হোয়াটসঅ্যাপ © সংগৃহীত
ব্যক্তিগত কথোপকথন থেকে শুরু করে ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি কিংবা নানা ধরনের সংবেদনশীল তথ্য প্রতিদিন আমরা হোয়াটসঅ্যাপে আদান-প্রদান করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় সামান্য অসাবধানতার কারণে এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়।
বার্তা সুরক্ষিত রাখতে হোয়াটসঅ্যাপে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ সুবিধা থাকলেও অ্যাকাউন্ট ও ব্যক্তিগত চ্যাটের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে তিনটি বিশেষ ফিচার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। চ্যাট লক, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ব্যাকআপ চালু রেখে কীভাবে নিরাপদ থাকবেন, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যক্তিগত চ্যাটে চালু করুন ‘চ্যাট লক’
ফোন অন্য কারও হাতে গেলেও ব্যক্তিগত কথোপকথন যাতে কেউ দেখতে না পায়, সেজন্য রয়েছে ‘চ্যাট লক’ সুবিধা। কোনো চ্যাট লক করলে সেটি সাধারণ চ্যাট তালিকা থেকে আলাদা একটি সুরক্ষিত ফোল্ডারে চলে যায়। ওই চ্যাটে প্রবেশ করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি বা পাসকোডের প্রয়োজন হয়।
কীভাবে করবেন
যে চ্যাটটি লক করতে চান, সেখানে প্রবেশ করে প্রোফাইল বা চ্যাট ইনফোতে (Chat Info) যান। ‘Chat Lock’ অপশনটি চালু করে দিন। চাইলে ‘Secret Code’ সুবিধাও ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে লক করা চ্যাটের ফোল্ডারটি সাধারণ তালিকা থেকে সম্পূর্ণ আড়াল করে রাখা যায়। পরবর্তীতে নির্ধারিত গোপন কোডটি দিয়ে সার্চ করলে তবেই লুকানো চ্যাটটি দেখা যাবে।
২. অ্যাকাউন্টে চালু রাখুন ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’
শুধু চ্যাট লক করাই যথেষ্ট নয়, পুরো অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ (Two-Step Verification) চালু রাখা আবশ্যক। এটি চালু থাকলে নতুন কোনো ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট লগইন করার সময় এসএমএস কোডের পাশাপাশি একটি সিকিউরিটি পিন দিতে হয়।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটানো-সুবিধাভোগী ৪৯ শিক্ষা ক্যাডারের তালিকা প্রস্তুত, হতে পারে শাস্তি
কীভাবে করবেন
হোয়াটসঅ্যাপের Settings → Account → Two-step verification-এ গিয়ে এটি চালু করুন। এখানে ৬ ডিজিটের একটি গোপন পিন (PIN) সেট করুন এবং নিজের ই-মেইল ঠিকানা যুক্ত করে রাখুন। এতে পিন ভুলে গেলেও অ্যাকাউন্ট রিকভার করা সহজ হবে। খেয়াল রাখবেন, হোয়াটসঅ্যাপের রেজিস্ট্রেশন কোড বা সিকিউরিটি পিন কখনো শেয়ার করবেন না।
৩. চ্যাট ব্যাকআপেও দিন বাড়তি এনক্রিপশন
অনেকে ফোনের চ্যাট সুরক্ষিত রাখলেও ক্লাউডে (গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড) থাকা ব্যাকআপের নিরাপত্তার বিষয়টি এড়িয়ে যান। সাইবার সুরক্ষায় চ্যাট ব্যাকআপও এনক্রিপ্ট করে রাখা উচিত।
কীভাবে করবেন: Settings→Chats→Chat Backup→End-to-End Encrypted Backup অপশনে যান। ফিচারটি চালু করে পাসকি (Passkey), পাসওয়ার্ড বা ৬৪ সংখ্যার এনক্রিপশন কি (Encryption Key) দিয়ে ব্যাকআপটি সুরক্ষিত করুন।
নিরাপদ থাকতে অতিরিক্ত যেসব বিষয় মেনে চলবেন: হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, স্মার্টফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক বা বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি নিশ্চিত করা, অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো বার্তা ও লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা। এসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন।