সাক্ষাৎকার
২৫ বছরে শেকৃবি

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃষি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়তে চাই: উপাচার্য

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। © টিডিসি সম্পাদিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তিতে শেকৃবির অর্জন, সীমাবদ্ধতা, চলমান সংকট, শিক্ষা ও গবেষণা, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্য ডেউলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম রাকিব।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. রবিউল ইসলাম রাকিব
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ PM

প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২৫ বছরের পথচলার পাশাপাশি কৃষিশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর রয়েছে প্রায় ৮৮ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, অবকাঠামো ও আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তিতে শেকৃবির অর্জন, সীমাবদ্ধতা, চলমান সংকট, শিক্ষা ও গবেষণা, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দ্য ডেউলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি মো. রবিউল ইসলাম রাকিব।

শেকৃবি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে। একই সময়ে আপনার উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বেরও দুই বছর পূর্ণ হলো। এই দুটি মাইলফলককে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আমি বিষয়টিকে দুটি আলাদা মাইলফলক হিসেবে দেখি না; বরং একই ধারাবাহিকতার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখি। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করেছে, কিন্তু এর পেছনে রয়েছে প্রায় ৮৮ বছরের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ঐতিহ্য। ফলে এই ২৫ বছর আমাদের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবারও সময়।
আমার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দুই বছরও এই বৃহত্তর যাত্রার একটি ছোট অধ্যায়। আমি চেষ্টা করেছি বিদ্যমান ঐতিহ্য ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সংগঠিত, গবেষণামুখী, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রতিযোগিতামূলক করার ভিত্তি তৈরি করতে। 

২৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রায় ৮৮ বছরের কৃষিশিক্ষার ঐতিহ্য—এই দীর্ঘ পথচলায় শেকৃবির সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে করেন?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় তৈরি করা। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কৃষিবিদ তৈরি করছে না; কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জ্ঞান ও গবেষণা তৈরি করছে।

তবে বর্তমান সময়ে আমি আরেকটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি—শেকৃবির গবেষণা এখন আন্তর্জাতিক পরিসরে দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রায় ১,৯০০ গবেষণা প্রবন্ধ Scopus-এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমবারের মতো QS Asia ও Times Higher Education-এর মতো আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে জায়গা করে নিয়েছে। Research.com Ranking 2025–26-এ বাংলাদেশে শেকৃবি প্রথম হওয়াও আমাদের গবেষণা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এগুলো প্রমাণ করে, দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে এখন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও যুক্ত হচ্ছে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পর আপনার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: একটি নির্দিষ্ট অর্জনের কথা বললে আমি বলব—বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত, স্বচ্ছ এবং গবেষণাভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা। দায়িত্ব নেওয়ার সময় একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সমন্বয় ও গবেষণা-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা প্রথমে স্বাভাবিক কার্যক্রমকে গতিশীল করেছি, এরপর দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতে কাজ করেছি।

এরই অংশ হিসেবে গবেষণা ও আন্তর্জাতিকীকরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক MoU, গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও স্বীকৃতির মাধ্যমে গবেষণার পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি।
 
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় অপ্রয়োজনীয় কোটা কমিয়ে মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; পোষ্য কোটা বাতিলসহ মোট কোটা ১১ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। কোটা পূরণ না হলে শূন্য আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার জন্য কারিকুলাম আধুনিকায়ন, পরীক্ষা পদ্ধতিতে সংস্কার, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে লক্ষ্য ও পরিকল্পনা করেছিলেন, তার কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অগ্রগতি হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ এগিয়েছে ধীরগতিতে। আমার মূল লক্ষ্য ছিল তিনটি—একাডেমিক ধারাবাহিকতা ও মান নিশ্চিত করা, গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা। র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের অংশগ্রহণ, গবেষণার তথ্যভান্ডার তৈরি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, PhD Fellowship, গবেষণা প্রশিক্ষণ, একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ এবং নতুন কিছু একাডেমিক কাঠামো চালু—এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি তৃতীয় আরো একটি ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্রাজুয়েট তৈরী করতে চাই। তবে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা অবকাঠামো, পর্যাপ্ত আবাসন, শিক্ষক-জনবল এবং বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি—এসব ক্ষেত্রে আরও কাজ প্রয়োজন। তাই আমি বলব, লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি হয়েছে; এখন সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বর্তমানে শেকৃবিতে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। এই বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা কতটা পর্যাপ্ত?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: সত্যি বলতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় আমাদের বিদ্যমান অবকাঠামো ও আবাসন এখনো পুরোপুরি পর্যাপ্ত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে; ফলে আবাসন, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, পরিবহন, ক্রীড়া ও অন্যান্য শিক্ষার্থীসেবা—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে ছেলেদের চারটি ও মেয়েদের তিনটি আবাসিক হল রয়েছে। নতুন একটি ছেলে ও একটি মেয়েদের আবাসিক হল নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শুধু ভবন নির্মাণ নয়, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি এবং একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত ভারসাম্য তৈরি করা।

বিভিন্ন অনুষদে শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই সংকট নিরসনে আপনার প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: শিক্ষক সংকট অবশ্যই আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এটি নিরসনে বিভাগভিত্তিক শিক্ষক প্রয়োজন, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত ও একাডেমিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃজন ও শূন্য পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষক পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের বিষয় রয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ও তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সংকট কমিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমের মান ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

শেকৃবির গবেষণার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। আপনার দুই বছরের সময়ে গবেষণাকে এগিয়ে নিতে কী কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে শুধু বেশি সংখ্যক প্রবন্ধ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইনি; বরং একটি টেকসই গবেষণা সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। এ লক্ষ্যে PhD Fellowship চালু, তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে স্বীকৃতি প্রদান, গবেষণা পদ্ধতি, একাডেমিক রাইটিং, পরিসংখ্যান ও গবেষণা নৈতিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো SAURES Publication Award চালু করা হয়েছে, যেখানে গবেষণার মৌলিকত্ব, জার্নালের মান, গবেষণার প্রভাব ও নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২৫০-৩০০ শিক্ষককে বিভিন্ন একাডেমিক ও গবেষণা প্রশিক্ষণ এবং প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে ডেটা অ্যানালাইসিস ও গবেষণা-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা বাড়ানো উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে গবেষণার পরিমাণের পাশাপাশি গুণগত মান ও আন্তর্জাতিক সংযোগ—দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ফলাফল কৃষকের মাঠে পৌঁছে দিতে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: গবেষণার সার্থকতা তখনই, যখন এর ফলাফল কৃষক ও সমাজের কাজে আসে। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করার ওপর আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ও জ্ঞান কৃষক, কৃষক সংগঠন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গবেষণাকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করতেও আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত মৌলিক প্রযুক্তি এবং যেসব প্রযুক্তির পেটেন্ট ও কপিরাইট রয়েছে, সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এখন এসব উদ্ভাবনকে শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে উপযুক্ত উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ করে বাণিজ্যিকীকরণ ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

বিশেষ করে জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, বন্যা-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়–গবেষক–কৃষক–শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলাই আমাদের পরিকল্পনা। ফলে গবেষণার ফলাফল বাস্তব উৎপাদনে ব্যবহৃত হবে এবং এর সুফল সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।

২৫ বছর পূর্তিতে শেকৃবিকে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার ভিশন কী?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আমার কাছে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু র‌্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থান নয়। এর অর্থ হলো মানসম্মত শিক্ষা, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য গবেষণা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক ল্যাবরেটরি, বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ তৈরি করা।

আগামী দিনে আমরা QS ও THE-তে অবস্থান আরও উন্নত করতে চাই, Scopus ও Web of Science-এ উচ্চমানের গবেষণা বাড়াতে চাই, আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা ও বিদেশি গবেষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ বাড়াতে চাই। বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং জলবায়ু ও খাদ্য নিরাপত্তা গবেষণায় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। শেকৃবিকে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই।

প্রশাসনের দুই বছর পূর্তিতে এমন কোনো কাজ আছে কি, যেটি আপনি এখনো করতে পারেননি এবং ভবিষ্যতে করতে চান?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: অবশ্যই আছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সব কাজ এক মেয়াদে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে অবকাঠামো, জনবল ও বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমোদন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়।
আমি বিশেষভাবে পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা, শিক্ষক-জনবল সংকটের স্থায়ী সমাধান, আধুনিক ও বিশ্বমানের গবেষণাগার এবং ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে চাই। পাশাপাশি শিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও কার্যকর অংশীদারত্ব তৈরি এবং গবেষণার ফলাফল মাঠপর্যায়ে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কাজও আরও এগিয়ে নিতে চাই। এগুলোকে আমি আগামী সময়ের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখি।

শিক্ষক-জনবল সংকট, আবাসন ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা—এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে আপনার মেয়াদের বাকি সময়ে অগ্রাধিকার কী থাকবে?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আমার অগ্রাধিকার হবে—প্রথমত প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা, দ্বিতীয়ত আবাসন ও একাডেমিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তৃতীয়ত গবেষণা ও শিক্ষার জন্য আধুনিক সুবিধা তৈরি করা। তবে বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে হবে না। শিক্ষক বাড়াতে হলে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবরেটরি প্রয়োজন, শিক্ষার্থী বাড়লে আবাসন ও অন্যান্য সেবাও বাড়াতে হবে। তাই আমরা একটি সমন্বিত অবকাঠামোগত পরিকল্পনার দিকে এগোতে চাই। স্বল্পমেয়াদে বিদ্যমান সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন অবকাঠামো ও জনবল কাঠামো—দুই দিকেই কাজ করতে হবে।

আগামী পাঁচ বছরে শেকৃবিকে আপনি কোথায় দেখতে চান?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আগামী পাঁচ বছরে আমি শেকৃবিকে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই, যেখানে গবেষণা হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান পরিচয়, শিক্ষা হবে দক্ষতা ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক এবং প্রশাসন হবে আরও আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক।

আমি চাই আমাদের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে উন্নত হোক, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক গবেষণা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ুক, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা আরও বিস্তৃত হোক এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার আগেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করুক।

সবচেয়ে বড় কথা, শেকৃবিকে এমন জায়গায় নিতে চাই যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করবে না; সে গবেষক, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা কিংবা দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সক্ষমতা নিয়ে বের হবে।

বিগত সময়ে নিয়োগ, পদোন্নতি অনিয়ম এবং আওয়ামী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কি ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন? শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে উক্ত প্রশ্নের উত্তর কী?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের অবস্থান হলো, নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা প্রশাসনিক যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে আইন, বিধিবিধান, যোগ্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতে।

আমাদের সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করে লিখিত পরীক্ষা, ডেমোনস্ট্রেশন ক্লাস ও মৌখিক পরীক্ষার সমন্বয়ে একটি মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনও সম্পন্ন হচ্ছে। রাষ্ট্রের আইনে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো বিষয় থাকলে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

পদোন্নতির ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিধি, যোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। অতীতে কোনো নিয়োগ, পদোন্নতি বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে, প্রমাণ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ছাড়া কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সমীচীন নয়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশোধমূলক প্রশাসনে বিশ্বাস করি না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, সেটি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়—তথ্য, প্রমাণ, আইন ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নিয়োগ, পদোন্নতি কিংবা অন্য কোনো সিদ্ধান্তে মেধা, যোগ্যতা ও নিয়মই হবে প্রধান বিবেচ্য।

২৫ বছর পূর্তি এবং আপনার দায়িত্বের দুই বছর পূর্তিতে শেকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অ্যালামনাইদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা বা প্রত্যাশা কী?
ড. মো. আব্দুল লতিফ: আমার বার্তা খুব পরিষ্কার—শেকৃবি আমাদের সবার। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন যেমন সবার, তেমনি সীমাবদ্ধতাও আমাদের সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

শিক্ষকদের প্রতি আমার প্রত্যাশা থাকবে—শিক্ষাদানের পাশাপাশি মৌলিক, নৈতিক ও সমাজের প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগ দেবেন। শিক্ষার্থীদের বলব, শুধু ফলাফল নয়; জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের গুণ অর্জন করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, তাঁরা যেন দায়িত্বকে সেবার মানসিকতা নিয়ে পালন করেন। আর অ্যালামনাইরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি; তাঁদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আরও বেশি কাজে লাগাতে চাই।

আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহে ট্রাক -সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ২
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ৩ শিশুর
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছাত্রদল কর্মী মেহেরুনকে নিয়ে ‘উধাও’ শিক্ষক অসীম কুমার
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রিলেশনশিপ ম্যানেজার পদে জনবল নেবে ব্যাংক এশিয়া
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্মার্টফোনের দাম নামছে ২ হাজার টাকায়, দেশেই হবে উৎপাদন
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬