অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ © টিডিসি ফটো
১৯৫৪ সালে জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার এক অজপাড়াগাঁ হারিয়াবাড়ী গ্রামে জন্ম নেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনিই একদিন দেশের চিকিৎসা জগতে অন্যতম এক নাম হয়ে উঠবেন, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেননি। স্থানীয় হারিয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর নেকজাহান উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে।
১৯৭৮ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পর গ্রামের মানুষকে সেবার মাধ্যমে শুরু হয় কর্মজীবন। এরপর সরকারি চাকরিতে যোগদান, সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরি এবং পরবর্তীতে লন্ডনের বিখ্যাত ‘রয়েল কলেজ অব ফিজিশিয়ানস’ থেকে সম্মানজনক এমআরসিপি ডিগ্রি অর্জন। বিদেশে লাখ টাকা বেতনের হাতছানি উপেক্ষা করে দেশের টানে ফিরেও আসেন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।
১৯৯৫ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে হয়েছেন অধ্যাপক ও ডিন। চিকিৎসা শিক্ষায় তাঁর লেখা ‘শর্ব কেসেস ইন ক্লিনিক্যাল মেডিসিন’, ‘ইসিজি অব মেডিক্যাল প্র্যাকটিস’সহ সাতটি আন্তর্জাতিক মানের মেডিকেল বই ভারত, পাকিস্তান, ব্রিটেন ও আরব বিশ্বে পড়ানো হয়। গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে পেয়েছেন একুশে পদক। এ ছাড়া ২০১৩ সালে ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড এবং ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ পান।
২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয়ভাবে পূর্ণ সচিব পদমর্যাদায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। দীর্ঘ ৫০ বছরের চিকিৎসা ও শিক্ষকতা জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রথমে ২ বছর মেয়াদে ‘ইমেরিটাস অধ্যাপক’ পদবীতে ভূষিত করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের ৯২তম বাজেট অধিবেশন সভায় পূর্বের অধ্যাদেশ সংশোধন করে তাকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন নিয়োগটি চূড়ান্তভাবে বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১৩ জুন অনুষ্ঠিত বিএমইউ সিন্ডিকেটের ৮৯তম সভায় নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আলোকে পরবর্তীতে ২৫ জুন (২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ বা প্রজ্ঞাপনে তাঁর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক পদটি চূড়ান্তভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
একই সাথে, ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ইমেরিটাস পদের বিপরীতে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর উত্তোলন করা সব বেতন ও অন্যান্য ভাতাদি অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত এবং তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমসাময়িক নানা বিতর্ক নিয়ে ‘দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস’র মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন আতিকুর রহমান বাবু।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ জুন সিন্ডিকেটের সভায় বিধি-বহির্ভূত ও আলোচ্যসূচির বাইরে গিয়ে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবন মেয়াদে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা আইন পরিপন্থী হওয়ায় বাতিল করা হলো এবং টাকা ফেরত চাওয়া হলো।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আপনার ইমেরিটাস পদটি বাতিল করে বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: প্রথম কথা হলো তারা যে আমার ইমেরিটাস অধ্যাপক পদের বিষয়টি বাতিল করেছে এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেছে, এটা সম্পূর্ণ একটা অন্যায়, অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটা তারা কেন করছে, তারাই বলতে পারবে। আমি মনে করি এটা অন্যায়ভাবে তারা করছে। কারণ ইমেরিটাস অধ্যাপক সাধারণত এটা আজীবনের জন্য হয়। এটা বাতিল করার আবার কতগুলো ক্রাইটেরিয়া আছে।
তারা একটি খোড়া যুক্তি দেখিয়েছে যে, ওই সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া নাকি সঠিক হয়নি। একজনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এটাকে করা হয়েছে, এটাই তারা বলতে চাচ্ছে। আসলে কথাটা কিন্তু মোটেই সত্য নয়। কারণ ইমেরিটাস অধ্যাপক হতে গেলে কতগুলো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। আমার বেলায় পাঁচটা ধাপ কিন্তু পার করে এটা করা হয়েছে।
ধাপ বলতে আমার মেডিসিন যেহেতু, মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রপোজাল যায়। তারপর ডিনের একটা মতামত নেয়। এরপরে এক্সপার্ট কমিটি আছে, তাদের মতামত নেয়। পরে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল মতামত দেয়। তারপরে ফাইনালি সিন্ডিকেটে আসে—এই পাঁচটি ধাপ পার করেই কিন্তু আগের প্রশাসন আমাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ দিয়েছে।
তারা বলছে অন্যায় অভিযোগ করছে, এই অন্যায় তো আমি কোনও ভিত্তি পাচ্ছি না। কারণ তারা আগের যারা প্রশাসন, তারা কিন্তু নিয়ম-নীতি মেনেই স্টেপ বাই স্টেপ পাঁচটি ধাপ পার করেই আমাকে এটা করছে। সুতরাং তাদের তো যুক্তিটা আমি মানে অযৌক্তিক মনে করি।
ওই সময় নিয়োগ প্রক্রিয়া নাকি সঠিক হয়নি। একজনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এটাকে করা হয়েছে, এটাই তারা বলতে চাচ্ছে। আসলে কথাটা কিন্তু মোটেই সত্য নয়। কারণ ইমেরিটাস অধ্যাপক হতে গেলে কতগুলো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। আমার বেলায় পাঁচটা ধাপ কিন্তু পার করে এটা করা হয়েছে।
আরেকটা বিষয়ট হলো যে, তারা টাকা ফেরত চাইছে। এটা তো পারে না তারা, কেন চায়? দেখি এই যে টাকা ফেরত চাওয়া, এটি কি একটা যুক্তিসংগত ব্যাপার হলো নাকি? আমি টাকা কি জোর করে উঠিয়েছি? আগের প্রশাসন তো তারা নিয়ম-নীতির মাধ্যমেই এটা দিয়েছে। আর এটায় কিন্তু বেতন নেই। এটা একটা অনারিয়াম (সম্মানী)। তারাই অনারিয়াম দিয়েছে। এটা আমি তো তুলতেও যাই না। টাকা ক্যাশ দেয় নাকি চেক দেয়, এটা তো ব্যাংকে জমা হয়, তারাই দিয়েছে। এটা কি আমি তুলতে গেছি? তারা যে চেয়েছে, এটাও অন্যায়।
আবার তারা যে টাকার পরিমাণ বলছে, এটাও অন্যায়। কারণ আমি তো রিটায়ারমেন্টে গেছি। রিটায়ারমেন্টের পরে আমি তো পেনশন পাই। তারা করছে কি, পেনশনের টাকা যোগ করে এর সাথে কিছু যোগ করে ৭৮ হাজার টাকা দেখাচ্ছে। কারণ মেডিকেল অধ্যাপকের যে অনারিয়াম, এটার নিয়ম হলো একজন অধ্যাপকের সর্বোচ্চ যে বেতন, এটা বেসিক বেতন আমার পাওয়ার কথা। তাতে আমার ৭৮ হাজার টাকা হয়।
তারা করছে কি, আমার যে পেনশন আছে, এটা প্লাস যোগ করে বাকি টাকা যোগ করে বানিয়েছে। পেনশনের টাকা তো এর মধ্যে যোগ হবে না। এটা তো আলাদা, এটা কেন তারা করল? সুতরাং এটা দুইটা মিলে যে চাচ্ছে, এটা সম্পূর্ণ একটা অন্যায় কাজ করছে। এটা অবৈধ কাজ করছে। এটা তারা করতে পারেই না, এটা সম্ভব না। তাদের দুইটা কাজই আমি মনে করি অযৌক্তিক।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে আপনি কী ধরনের কারণ দেখছেন? আপনাকে কি কোনো নোটিশ দেওয়া হয়েছিল?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: এটা আমার ধারণা, তারা শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কাজটা করছে। কারণ আমার তো আরেকটা কথা বলতেই হয়, এটা তো ২০২৪ জুন থেকে কার্যকর হওয়া পদ তাই না? তো এই দুই বছর লাগলো কেন? এতদিন করলে তারা আগে করতে পারলো না? তারা করলে আরো আগে করতে পারতো, করে নাই কেন? এটাও কিন্তু আমার একটা জিজ্ঞাসা।
আরেকটা হলো যে, আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেয়নি। আমাকে এক্সপ্লেনেশন কল করতে পারতো যে, আপনার এগুলো অবৈধ, আমাকে জবাব চাইতো। আমার জবাবে তারা সন্তুষ্ট যদি না হতো, তাহলেও করতো। তাও তো করে না। একতরফাভাবে তাদের যা মনে ধরে, তাই করছে। এইটা তো মেনে নেওয়া যায় না।
আরেকটি কথা বলা হয়, আপনি নাকি দুই বছরের মতো হাসপাতালে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন না। এই বিষয়টিতে আপনার বক্তব্য কী?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: এই যে একটা মিথ্যা কথা যে বলল, দুই বছর তাহলে আমি কোথায় ছিলাম। দুই বছর আমি রেগুলার হাসপাতালে যেতাম। দুই-চার দিন হয়তো কাজে কর্মে থাকলে আমি যেতাম না। যেতাম আমি আমার কাজ করতে। আমি নিয়মিত লেখালেখি করি এবং দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হয়। মেডিকেল বিষয়ক লেখালেখি এবং আমার বই আছে।
বইয়ের কাজগুলো রেগুলার করছি। আমার সাতটি মেডিসিন রিলেটেড বই আছে এবং প্রত্যেকটি বই দিল্লি থেকে প্রকাশিত হয়। দুইটা বিখ্যাত যে পাবলিশার এলসিবিআর ওয়ার্ল্ডওয়াইড বিখ্যাত এটা ব্রিটিশ-আমেরিকান বা ব্রিটিশ-জার্মান কোম্পানি। আরেকটি হলো ইন্ডিয়ান একটা জেপি ব্রাদার্স, তারা কিন্তু দিল্লি থেকে প্রকাশ করে।
আমি রেগুলার বাংলায় লিখে জনগণকে স্বাস্থ্য সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে এবং এগুলো দৈনিক প্রথম শ্রেণির পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এগুলো কম্পাইল করে আমি তিনটি বাংলা বই কিন্তু করছি। আমার কিন্তু এখন মোট ১০টি বই আছে। সুতরাং তারা যে বলছে যায় না, এটা তো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি রেগুলার গেছি, এমনকি আমি শুক্রবারে গেছি। অনেকদিন আমার কাজের প্রয়োজনে। শুক্রবারে ওখানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে আমি কিন্তু জুমার নামাজ পড়ছি, আল্লাহ তাআলা কিন্তু সাক্ষী আছে। তারা যে মিথ্যা কথাটা বলল এটা তো সম্পূর্ণ অন্যায়। মাঝে আমি বিকেলে যেতাম, সন্ধ্যায় যেতাম, রাত ৮:০০-৯:০০টা পর্যন্ত কাজ করতাম, আমি কিন্তু রেগুলার গেছি।
আরেকটা পয়েন্ট বলতেই হবে, সেটা হলো এই যে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ, এটা তো ফিক্সড কোনো দায়িত্ব তো নেই। এটা তো অনারারি পোস্ট, সম্মানিত পোস্ট। আমার তো এমন না যে, আমার যেতেই হবে, কাজ করতে হবে। এই কাজ আসলে বাধ্যবাধকতার কথা নেই। তবে হ্যাঁ, যদি প্রশাসন আমাকে কোনো ক্লাসের কথা বলে, রিসার্চের কথা বলে, মিটিংয়ের কথা বলে, তাহলে আমি করতে বাধ্য সেটা।
এরকম তারা ডকুমেন্ট দেখাক যে, তারা এরকম কিছু করছে কিনা, আমি তাদের হুকুম পালন করি না। এরকম কোনো ডকুমেন্ট থাকলে দেখাক। তাহলে তারা সম্পূর্ণ একটা যে অভিযোগ করছে, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। ওই যে পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়েই তারা এ কাজটা করছে।
আপনি কি মনে করেন যে, আপনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। তার রেশ ধরেই আপনাকে এ সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: কয়েকদিন আগে প্রজ্ঞাপন জারি করছে যে, আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, সে হিসেবে করছে (ইমেরিটাস অধ্যাপক)। আসলে এটা কি কোনো যোগ্যতা হলো? আমার কি যোগ্যতা নেই? আগের প্রশাসন যে আমাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে একটা নিয়োগ দিছে, এটা কিন্তু আমার যোগ্যতার ভিত্তিতে।
আমি প্রায় ৫০ বছরের কাছাকাছি হয়ে গেল ডাক্তারি করি, রোগী দেখি, মানুষের সেবা করি, চিকিৎসা করি। আমি তো অধ্যাপক ছিলাম। আমার তো অনেক ছাত্র আছে, আমি অনেক ডাক্তার বের করেছি, ভালো ভালো ডাক্তার যারা স্বনামধন্য ডাক্তার এবং ওদের মধ্যে অনেকে কিন্তু এখন অধ্যাপক। যারা নিজেরাই কিন্তু চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং আমার কি যোগ্যতা নেই? আমি যে বললাম ১০টি বই লিখেছি, আমি সাতটি মেডিসিন রিলেটেড ইন্টারন্যাশনাল বই দিল্লি থেকে প্রকাশিত, তিনটা বাংলা বই স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে । আমি ১৫ সম্মাননা পেয়েছি। একুশে পদক পেয়েছি, ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি, বাংলা একাডেমির ফেলো আমি, মেহের কবির বিজ্ঞান পুরস্কার পেয়েছি। আমাকে কয়েকটি অর্গানাইজেশন থেকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমাকে আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই ইমেরিটাস অধ্যাপক দিয়েছে।
তারা একটা অভিযোগ আনছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আমি ব্যক্তিগত চিকিৎসক। এটা কোনো অযোগ্যতা নাকি? সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগ্যতায় কি কেউ ইমেরিটাস অধ্যাপক হতে পারে? তার যোগ্যতা কেমন, না তার কাজ করবে না? আর ইমেরিটাস হওয়ার কিন্তু কতগুলো নিয়ম আছে, ক্রাইটেরিয়া আছে। সে ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করে, ওই যে আগেও বললাম পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে আগের প্রশাসন আমার যোগ্যতার ভিত্তিতেই কিন্তু আমাকে ইমেরিটাস অধ্যাপক করছে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর ডাক্তার ছিলাম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলাম, সেইজন্য আমাকে দিয়েছে—সম্পূর্ণ একটা ফালতু কথা, ভিত্তিহীন কথা। এটার কোন যুক্তিকতাই নাই, আমিও তা মনে করি না।
এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপনি কি কোন ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবেন?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: এটা অনেকেই বলছে, অনেক আইনজীবী আমাকে জিজ্ঞাসা করছে। আইনি পদক্ষেপ আমি আইন দিয়ে এ ঝামেলার মধ্যে যেতে চাচ্ছি না। কারণ এই আইনের লম্বা যে প্রসেস, এখানে গিয়ে আমি নিরীহ মানুষ, সিম্পল মানুষ, এদের সঙ্গে ফাইট করে আমি কুলিয়ে উঠতে পারব না। সুতরাং আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছি না, আমি বরং এটার বিচার আল্লাহ তাআলার ওপর দিয়ে রাখলাম।
আমার বেলায় যে ঘটনাটা ঘটলো—আগের প্রশাসন আমাকে ইমেরিটাস করলো, এরা এসে আমাকে বাতিল করবে। এই ধারা কিন্তু অব্যাহত থাকলে তারাও যখন চলে যাবে আরেকজন এসে তাই করবে। এতে হিংসা আরো মানুষের মধ্যে বাড়বে আরকি। এছাড়া এটা আমি মনে করি এটা করা অনৈতিক, উচিত না এটা। তাহলে আমাদের দেশ আগাবে কেন?
আল্লাহ তাআলা এর সঠিক বিচার করবেন। তারা যদি আল্লাহকে বিশ্বাস করে, আল্লাহ তো অবশ্যই করে, না হলে যে ন্যাচারাল পানিশমেন্ট একটা হবে, এদের ওপর দিয়ে দেখবেন একটা কিছু হয়ে যাবে। কারণ আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। তারা অন্যায় করছে, এর প্রতিফল কিন্তু তারাই ভোগ করবে। আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছি না।
অনেকেই বলছেন যে, আপনি জুলাই আন্দোলনের সময় চুপ ছিলেন। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: আমার কেন? আমার তো কোনো এক্সিকিউটিভ পোস্ট না। আমার কি পাওয়ার ছিল? আমি তো প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসক, তার চিকিৎসা সংক্রান্ত। আমি তো মন্ত্রী, মিনিস্টার, এমপি, প্রশাসক, সেক্রেটারি—কিছু তো না। সুতরাং এ সম্পর্কে আমার করারই বা কিছু ছিল না। আমি চুপই তো থাকবো। ওখানে আমার করার কি আছে? আমি প্রধানমন্ত্রীর অফিসে যেতাম, বসতাম, আমার রুম আছে। সুতরাং আন্দোলনের সঙ্গে তো আমি সম্পৃক্ত না। ওখানে আমার বলারই বা কী ছিল, আমার তো কোনো পাওয়ার নেই।
চুপ থাকা ছাড়া তো কোন উপায় ছিল না। সাধারণ মানুষ যেমন চুপ ছিল, তারা যারা কাজকর্ম করছিল সাধারণ মানুষ, পলিটিশিয়ানদের কথা আলাদা, আমি ওইরকমই তো ছিলাম। মিডিয়াতে খবর দেখেছি, টেলিভিশন দেখেছি। আমাকে যদি তারা ডাকতো চিকিৎসায় আহতদের জন্য, তাহলে না গেলে আমাকে দোষারোপ দিতে পারতো। মানে আমার কি করার ছিল? আমি তো করার কিছু দেখিই না। সুতরাং যে অভিযোগটা তারা আনছে, এই কথাটা মোটেই সত্য নয়।
জুলাইয়ের সেই উত্তাল সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য কেমন ছিল?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: বেশি প্রয়োজন হলে উনি কল করতেন। ওনার দুইটা রোগ আছে, আপনারা জানেন। যদিও রোগগুলোর সম্বন্ধে এতো বলা উচিত না। তো মোটামুটি স্টেবল ছিল তার রোগগুলো। যেমন- প্রেসার ভালো, সুগার ভালো, অন্যান্য অবস্থাও ভালোই ছিল, নরমাল ছিল।
সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশাসনিক পরামর্শ আপনি দিয়েছিলেন কি? সেনাবাহিনী, পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর বিষয়ে কিছু জানতেন?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: না, এটা তো আমার কাজের মধ্যে পড়ে না। আমি তো ডাক্তার হিসেবে রোগের চিকিৎসা করব। আর পরামর্শ হলো প্রশাসনের কাজ। সেখানে তো কত প্রশাসনের লোকজন ছিল। মন্ত্রী, মিনিস্টার থেকে শুরু করে সেক্রেটারি ছিল, আর্মি ছিলো, বিজিবি ছিল, র্যাব ছিল। আমি তো তার ওই মিটিংয়েও যেতাম না। কারণ আমার এর এখতিয়ারের বাইরে, আমার পারমিশনও ছিল না, আমি যাইনি। প্রয়োজনও মনে করিনি। সুতরাং এটা তো আমার ক্ষমতার মধ্যে পড়ে না।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আমার থাকার প্রশ্নই আসে না। কারণ আমি তো পারমিটেড ছিলাম না। এতো তাদের কনফিডেন্সিয়াল মিটিং, ভেতরের রুমে বসে তারা মিটিং করে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌবাহিনীর প্রধান, হয়তো কোন মাধ্যমে শুনতাম যে, ওনারা আসছে মিটিং করছে। আমি আমার রুমে বসে থাকতাম, ওখানে আমার যাওয়ার তো কোন সুযোগ ছিল না, পারমিশন ছিল না। আমি চেষ্টা করিনি বা ওটা তো আমার কাজের এখতিয়ারের বাইরে। প্রশাসনের ভেতরে আমার কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই, ছিল না। এখনো নেই, তখনো ছিল না। কারণ আমি তো প্রশাসনিক কোন কর্মকর্তা না, প্রশাসনিক কোনো দায়িত্বও ছিল না আমার। সুতরাং এ ব্যাপারে তো আমার আসলে কোন করণীয় কিছুই ছিল না।
কর্মজীবনের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে এ ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত আপনার সম্মানহানি করল কিনা বা এটাকে কীভাবে দেখছেন?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: এটা তো আমি মনে করি যারা দিছে (বাতিল করেছে) ওদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখেন। আমার তো বয়স হয়ে গেছে এখন। আমি আমার দীর্ঘ ৫০ বছরের ডাক্তারি জীবনে আমি যা যা করছি, রোগীর সেবা দিয়েছি, শিক্ষকতা করছি, অনেক ডাক্তার আমার হাত দিয়ে তৈরি হয়েছে, বই লিখছি, গবেষণার মতো কাজ করছি, ১৫টি অ্যাওয়ার্ড পাইছি।
আরেকটা কথা বলতে বইয়ের ব্যাপারে যে কথাটা বলছিলাম, ব্রিটেন থেকে দুইটা বই প্রকাশিত হয় মেডিসিনের বই, ডেভিডসনের একটা বই মেডিসিন আর একটা কুমার অ্যান্ড ক্লার্কের বই। এটা কিন্তু টেক্সট বই সবাই পড়ে এভরিহোয়ার, এমবিবিএস বলেন, এফসিপিএস, এমডি, এমআরসিপি সবাই কিন্তু পড়ে। এই বই দুটোর ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজারি বোর্ডের আমি কিন্তু মেম্বার।
আরও পড়ুন: পে-স্কেল নিয়ে ফের বৈঠকে বসছে সচিব কমিটি, সিদ্ধান্ত আসবে ৩ বিষয়ে
সুতরাং আমার কাজই হলো ডাক্তার, রোগী দেখা, শিক্ষক হিসেবে ছাত্র পড়ানো—এই আমার কাজ। গবেষণা চালায় যতটুকু পারে। আমার লেখালেখির অভ্যাস আছে। আমার যে কাজ আমি মনে করি যে, সিনসিয়ারলি এ কাজগুলো করছি। অন্য যেগুলো সেগুলো তো আমার কাজের মধ্যে পড়ে না বা আমার ইচ্ছাতে তো না। আমি তো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি তো না। আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। আগেও ছিলাম না, সেই স্টুডেন্ট লাইফ বলেন বা তারপরে যেকোনো সময় আমি তো ছিলাম না। সুতরাং তারা অনেকগুলো ব্লেইম আনছে, এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
আমার যে এখন যে বয়স হয়ে গেছে, ৫০ বছরের ডাক্তারি জীবন, এখানে এ শেষ বয়সে তারা যে কাজটা করলো, আমার খুব যে ক্ষতি হয়েছে বলে আমি মনে করি না। কারণ আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছে, আমি তৃপ্ত আল্লাহর রহমতে। আমি মনে করি যে, আমার যোগ্যতার চেয়ে বোধ হয় আল্লাহ আমাকে বেশি দিয়েছেন। আমি অনেক কিছু পেয়ে গেছি। সুতরাং এটার জন্য আমার কোন আফসোস নেই।
যারা এ কাজটা করছে, তারা তার দিক থেকে কতটুকু কাজ করল- এটা তাদের বিবেচনায়। তারা চাইলে করতে পারে, নাও করতে পারে বা তাদের ওই বিবেচনা বোধ আছে কিনা- আমার মনে হয় না যে আছে। এ বয়সে এসে একটা সম্মান দিয়ে আবার এটা ফিরিয়ে নেওয়া কতটুকু যৌক্তিক? আর আমি তো অনেক সম্মানের কিছু পেয়ে গেছি। এরকম ছিনিয়ে নেওয়ায় আমার সম্মান কোনো ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি না। এতে আমার কিছু যায় আসে না, আমি কিছু মনে করি না।
আমাদের দেশে সরকার পরিবর্তন হলেই প্রফেশনাল বা পেশাদার জায়গাগুলোতে এক ধরনের প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা দেখা যায়। একজন অরাজনৈতিক পেশাজীবী হিসেবে এ বিষয়ে আপনার শেষ মন্তব্য কী?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: প্রথম কথা হলো যে, আমি তো কোনো রাজনীতিবিদ না, সুতরাং রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা আমার উচিত না। তো যেটা বললেন, এই কাজগুলো করা উচিত না, এটা অনৈতিক কাজ আর কি। কারণ সরকার যাওয়া-আসা চলমান প্রক্রিয়া, যাবে আসবে। কিন্তু এক সরকারের আমলে কিছু করে যাবে, আরেক সরকার সব উল্টাপাল্টা করবে—এটা মনে করি করা উচিত না। আমার বেলায় যে ঘটনাটা ঘটলো—আগের প্রশাসন আমাকে ইমেরিটাস করলো, এরা এসে আমাকে বাতিল করবে। এই ধারা কিন্তু অব্যাহত থাকলে তারাও যখন চলে যাবে আরেকজন এসে তাই করবে। এতে হিংসা আরো মানুষের মধ্যে বাড়বে আরকি। এছাড়া এটা আমি মনে করি এটা করা অনৈতিক, উচিত না এটা। তাহলে আমাদের দেশ আগাবে কেন? ভালো মানুষ, মানুষের ভালো অবস্থা কি করে হবে? সবাই হিংসা করবে, একজন আরেকজনকে ক্ষতি করার তালে থাকবে, এইটাই আমি মনে করি যে অন্যায়, এটা অযৌক্তিক, এটা করা উচিত না।
গ্রামের মানুষের আবদার ও ব্যক্তিগত সামাজিক সেবা
অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ শুধু ঢাকাতেই চিকিৎসা দেননি, বরং নিজ জেলা জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হারিয়াবাড়ী গ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন এক বিশাল সেবামূলক কমপ্লেক্স।
আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে বিভিন্ন সেবামূলক কাজও করে যাচ্ছেন। গ্রামের মানুষের জন্য করা আপনার সেই কাজগুলো সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: আমার সেবা বলতে, ডাক্তারি তো একটা সেবা, তাই না? মানুষের সেবা, চিকিৎসা সেবার চেষ্টা করছি। বই লেখালেখি, এটা তো সেবা, ছাত্রদেরকে পড়াশোনার জন্য যে বইগুলো লেখা, এটা করা। তবে যে রেগুলার লেখালেখি করি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে, সুতরাং এটাও তো একটা সেবার অংশ।
আরও পড়ুন: ৬৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি চাইবে এনটিআরসিএ, চিঠি যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে
তবে এগুলোর বাইরে আমি কিছু কিছু সামাজিক কাজ আল্লাহর রহমতে করছি বা করতে পারছি। যেমন আমার গ্রাম বাড়িতে কিন্তু অজপাড়াগাঁ, আগে বললাম আমার বাড়ি হলো জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানা আর তৎকালীন থানা হারিয়াবাড়ী গ্রামে। আমি গ্রামে কিন্তু একটা বড় দোতলা মসজিদ করছি। দোতলা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ, যা যা দরকার ইলেকট্রিসিটি সব সুন্দর চেষ্টা করছি। তা আমার বাপের ইচ্ছা ছিল। ওই আমলে আমাদের মসজিদ অনেক পুরনো আসলে, আমার বাপ-দাদার আমলে করা, আমি শুধু ডেভেলপ করে এটাকে উন্নত করছি। এই একটা কাজ করছি।
আমি মসজিদের পাশে একটা হাফেজিয়া মাদ্রাসা কিন্তু করছি। হাফেজিয়া তো বুঝেনই, কোরআন শিক্ষা দেওয়া হয়।এখনো এটায় প্রায় ২০০ ছাত্র আছে, অনেক হাফেজ কিন্তু এখন বের হয়ে গেছেন এখান থেকে। সুতরাং এটা আমি মনে করি যে একটা ভালো কাজ করছি এবং সেখানে একটা লিল্লাহ বোর্ডিং আছে। লিল্লাহ মানে বিনা পয়সায় থাকা-খাওয়া, এই ব্যবস্থা কিন্তু আমি করছি, আমি সেটা মেইনটেইন করি।
আরেকটা হলো তৎকালীন সরকারের অনুকূল্য করা, আমি কিন্তু একটা কমিউনিটি ক্লিনিক করছি একই ক্যাম্পাসে। সুতরাং মসজিদে একটা আছে, মাদ্রাসা আছে, একটা কমিউনিটি ক্লিনিক আছে এখানে। গ্রামে ডেইলি ৬০, ৭০, ৮০, ৯০, ১০০ টা এরকম রোগী হয়। যতটুকু সম্ভব সরকারি তকদে কিছু পত্র (ওষুধ) দেওয়া হয়, আমি আমার ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু ঔষধ পত্র মাঝে মাঝে সাপ্লাই দেই। এগুলো গ্রামের মানুষের সেবার জন্য করতেছি।
এটা মানে আমি যে একটা বিশাল কাজ করছি এমন নাহ, তবে মানুষ কিন্তু তৃপ্ত। আমি যতটুকু পারছি টুকটাক যা হেল্প করি। সেখানে কিন্তু ডেলিভারি হয়, মাসের পত্রপত্রিকা আছে, সেফ ডেলিভারি সিস্টেম কিন্তু করা হচ্ছে, এটা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা আছে, তারপর মেডিকেল এডুকেশন তারা যতটুকু পারে করে। সুতরাং আমি এই দিক থেকে একটু সামাজিক কাজকর্ম—এগুলো আমার নিজস্ব অর্থায়নে আমি করে করে যাচ্ছি এখন পর্যন্ত।
গ্রাম থেকে উঠে আসা চিকিৎসকদের প্রতি গ্রামের মানুষের একটা আলাদা আবদার বা আবেগ থাকে। আপনার ক্ষেত্রে এমনটা কেমন হতো?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: গ্রাম বাংলায় বিভিন্ন গ্রামগুলোতে যেটা দেখা যায় যে, একজন চিকিৎসক থাকলে তাদের কাছে গ্রামের মানুষের এক ধরনের আবদার থাকে বা চিকিৎসার জন্য তাদের কাছে কিন্তু সবসময় যায়। আমি তো আগে যখন ছিলাম তখন বললাম যে, এখন তো একটু বয়স হয়ে গেছে। আমি কিন্তু আগে রেগুলার বাড়িতে যাইতাম, হয়তো মাসে বা দুই মাস পরে বা ছয় মাস পরে হলেও যাইতাম, ছুটি পাইলে যাইতাম। বাড়িতে গেলে আর নড়াচড়া করা যায় না, রোগীর ভিড়! দুই-চার আশেপাশে যত গ্রাম থেকে একেবারে সকাল থেকে শুরু করে রাতে ১১টা-১২টা পর্যন্ত লোকজন আসতো, দেখতাম। এখনও দেখি, এখনও একটু লিমিটেশন আছে, বাড়িতে কম যাওয়া হয়। সোশ্যাল কাজকর্মগুলো করছি, লোকজন তো অবশ্যই আসে।
আমি তৎকালীন আইপিজিএমআর-এ আছিলাম, পিজি হসপিটালে, যেটা রেগুলার কিন্তু লোকজন আসতো আমার কাছে, দেখতাম। এখনও মাঝে মাঝে আসে না, তা না তবে একটু কম আসে হয়তো বা আমি যে পারি না কুলাইতে এই জন্য। রেগুলার এটা কিন্তু সবসময় চলছে, চলমান ছিল। শুধু তাই না, আমি তো ঢাকা মেডিকেল কলেজে অনেকদিন পোস্টিং আছিলাম, ওই সময় থেকে হোস্টেল ছাড়া প্রচুর লোকজন কিন্তু আমার আসতো। গ্রামে শুধু আমার গ্রাম না, আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় জানা-শোনা গ্রাম আছে, দেখতাম আমি চিকিৎসা দেওয়ার, সেবা দেওয়ার সাধ্য অনুযায়ী।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সব দায়িত্ব থেকে তো আপনি অবসরে গেছেন। জীবনের বাকি দিনগুলো নিয়ে এখন আপনার ভাবনা কী?
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: সার্ভিস জীবনের শেষ প্রায় এখন, পরবর্তী সার্ভিস জীবন তো নাই, সার্ভিস জীবন রিটায়ার্ড। এখন পরবর্তী ভাবছি কিছু না, আমি তো লেখালেখির কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমার বইগুলো তো এডিশন চেঞ্জ করতে হয়, এগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আর চিকিৎসা সেবা একদম বাদ দেই নাই, একটু লিমিট করে কমাই দিছি আর কি। মানুষের সেবা, রোগী কিন্তু দেহি, অল্প-স্বল্প দেখি আর কি।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার, আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: ধন্যবাদ আপনাকেও, ঠিক আছে।