প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এমন ক্যানসারের চিকিৎসা খুঁজে বের করবে, যা মানুষের পক্ষে নিজেদের জীবদ্দশায় আবিষ্কার করা সম্ভব নয়—এমনটাই মনে করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ নির্বাহী। খবর বিবিসির
কেমব্রিজভিত্তিক চিপ ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেনে হাস বলেছেন, ক্যানসার কীভাবে ডিএনএর কোনো নির্দিষ্ট মার্কারকে প্রভাবিত করে, তা মডেল করা বর্তমানে অত্যন্ত জটিল একটি সমস্যা। তবে ভবিষ্যতে কম্পিউটার এই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।
সাক্ষাৎকারে হাস আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআইয়ের ব্যাপক অগ্রগতির ফলে মানুষের আকৃতির রোবট বা হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে বর্তমানে এআইয়ের দ্রুত বিকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডেটা সেন্টার তৈরিতে প্রয়োজনীয় চিপের ঘাটতি।
আর্ম মাইক্রোচিপের মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করা সিপিইউয়ের নকশা তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটির নকশা করা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় বিশ্বজুড়ে শত শত কোটি স্মার্টফোন, গাড়ি, স্মার্টওয়াচসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রে। এআই-নির্ভর প্রযুক্তির উত্থানের মধ্যে চলতি গ্রীষ্মে আর্মের শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। নগদ বাজারমূল্যের হিসাবে তখন প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানিতে পরিণত হয়।
‘বিগ বস ইন্টারভিউ’ পডকাস্টে হাস আরও বলেন, ‘এআই এমন ক্যানসারের চিকিৎসা খুঁজে বের করবে, যা আজ আপনি, আমি বা অন্য কোনো মানুষ আমাদের জীবদ্দশায় খুঁজে বের করতে পারব না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জীবদ্দশায় ক্যানসার নিরাময়ে এআই সহায়তা করবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি কোষের মডেল তৈরি করা, একজন মানুষের মডেল তৈরি করা, ক্যানসার কীভাবে ডিএনএর কোনো মার্কারকে প্রভাবিত করে তা মডেল করা—এগুলো শুধু আজকের মানুষের জন্যই নয়, এআই চালানোর কম্পিউটারের জন্যও অত্যন্ত জটিল একটি সমস্যা। তবে সামনে যখন আমরা এসব কম্পিউটারে আরও বেশি বেশি মডেল যুক্ত করব এবং সেগুলো চালানোর জন্য কম্পিউটারগুলো আরও উন্নত হবে, তখন তারা এর সমাধান করতে সক্ষম হবে।’
হাস জাপানভিত্তিক সফটব্যাংকের সঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। সফটব্যাংক আর্মের প্রধান মালিক। প্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বিনিয়োগ রয়েছে, যার মধ্যে এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইও রয়েছে। হাস গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী জায়ান্ট অ্যাস্ট্রাজেনেকার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
এ বিষয়ে লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের অধ্যাপক ক্রিস বাকাল বলেন, এখন প্রশ্ন আর এআই ব্যবহার করা হবে কি না তা নয়; বরং প্রশ্ন হলো, এআইকে কী ধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাগারে রোগীদের নমুনা থেকে নিজেদের তৈরি করা তথ্য দিয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
অধ্যাপক বাকাল আরও বলেন, ‘এগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা তথ্য নয়। এগুলো চালাতে বিশাল কোনো ডেটা সেন্টারেরও প্রয়োজন নেই। চিকিৎসাক্ষেত্রে এআইয়ের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বড় কম্পিউটার তৈরি করবে যে প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকবে, তা নয়। বরং সঠিক পরিমাপ বা তথ্য যার হাতে থাকবে, ভবিষ্যৎ তাদেরই।’