সাক্ষাৎকার

বাবা রিকশা চালাতেন, অন্যের বাসায় কাজ করতেন মা— সিভিল জজে চতুর্থ হলেন ছেলে হানিফ

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া © টিডিসি সম্পাদিত

বাবা রিকশা চালাতেন, মা অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারে অভাবের কারণে অন্যরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। সেই পরিবারের একমাত্র পড়াশোনা করা সন্তান...
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. আবদুর রহমান
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ PM

বাবা রিকশা চালাতেন, মা অন্যের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারে অভাবের কারণে অন্যরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। সেই পরিবারের একমাত্র পড়াশোনা করা সন্তান মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় অংশ নিয়েই মেধাক্রমে চতুর্থ হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা করা হানিফ এখন গ্রামের ইতিহাসে প্রথম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার পথে। তার এই সাফল্যের গল্পে আছে রিকশাচালক বাবার ঘাম, মায়ের শ্রম, ভাই-বোনের ত্যাগ, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ পথচলা। গল্প শুনেছেন- আবদুর রহমান

আপনার শৈশব কেটেছে কেমন পরিবেশে? পরিবার ও আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাই।

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমার জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার খুবই অজপাড়াএবং পিছিয়ে পড়া সমস্যা জর্জরিত গাঁ কলাতুলীতে। এমন এক গ্রাম থেকে আমি উঠে এসেছি যেখানে জীবনের প্রতিটি ধাপের সফলতায় বার বার উদাহরণ হয়েছি জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ গোবড়ে পদ্মফুল এর। আমরা পাচঁ ভাই বোন,আমি বাবা মায়ের চতুর্থ সন্তান।পারিবারিক চরম আর্থিক অনটনের প্রভাবে বড় দুই বোন এবং ভাই এর পড়াশোনা হয়নি।অবস্থা ছিলো খুবই করুন নুন আনতে পান্তা ফু্রায় এমন। এমন অবস্থায় দুই বোন ঢাকায় পাড়ি জমায় ভাগ্যের সন্ধানে এবং এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়।পরবর্তীতে আমার মা ও বাবা সহ আমরা সবাই ঢাকা চলে আসি।আমরা ছোট দুই ভাই স্কুলে ভর্তি হই(যদিও পরবর্তীতে ছোট ভাই পড়াশোনা কন্টিনিউ করতে পারেনি) আর আম্মা মানুষের বাসায় কাজ নেয় আর আব্বা পায়ের রিকশা চালনা শুরু করে। প্রথম বার ঢাকায় এসে পরিবার কে অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তবে দুই বোনের আর মায়ের ইচ্ছায় চরম আর্থিক দুরবস্থায়ও পড়াশোনা চালিয়ে যাই।পরবর্তীতে এক পর্যায়ে বোনেদের বিয়ে হলে আমরা সপরিবারে বাড়িতে  চলে আসলে পড়াশোনা চলে গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে।

আপনার শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা পর্যন্ত পথচলাটা কেমন ছিল?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমার শিক্ষাজীবনের শুরু প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে রোটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রাজাবাজারের গুলশান আরা স্কুলে। এরপর করিমগঞ্জের কলাতুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করি। পরে করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি শেষ করি। এরপর ২০২০ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পাই। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এল.এল.বিতে ভর্তি হয়েছি। আইন বিভাগের হযবরল-৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি ৩.৬২ সিজিপিএ নিয়ে এলএল.বি. সম্পন্ন করি। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এলএল.এম. শিক্ষার্থী এবং মাস্টার্সের চূড়ান্ত পর্বে অধ্যায়ন রয়েছি। 

পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে একমাত্র আপনিই পড়াশোনা করেছেন। পরিবারে আপনার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটা কীভাবে হয়েছিল?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমার বাকি ভাইবোনেরা পড়াশোনা না করার পেছনে একমাত্র কারন দারিদ্র্য,চরম দারিদ্র্যের মাঝে পড়াশোনা তখনকার গ্রামীন পরিবেশে একপ্রকার অসম্ভবই ছিলো বটে। তাছাড়া বড় দুই বোনকে ঢাকা গার্মেন্টসে চাকরি নেয়ার আগেও গ্রামে থাকা কালীন মানুষের বাসায় কাজ করতে হয়েছে। শামুক তুলে বিক্রি করে বা নানান কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়েছে যার কারনে পড়াশোনা হয়নি। এমন অবস্থায় আমার দুই বোন, এবং মা এর ইচ্ছে স্বপ্নে আর ত্যাগে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। 

অভাবের কারণে আপনার ভাই-বোনদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের ত্যাগ আপনার জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: এতটাই অভাব ছিলো যে গ্রামে থাকাকালীন ভাতের অভাবে আমার বড় ভাই আর বোনদের আটার ভাত (আমাদের এলাকায় প্রচলিত তখন নিম্ন মান এবং মূল্যের ভাত) খেতে হয়েছে। তাদের এসব কষ্ট এবং ত্যাগ এবং আমার প্রতি তাদরে ডেডিকেশন সর্বদা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার। 

ছোট ভাই পড়াশোনা ছেড়ে আপনার পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন। তার এই ত্যাগকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: ছোট ভাই যখন পড়াশোনা ছেড়ে দেয় তখন বোনদের বিয়ে হয়ে গেছিলো, বড় ভাই একটু সমস্যার মধ্যে ছিলো, এমতাবস্থায় আমার মায়ের ভরনপোষণ করার মতো ওয়ে একমাত্র আমার ছোট ভাইয়ের ছিলো। কাজে ঢুকে আমার পরিবারের ভরনপোষণ এর দায়িত্ব নিয়েছে। তখন ওই ব্যাপারটাই আমার জন্য একটা শক্তি ছিলো। আমার পড়াশোনা শেষ হতে হতে ও আমার মায়ের পাশে দাঁড়াতে পারবো। ওর ওই ত্যাগকে এবং পরিশ্রমকে আমি আমার জীবনের জন্য এক নির্মম বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়ে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছি। ওর ত্যাগকে আমি সেলুট জানাই।

এবারই প্রথম বিজেএস পরীক্ষা দিয়েছেন। প্রথমবারেই এত ভালো ফল করার প্রস্তুতিটা কীভাবে নিয়েছিলেন?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: এটা আমার প্রথম বিজেএস এবং প্রস্তুতির সময়টা খুবই ডায়নামিক ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইদের অনার্স শেষ করেই ইভেন মাস্টার্সের আগেই জজ হওয়াটা আমরা জন্য ছিলো সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। একইসাথে দ্রুত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর একমাত্র হাতিয়ার। তাই সিনিয়র ভাইদের নক দিতাম, নিউলি এপয়েন্টেড জাজ ভাই আপুদের নক দিয়ে শুনতাম কিভাবে কি করবো। কই থেকে শুরু করবো। এখানে আমাকে আমার বিভাগের সিনিয়র ভাই মাহারাজ হাসান তামিম ভাই এবং তানভীর হাসান ভাই বই কিনে দিয়েছেন। 

মাহি উদ্দিন ভাই এর রেকর্ডেড বিজেএস রিলেটেড ক্লাস করতে দিয়েছেন। নিশাত আপু, তালহা ভাই এনারা যেকোনো প্রয়োজনে গাইডলাইন দিয়েছেন। আমি সর্বদা চেষ্টা করেছি এনাদের দেয়া গাইডলাইন, বই, নোটস ইত্যাদি টু দ্য পয়েন্টে ফলো করতে। আর আমার এত ভালো ফল করার পিছনে এগুলোর পাশাপাশি স্ট্র্যাটিজিক্যালি রেগুলার পড়াটা অনেক এফেক্টিভ ছিলো। আর আমি অবশ্য পড়াশোনার ব্যাপারে খুবই ডেডিকেটেড ছিলাম ছোট থেকেই আর বিজেএস এক্সাম ছিলো আমার সারা জীবনের সকল স্বপ্নের ধারক তাই পড়াশোনায় কোনো কার্পণ্য করিনি।পড়েছি, পড়েছি এবং শুধু পড়েছি।

বিজেএসের প্রস্তুতি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং প্রতিদিন কীভাবে সময় ভাগ করে পড়তেন?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমি আসলে অনার্স ফাইনাল শেষ করে প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম একদম ফ্রেশার হিসেবে। আর আমি মূলত প্রতিদিন ঘন্টা হিসেব করে পড়তাম না। সাবজেক্ট এবং সিলেবাস টার্গেট করে পড়তাম। কখনো দেখা গেছে ১৬ ঘন্টাও পড়েছি। কখনো ৫ থেকে ৭ ঘন্টা পড়েই উঠে গেছি। খেয়াল রেখেছি সিলেবাসে কমপ্লিশন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, মাস্টার্স ও টিউশনের পাশাপাশি বিজেএসের প্রস্তুতি কীভাবে সামলেছেন?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: এখানে আসলে দুটি বিষয় বলতেই হয় এক: বিজেএস এর পড়াশোনা করতে গিয়ে মাস্টার্স ক্লাস নিয়মিত করতে পারি নি।এটা আমার কাছে অনেক বড় আফসোস এবং ত্যাগের জায়গা মনে হয়েছে কেননা ঢাবি ল ডিপার্টমেন্টের টিচারদের ক্লাস আমার খাওয়া ঘুমের চেয়েও প্রিয় জিনিস। যা আমি এসময় স্যাকরিফাইস করেছি।

আর দুই: টিউশন ম্যানেজম্যান্ট— যেহেতু নিজের খরচ নিজেকেই মেটাতে হতো সো টিউশন বাদ দেয়ার কোনো অপশন ছিলো না। এক্ষেত্রে আমার পড়ার চাপ দেখে আমার বন্ধু প্রতীম ভাই মো. রাজীব হোসাইন আমাকে ব্যাপক সাহায্য করেছে। আমরা একসাথে থাকার সুবাদে ও আমার টিউশন গুলো কন্টিনিউ করেছে এবং ওর টিউশন ও পড়াশোনার চাপের পাশে আমার টিউশন গুলে সামলানোর মতো চাপ ও নিয়েছে। যা আসলে খুবই রেয়ার এ যুগে। ওর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। 

প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা—তিনটি ধাপের মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে? 

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমার কাছে পারসোনালি সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছিল প্রলিমিনারি। কেননা রিটেন যেকোনো এক্সাম আমার কাছে ইজি মনে হয়। নিজের লেখার প্রতি আল্লাহর রহমতে এমন বিশ্বাস আছে। যেকোনো লিখিত পরীক্ষা আমার কমফরটেবল মনে হয়। ভাইভাতেও একটু মানসিক  প্রেশারে ছিলাম। যদিও যে কি হয় তবে আমার জন্য কঠিন ধাপ ছিলো প্রিলিমিনারি। তবে আমার অভিজ্ঞতা যা বলে তা হলো আমার কাছে ইজি মনে হলেও সবচেয়ে কঠিন ধাপ হলো রিটেন। টানা দশদিন এত বড় সিলেবাস গুছিয়ে পরীক্ষা দেয়ার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি আরো কিছু এক্সট্রা ক্যাপাবিলিটি লাইক কনফিডেন্স, মেন্টাল স্ট্রেন্থ, প্রেশার ম্যানেজম্যান্ট, ফিজিক্যাল স্ট্রেন্থ ( সুস্থতা), ধৈর্য ইত্যাদি থাকা দরকার।

ফল প্রকাশের পর আপনার অনুভূতিটা কেমন ছিল। 

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: সারাদিন রোযা ছিলাম এবং একা ছিলাম। রেজাল্ট এর পূ্র্ব মুহুর্তে টেনশনে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসছিলা, মনে মনে বিশ্বাস ছিলো হবে হয়তো ইনশাল্লাহ। পাবলিশড হওয়ার পর আগে জায়নামাজে বসেছি নফল নামাজ পড়েছি। এরপর রেজাল্ট দেখতে গিয়েছি। ভেবেছিলাম শেষের দিকে খুঁজব বাট রেজাল্ট শীটে তাকাতেই প্রথম লাইনেই রোল চোখে পড়লো। পজিশন চতুর্থ, শরীরে কাটা দিচ্ছিলো বাধ ভাঙা কান্না আসলো। কাদলাম। এরপর একে একে সকলকে জানালাম।

সকলের অনুভূতি কেমন হয়েছে আপানার এই জয়ে?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমার মা, দুই বোন, বোনের হাজবেন্ডরা, বাবা, ভাই আমার বন্ধু প্রতীম ভাই রাজিব সহ সকলেই খুশিতে এবং এক্সাইটমেন্টে কান্না করছিলো সকলের বিশ্বাস ছিলো আমার হবে এবং বলছিলো দৃঢ় সংকল্প, কঠোর পরিশ্রম, প্রচেষ্টা কখনো বৃথা হতে পারে না। বাট আই ওয়াজ নার্ভাস। কি যে হয়, সবার এই অগাধ বিশ্বাস যদি না রাখতে পারি তবে কি হবে। তবে ফলাফল শুনে সকলেই খুবই খুশি। বিশেষ করে গ্রামের ইতিহাসে প্রথম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট। স্কুলের প্রায় ৮০ বছরের ইতিহাসে প্রথম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যাট হওয়ায় গ্রামবাসীসহ, স্কুল কলেজের সকল শিক্ষক গুরুজনদ্বয় খুশি হয়েছেন এবং অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ফল প্রকাশের দিন আপনি সারাদিন রোজা ছিলেন এবং একা ছিলেন। সেদিনের পুরো সময়টা কেমন কেটেছিল?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আসলে রোযা আমার কাছে মনে হয় মনকে শান্ত রাখার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যমে। যেকোনো টেনশন বা প্রেশারাইজ্ড টাইমে আমি আসলে রোযা রাখি। আমি সারাদিন একা ছিলাম বলতে রুম থেকে বের হয়নি। কারো বাসায় যায় নি, এবং আমার বন্ধু রাজীব (রুমমেইট) ওর ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকী জনিত কারনে বাড়িতে যাওয়ায় আমি আসলে একা ছিলাম। সারদিন নামায পড়ে, কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করে আর সৃষ্টি কর্তাকে ডেকে কাটিয়েছি। পুরো সময়টা আমি বুকভরা আশা, অনিশ্চয়তা আর প্রার্থনার মধ্যে কাটিয়েছি।

আপনার জীবনের বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যেতে কারা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: জীবনে বাঁধা ছিলো স্বাভাবিক ভাবেই প্রচুর। প্রথমেই সৃষ্টি কর্তার রহমত ছিলো বলেই জীবনের সকল বাধাতেই কেউ না কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পরিবারের সকলের পাশাপাশি দুই বোনের হাজবেন্ড আমাকে বিশেষ ভাবে আর্থিক ও মানসিক সাহায্য করেছেন। এছাড়াও স্কুল কলেজের শিক্ষক বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নাদিরা সিদ্দিকী ম্যডাম, আকলিমা ম্যাডাম, ফাতেমা ম্যাডাম, সেলিম স্যারসহ সকল শিক্ষক এবং মাধ্যমিক স্কুলের জাহাঙ্গীর কবির স্যার, জামশেদ আলী স্যার, মাহবুব স্যার, হীনু ম্যাডাম, তাসলিমা ম্যাডাম, রুহুল আমিন স্যারসহ সকল স্যার ম্যাডাম আমাকে সাহায্য করেছেন। এছাড়াও গুরুদয়াল কলেজের তখনকার অর্থনীতির শিক্ষক আমার প্রিয় আরিফ স্যারও আমাকে আমার যেকোনো সমস্যায় (আর্থিক, মানসিক) সব সময় সাহায্য করেছেন। পাশের গ্রামের তানজিনা মীম আপু তো নিজে হাতে ধরে আমায় বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং অর্জনে নানান ভূমিকায় পাশে ছিলেন।

সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার আইন বিভাগের শিক্ষকগন, সিনিয়র ভাই মাহারাজ হাসান তামিম ভাই এবং তানভীর হাসান ভাই (ওনারা দুইজন বেস্টফ্রেন্ড) আমাকে সেই ফার্স্ট ইয়ার থেকে বিজেএস এর বই কিনে দেয়াসহ নানান সমস্যায় হাতখুলে এবং মন খুলে সাহায্য করেছেন। এছাড়াও মাহি উদ্দিন ভাই (ঢাবি'ল) স্বল্প টাকায় ওনার ব্যাচের রেকর্ডেড ক্লাস করার সুযোগ দিয়েছেন। যেকোনো প্রয়োজনে গাইডলাইন দিয়েছেন। নিশাত তাসনিম আপু (ঢাবি'ল), আবু তালহা ভাই (ঢাবি'ল), আসলাম ভাই (ঢাবি'ল) গাইডলাইন দিয়ে আমাকে সব সময় সাহায্য করেছেন! আমার এই সফলতায় যার অবদান না স্বীকার করলেই নয় সে হলো আমার বন্ধুপ্রতীম ভাই মো. রাজিব হোসাইন এবং তার পরিবার। 

আমরা দুজন একসাথে থাকি এবং একটা ব্যাচ পড়াই। প্রিলিমিনারি, রিটেন এবং ভাইভার সময়গুলোতে আমার টিউশন গুলো কন্টিনিউ করা, বই নোট, প্রিন্টেড নোট ম্যানেজ করা, কাগজপত্র গোছানো এমনকি যেকোনো প্রয়োজনে রাজিব এর নিজের ভাই এর মতো আমার পাশে ছিলো এবং তার পরিবারের আবেগ, আগ্রহ, বিশ্বাস ও ভূমিকা, আমার এই সফলতায় অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। অবশেষে আমার এই সফলতায় আমার সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের ননস্টপ দোয়া আমার সকল বাঁধা উত্তরনের হাতিয়ার হয়ে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর মানুষের জন্য কেমন বিচারক হতে চান?

মোহাম্মদ হানিফ মিয়া: আমি আসলে রেজাল্ট হওয়ার পর থেকেই ভাবছি যে বিচারক পেশা হলো এমন পেশা যেটির দায়িত্ব স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা হাশরের দিনে নিজে পালন করবেন। এমন মহান পেশা আসলে মহত্ত্বের সহিত পালন করা উচিত। আমি মানুষের জন্য ন্যায়, সত্যনিষ্ঠ এবং শতভাগ নিরপেক্ষ বিচারক হতে চাই।

ধানমন্ডিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল-ককটেল বিস্ফোরণ, …
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ শেষে দেশের উদ্দেশে রওনা হলেন…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানোর অভ্যাস, যা জানা জরুরি
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাদক নির্মূলে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন: এমপি জিলানী
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আ.লীগের দোসরদের গ্রেপ্তার করলে পুলিশদের পুরস্কৃত করা হবে: স…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অবৈধভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে ঢুকে পড়ছে ‘এআই বট’, নিয়ন্ত্রণ নিয়…
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬