যে ১০ কারণে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল ও স্থগিত হবে

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৮ PM
প্রাথমিক শিক্ষকদের নিযোগ বাতিল হতে পারে

প্রাথমিক শিক্ষকদের নিযোগ বাতিল হতে পারে © এ আই সম্পাদিত ছবি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর নিয়োগ ও পদায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র জারির আগে বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা, ডোপ টেস্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসব যাচাইয়ে কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখা হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু কারণে নিয়োগ বাতিল বা চাকরি থেকে অপসারণের বিধানও রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রশাসনিক আদেশ এবং নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত নিয়োগপত্রের শর্তে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য বা সনদে জালিয়াতি হলে সরাসরি বাতিল
আবেদনের সময় বা পরবর্তীতে দেওয়া কোনো তথ্য, শিক্ষাগত সনদ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভুয়া, মিথ্যা কিংবা ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগ আদেশ সরাসরি বাতিল করা হবে। শুধু চাকরি বাতিল নয়, এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত আইনে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কথাও নিয়োগের শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে নিয়োগপত্র জারির আগে মূল আবেদনপত্রে দেওয়া সব তথ্য ও সনদপত্র যথাযথভাবে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জাতীয়তার তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে।

বয়সে অনিয়ম ধরা পড়লে নিয়োগ বাতিল
শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর সাধারণ প্রার্থীদের বয়স ২১ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। নিয়োগপত্র জারির আগে বয়সের তথ্য যাচাই করে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। বয়সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তের ব্যত্যয় বা কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে।

স্বাস্থ্য সনদ না থাকলে নিয়োগ স্থগিত
নির্বাচিত প্রার্থীদের জেলা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়নপত্র নিয়োগপত্র জারির আগে যাচাই করতে হবে। কোনো প্রার্থীর স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন না থাকলে তার নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখতে হবে। পরে বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জানাতে হবে।

ডোপ টেস্টে নেতিবাচক ফলেও আটকে যাবে নিয়োগ
নিয়োগের আগে নির্বাচিত প্রার্থীর ডোপ টেস্ট রিপোর্টও পর্যালোচনা করতে হবে। ডোপ টেস্টের রিপোর্ট নেতিবাচক হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখার নির্দেশনা রয়েছে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার প্রত্যয়ন থাকলেও ডোপ টেস্টের ফল নেতিবাচক হলে নিয়োগপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা যাবে না।

পুলিশ ভেরিফিকেশন ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সমস্যা থাকলে
নিয়োগের আগে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) গোয়েন্দা প্রতিবেদনও যাচাই করা হবে। এসব প্রতিবেদনে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অসন্তুষ্ট বা বিরূপ মন্তব্য থাকলে তার অনুকূলে নিয়োগ আদেশ জারি না করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

নির্ধারিত দিনে যোগ না দিলে নিয়োগ বাতিল
নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের ১ অক্টোবর ২০২৬ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বশরীরে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরি গ্রহণে সম্মত নন বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

নিয়োগপত্র জারির আগেই ভুল ধরা পড়লে স্থগিত
নিয়োগপত্র ইস্যুর আগে কোনো প্রার্থীর তথ্য, সনদ বা যোগ্যতায় ভুলত্রুটি কিংবা অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু স্থগিত রাখতে হবে। এ ধরনের প্রার্থীদের তালিকা এবং নিয়োগপত্র জারি না করার কারণ উল্লেখ করে কোটা ও সংশ্লিষ্ট মতামতসহ ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রথম দুই বছরেই অসদাচরণে জড়ালে
নিয়োগের পর প্রথম দুই বছর শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। এ সময়ে কোনো শিক্ষকের কর্মদক্ষতা ও আচরণ সন্তোষজনক না হলে অথবা তিনি কোনো ধরনের অসদাচরণে জড়ালে চাকরি থেকে অপসারণের সুযোগ থাকবে। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, এ ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই চাকরি থেকে অপসারণ করা যেতে পারে।

শিশু নির্যাতন করলেও অপসারণ
কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে চাকরি থেকে অপসারণের সুযোগও থাকবে। ফলে নিয়োগের পর শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আচরণ ও পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখাকেও চাকরি বহাল থাকার অন্যতম শর্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে ব্যর্থ হলেও স্থায়ী হবে না চাকরি
যোগদানের পর অনধিক চার বছরের মধ্যে নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক ও মৌলিক প্রশিক্ষণ ডিপিএড/সিইনএড গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ নিতে ব্যর্থ হলে অথবা প্রশিক্ষণে অকৃতকার্য হলে চাকরি স্থায়ী হবে না। এ ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নির্বাচিত প্রার্থীদের অনুকূলে ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র জারি করতে হবে। তবে যাচাই-বাছাইয়ে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নিয়োগপত্র স্থগিত রেখে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের ১ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে হবে এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। প্রশিক্ষণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন যুবদল সভাপতি মুন্না
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমার ছেলেকে ব্লেইম করা হচ্ছে, এটা মেনে নেব না: অপ্রতিমের মা
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে ১০ কারণে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগ বাতিল ও স্থগিত …
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অ্যাসোসিয়েট অফিসার নিয়োগ দেবে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ, আবেদন ২৭…
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এবারও বিভাগীয় শহরে হচ্ছে না জাবির ভর্তি পরীক্ষা
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬