বগুড়া জিলা স্কুলের ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরির দল ‘দ্য ট্রায়াঙ্গুলার ইনইকুয়ালিটি’। © টিডিসি ছবি
দেশের সবচেয়ে বড় দলভিত্তিক গণিত প্রতিযোগিতা বাংলার ম্যাথ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ (বিএমটিসি) ২০২৬-এর জাতীয় পর্বে গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া জিলা স্কুলের ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরির দল ‘দ্য ট্রায়াঙ্গুলার ইনইকুয়ালিটি’। তিনটি ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা শেষে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে দলটি ‘জামাল নজরুল ইসলাম মেমোরিয়াল’ পুরস্কার অর্জন করে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৫২ জেলা থেকে ১৫০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
জাতীয় পর্বে দলগত ও এককভাবে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পুরস্কার লাভ করে। এবারের আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, ভেন্যু পার্টনার ছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং গিফট পার্টনার ছিল বিজ্ঞান বাক্স।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, দলগত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
সকালে রেজিস্ট্রেশন শেষে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা পর্ব শুরু হয়। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত একক ও দলগত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নামাজ ও দুপুরের খাবারের বিরতির পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ১০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। প্যানেলিস্টরা এসব প্রশ্নের উত্তর দেন।
এরপর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে শুরু হয় বিশেষ সেমিনার। এতে বক্তব্য দেন দেশের অন্যতম খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ। স্বাগত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. সুলতানা রাজিয়া।
সেমিনারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক ও লিংক থ্রি টেকনোলজিস লিমিটেডের এআই বিজনেস ট্রান্সফরমেশনের পরিচালক রকিবুল হাসান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এসিআইয়ের অদম্য মেধাবী প্রোগ্রামের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহ আলম এবং ট্যালি খাতার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহাদাত হোসাইন।
বিএমটিসি ২০২৬-এর জাতীয় পর্বের কনভেনার আহমেদ শাহরিয়ার শুভ বলেন, ‘BMTC-এর লক্ষ্য শুধু গণিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করা নয়; শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করা এবং তাদের চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ানো। ৫২টি জেলা থেকে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।’
বাংলার ম্যাথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাহতাব হোসাইন বলেন, ‘BMTC শিক্ষার্থীদের এককভাবে নিজেদের দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি দলগতভাবে সমস্যা সমাধানের সুযোগ তৈরি করছে। আমরা চাই, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গণিত শিখবে, নতুন বন্ধু তৈরি করবে এবং গণিত নিয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখবে।’
অন্য সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশরাফুল আশ শাকুর বলেন, ‘এবারের জাতীয় পর্বে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি প্রশ্নোত্তর ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের অভিজ্ঞ গণিতবিদ ও বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পায়। ভবিষ্যতে BMTC-কে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
এর আগে বিএমটিসি ২০২৬-এর সিলেকশন রাউন্ড অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সিলেকশন রাউন্ডে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে জাতীয় পর্বের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এবারের জাতীয় পর্ব গণিতচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে গণিতকে আনন্দময় ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে চর্চার সুযোগ তৈরি হবে।
জাতীয় পর্বের বিজয়ীদের মধ্য থেকে টিম সিলেকশন টেস্টের মাধ্যমে নির্বাচিত দল আগামী ডিসেম্বরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ম্যাথমেটিক্যাল টিম চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউএমটিসি) ২০২৬-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।