সাক্ষাৎকার

বাবার অনুপ্রেরণা—বোনের পথ ধরে এবার ক্যাডার হলেন ভাই

তানজিম ফেরদৌস অমিয়

তানজিম ফেরদৌস অমিয় © টিডিসি ফটো

প্রথম বিসিএসেই পুলিশ ক্যাডারে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিম ফেরদৌস অমিয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি,...
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাকিবুল হাসান
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৩ PM

প্রথম বিসিএসেই পুলিশ ক্যাডারে মেধাক্রমে ৪৬তম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিম ফেরদৌস অমিয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের সমন্বয়ে অর্জিত এ সাফল্যের পেছনে বাবা ও বড় বোনের অনুপ্রেরণাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বিসিএস একটা দীর্ঘ জার্নি। অনেকটা দীর্ঘ যুদ্ধের মতো, যেখানে ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যেতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার প্রায় দুই বছর পর সুপারিশপ্রাপ্ত হই। শেষের দিকে আবেগ-অনুভূতি অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তখন ভাবতাম, হলে হবে, না হলেও একটি চাকরি তো আছেই।

ফল প্রকাশের দিনের স্মৃতিচারণ করে তানজিম বলেন, সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার এবং আমি অফিস থেকেই জানতে পারি আজকে বিসিএসের ফলাফল প্রকাশিত হবে। ভাইভা নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট না থাকায় নিজের ফলাফল নিয়েও সংশয়ে ছিলাম। অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর বড় বোন ফোন করে বিসিএসের ফল প্রকাশের খবর জানান। প্রথমে ফলাফলের পিডিএফ না পেলেও পরে আবার খুঁজে পাই। তিনি বলেন, ফল দেখার সময়ও নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রেখেছিলাম। কিন্তু যখন দেখলাম পুলিশ ক্যাডারে আমার রোল এসেছে এবং প্রত্যাশার চেয়েও ভালো অবস্থানে আছি, তখনই বাবা-মা ও বড় বোনকে ফোন করে সহকারী পুলিশ সুপার পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর জানাই।

আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে না পারা বাবাই ছিলেন অনুপ্রেরণা, বুটেক্সের শামীম হলেন এডমিন ক্যাডার

ময়মনসিংহে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানজিম ফেরদৌস অমি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ভর্তি হন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। তাঁর পরিবারে বাবা-মা ও দুই বোন রয়েছেন।

তানজিমের সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহের শুরু ছোটবেলা থেকেই। পিতার সরকারি চাকরির সুবাদে সরকারি চাকরির সুযোগ-সুবিধা, দায়িত্ব ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাই একসময় সরকারি চাকরিতে আসার স্বপ্ন তৈরি করে। তানজিম বলেন, আমার বিসিএস যাত্রার অন্যতম অনুপ্রেরণা আমার বাবা। সমাজে তাঁর অবস্থান দেখে ছোটবেলা থেকেই সরকারি চাকরিতে আসার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল।

তবে নিজের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে বড় বোনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বড় বোন ইতোমধ্যে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত। প্রস্তুতির শুরু থেকে ভাইভা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তানজিম বলেন, এই সাফল্যের জন্য যদি একজন মানুষকে সবচেয়ে বেশি ধন্যবাদ দিতে হয়, তাহলে তিনি আমার বড় বোন। বিসিএস সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা, পরামর্শ এবং প্রতিনিয়ত উৎসাহ আমাকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে।

বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল সম্পর্কে তিনি জানান, শুরুতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করার চেষ্টা করতেন এবং নিয়মিত মডেল টেস্টে অংশ নিতেন। তাঁর ভাষায়, প্রিলিমিনারি-ই সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা। কয়েক লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে খুব অল্পসংখ্যক প্রার্থী এই ধাপ পেরোতে পারে। আমার বড় বোনও বলেছিলেন, প্রিলি পাস করতে পারলেই বিসিএসের পথে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া যায়। তাই শুরু থেকেই প্রিলিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (বিডা) চাকরিতে যোগ দেন তানজিম। তিনি জানান, বিডায় যোগদানের আগেই ৪৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার ফলেই একই সময়ে ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হয়েছেন। চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, চাকরি করলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিদিন অল্প হলেও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।

ক্যাডার পছন্দের বিষয়ে তানজিম বলেন, সবসময় নিজের আগ্রহকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই আন্তর্জাতিক বিষয় ও বিদেশে কাজ করার প্রতি আগ্রহ থাকায় প্রথম পছন্দে রেখেছিলেন পররাষ্ট্র ক্যাডার। এরপর পুলিশ বাহিনীর দায়িত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং কাজের প্রতি আগ্রহ থেকে পুলিশ ক্যাডারকে দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে রাখেন। তাঁর মতে, অন্যকে দেখে নয়, নিজের আগ্রহ ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিল রেখেই ক্যাডার পছন্দ করা উচিত। তাহলে কর্মজীবনে হতাশা আসবে না।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তানজিম ফেরদৌস অমির পরামর্শ, বিসিএসে শুধু মেধা থাকলেই হয় না; ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিসিএসে একাধিকবার অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাই একবার ব্যর্থ হলেও হতাশ না হয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিসিএসকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানানোর প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, বিসিএসের প্রস্তুতি নিলে দেশের অধিকাংশ প্রতিযোগিতামূলক চাকরির জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। তাই বিসিএসকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, তবে অন্য কোনো চাকরিকে ছোট করে দেখার মানসিকতা রাখা উচিত নয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তানজিম ফেরদৌস অমি বলেন, আল্লাহ আমার ভাগ্যে যতটুকু রিজিক লিখে রেখেছেন, তা নিয়েই যেন সম্মানের সঙ্গে অবসর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারি। আমার কাজের মাধ্যমে যেন পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র উপকৃত হয় এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।

অফিস করবেন বঙ্গভবনে, থাকবেন কোথায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি?
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১৫ আগস্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
বান্দরবানে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ বিইউপি শিক্ষার্থী নাহিয়ান
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
জ্বর হলেই অযথা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ…
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ভাগের এক ভাগ শিক্ষকই ছুটিতে
  • ২৫ জুলাই ২০২৬
কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটা ছাত্রদল-যুবদল নেতাদের
  • ২৫ জুলাই ২০২৬