আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্পটলাইটে বাংলাদেশের শ্রেয়া ঘোষ

০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ PM , আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫০ PM
শ্রেয়া ঘোষ

শ্রেয়া ঘোষ © সংগৃহীত

স্কুলজীবনে নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু। সেই পথ ধরেই আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তরুণ নেতৃত্ব শ্রেয়া ঘোষ। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক তরুণ সংগঠন ‘State of Youth’-এর আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ স্পটলাইটে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী মেরি কুরি, মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো বিশ্বখ্যাত নারীদের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের এই তরুণীর নাম।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার সংশ্লিষ্ট State of Youth-এর সাত সদস্যের Youth Board-এ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেয়া ঘোষ। এ অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নীলফামারিতে বেড়ে ওঠা শ্রেয়া ঘোষের নেতৃত্বের সূচনা স্কুলজীবন থেকেই। জেলার সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাজীবনের উজ্জ্বল পথচলা শুরু হয়। পরে তিনি ঢাকার শহীদ বীর উত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং একাধিক মেধাবৃত্তি অর্জন করেন। ছোটোবেলা থেকেই নেতৃত্ব, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় শ্রেয়া স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আঞ্চলিক, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

শ্রেয়ার ঝুলিতে রয়েছে দুশোর বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ৫০টিরও বেশি সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে বহুমাত্রিক নেতৃত্বের দক্ষতা। বিতর্কে ১৪ বার জাতীয় পুরস্কার অর্জনের পাশাপাশি পাবলিক স্পিকিংয়েও তিনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রশংসা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় ৪৪ হাজার তরুণ-তরুণীর একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সামাজিক, শিক্ষামূলক ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

শ্রেয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘আলোর সন্ধানী’ এবং ‘Shreya's Learning Classroom’ উদ্যোগের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মতে, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম ভিত্তি।

মেনস্ট্রুয়াল হেলথ বিষয়ে সমাজের প্রচলিত ট্যাবু ভাঙতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন শ্রেয়া। নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি ৪৪টি গ্রামে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও প্রশংসিত হয়েছে।

গবেষণা, লেখালেখি, বিতর্ক, আবৃত্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তাচর্চায় সমানভাবে সক্রিয় শ্রেয়া। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই তার লেখা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা ও নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তাকে স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দিয়েছে।

উত্তরের একটি জেলা থেকে আন্তর্জাতিক ইয়ুথ বোর্ডে জায়গা করে নিয়ে শ্রেয়া ঘোষ দেখিয়েছেন, স্বপ্ন, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের সমন্বয় থাকলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তার এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও দৃশ্যমান করেছে।

সাবেক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্পটলাইটে বাংলাদেশের শ্রেয়া ঘোষ
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুর সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
ধর্ষণ মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া গ্রেপ্তার
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
মাদক সেবনের সময় ৩ যুবক আটক, গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে কত দিন খেলবেন মেসি—জানালেন তাপিয়া
  • ০৭ আগস্ট ২০২৬