ওজন কমানোর জন্য সঠিক খাদ্যাভাস থাকা জরুরি © এআই সৃষ্ট ছবি
ওজন কমানোর কথা ভাবলেই অনেকে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে ক্যালরি হিসাব করা শুরু করেন। কিন্তু কেবল মেপে মেপে কম খাওয়া মানেই ওজন কমা নয়। ক্যালরি কমানোর পাশাপাশি আপনি প্রতিদিনের পাতে ঠিক কী ধরনের খাবার রাখছেন, সেদিকে খেয়াল রাখা সমান জরুরি।
সম্প্রতি আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাময়িকী ‘জামা নেটওয়ার্ক ওপেন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু ক্যালরি কমিয়ে ওজন কমানো আর ফল, সবজি, লাল আটার মতো পূর্ণ শস্য, বাদাম ও স্বাস্থ্যকর চর্বিসমৃদ্ধ ‘মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট’ বা ভূমধ্যসাগরীয় খাবার খেয়ে ওজন কমানোর হার প্রায় একই। তবে যারা পুষ্টিকর ভূমধ্যসাগরীয় খাবার খেয়েছেন, তাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ৩৬০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর টানা দুই বছর ধরে এই গবেষণা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকেরই ওজন ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি (বিএমআই ৩০ বা তার ওপরে) এবং গড় বয়স ছিল ৫৫ বছর। তাদের অনেকেরই ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ ছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। ১৮২ জনকে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস, যেখানে ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য, বাদাম ও উদ্ভিজ্জ তেলের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম খেতে বলা হয়। অন্যদিকে, বাকি ১৭৮ জনকে ক্যালরি কমানোর ওপর জোর দেওয়া একটি সাধারণ ওজন কমানোর কর্মসূচিতে রাখা হয়।
টানা ২৪ মাস ধরে অংশগ্রহণকারীদের চার, ১২ ও ২৪ মাসের ব্যবধানে মূল্যায়ন করা হয়। দীর্ঘ ২ বছর শেষে দেখা যায়, দুই দলেরই গড়ে প্রায় সমান ওজন কমেছে। ভূমধ্যসাগরীয় খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের গড় ওজন কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ক্যালরি-কেন্দ্রিক দলের কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
আরও খবর: গবেষণার সুবিধায় শিক্ষার্থীদের ৭৫০টি টার্নিটিন অ্যাকাউন্ট দেবে জাবিপ্রবি
তফাতটা ধরা পড়ে খাবারের মান ও পুষ্টিগুণে। ভূমধ্যসাগরীয় খাবার খাওয়া দলটি নিয়মিত শাকসবজি, ফল, বাদাম ও ভালো তেল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পেরেছিল। শুধু তা-ই নয়, এই দলের ৯৫ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন যে, তারা অন্যদেরও এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেবেন। অন্যদিকে শুধু ক্যালরি মেপে খাওয়া দলের মাত্র ৬৮ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতির ওপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম খেলে সাধারণত ওজন কমে, এটা সত্যি। কিন্তু ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিন কার্কপ্যাট্রিকের মতে, কষ্ট করে কম খেয়ে ওজন কমালেও দীর্ঘদিন সেই ওজন ধরে রাখা বেশ কঠিন। কিন্তু খাবারের গুণগত মান ঠিক রেখে খেলে ওজন কমানোর পাশাপাশি রক্তে শর্করা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে, হার্ট ভালো থাকে এবং শরীর সহজে ক্লান্ত হয় না।
গবেষক ও পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ক্যালরি কমানো একেবারে ফেলনা নয়। তবে আপনি ‘কতটা’ খাচ্ছেন, তার চেয়ে ‘কী’ খাচ্ছেন সেটির দিকে নজর দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য অনেক বেশি কার্যকর। (সূত্র: হেল্থলাইন)