এলাকায় একটি দ্বিতল ভবন ভাড়া নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণে আইন সংশোধন করে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০২৬ পাস করা হয়। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী অবকাঠামোগত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই অস্থায়ীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য উপশহর এলাকায় একটি বহুতল ভবন ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় করে ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। কোন কোন বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, সে বিষয়ে ইউজিসির অনুমোদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর লক্ষ্য রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. মোস্তফা ফয়সাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও ক্লাস-পরীক্ষা শুরুর প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কোন কোন বিভাগে কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে ইউজিসির অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।’ স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এখনো কোনো জায়গা চূড়ান্ত হয়নি।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্য স্থান হিসেবে শাজাহানপুর উপজেলার ৯ মাইল জামালপুর, বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া এবং শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এসবের কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।