পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসুত্র, গবেষণা যা বলছে 

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পাকার বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও এর পেছনে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিওর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের গবেষকেরা বলছেন, ডিএনএতে গুরুতর ক্ষতি হওয়া কিছু মেলানোসাইট স্টেম সেল ক্যানসারে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের স্টেম সেল অবস্থান ত্যাগ করে। এর ফলে চুলের রং তৈরির ক্ষমতা কমে গিয়ে চুল ধূসর বা সাদা হতে পারে।

গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে Nature Cell Biology জার্নালে। গবেষকেরা মনে করছেন, চুল পাকার এই প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে। তবে চুল পাকলে ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়—এমন কোনো দাবি গবেষণায় করা হয়নি।

চুলের রং তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে মেলানোসাইট স্টেম সেল। চুলের ফলিকলের গভীরে থাকা এসব কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী মেলানোসাইট নামের রঞ্জক কোষ তৈরি করে। মেলানোসাইটই চুল ও ত্বকের রং নির্ধারণ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে গুরুতর ক্ষতি হলে, বিশেষ করে ডিএনএর দুই প্রান্তে ভাঙন তৈরি হলে, কোষগুলো ‘সেনো-ডিফারেনশিয়েশন’ নামে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল দ্রুত পূর্ণাঙ্গ রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে আর স্টেম সেল হিসেবে ফিরে আসে না।

এর ফলে চুলের ফলিকলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির মজুত ধীরে ধীরে কমে যায়। ফল হিসেবে চুল ধূসর বা সাদা হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ একটি সাদা চুলের পেছনে শুধু বয়স বাড়ার প্রভাব নয়, ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণ করার শরীরের একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়াও ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষকেরা ইঁদুরের মেলানোসাইট স্টেম সেলকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির মতো ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আনেন। এতে দেখা যায়, সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির পর কোষ একই পরিণতির দিকে যায় না।

কিছু ক্ষেত্রে আশপাশের টিস্যু থেকে আসা সংকেত ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেলকে বিভাজিত হয়ে সংখ্যা বাড়াতে উৎসাহিত করে। ফলে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও কোষগুলো টিকে থাকতে পারে এবং ক্রমাগত বিভাজিত হতে পারে। গবেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

গবেষকেরা এই দুই ধরনের পরিণতিকে ‘অ্যান্টাগোনিস্টিক ফেটস’ বা পরস্পরবিরোধী পরিণতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ একই ধরনের স্টেম সেল ক্ষতির ধরন এবং আশপাশের পরিবেশের সংকেতের ওপর নির্ভর করে একদিকে চুল পাকার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, অন্যদিকে টিকে থেকে বিভাজনের মাধ্যমে ক্যানসার তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতির পরিমাণ জমতে থাকে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ শনাক্ত, মেরামত বা অপসারণের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসে। নতুন গবেষণাটি চুল পাকা ও মেলানোমার মতো রোগের পেছনে থাকা কিছু অভিন্ন কোষীয় প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সূত্র দিতে পারে।

তবে গবেষণার ফলাফলকে মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রয়োগ করার সুযোগ এখনই নেই। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং ইঁদুর ও মানুষের জীববিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য, জীবনযাপন ও পরিবেশগত বিভিন্ন কারণও এ ধরনের কোষীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুল পাকার প্রক্রিয়া এবং মানুষের মেলানোমার ঝুঁকির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

মিরসরাইয়ে অগ্নি দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের যোগসুত্র, গবেষণা যা বলছে 
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশের ইউএনওদের মীর শাহে আলমের সতর্কবার্তা
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমেদের সমন্বয় ছাড়া ৩৬ দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান …
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই ভর্তি কার্যক্রম শুর…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রতি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হবে: ক্রীড়া প্রত…
  • ০৩ অক্টোবর ২০২৬