মঙ্গলবার দুপুরে আইডিসির নির্বাচন শুরু হয় © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস কমিটির (আইডিসি) পূর্বঘোষিত নির্বাচন ভণ্ডুল করে দিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। নির্বাচনে হামলার আশঙ্কার অজুহাত দিয়ে এই কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পূর্বনির্ধারিত শিডিউলে নির্বাচন শুরু হলেও পরে এতে হস্তক্ষেপ করেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. জাকির হোসেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) দুটি পক্ষের মারামারি শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কার কারণ দেখিয়ে এই নির্বাচন ভণ্ডুল করা হয়েছে। এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের দুটি গ্রুপে কথা কাটাকাটি শুরু হয়েছে, এমন খবরও ছড়ানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, গত বছরের ২২ মার্চ প্রথমবারের মতো মমেক হাসপাতাল আইডিসিের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮০.৮০ শতাংশ ভোটার টার্ন আউট হয়। এই নির্বাচিত কমিটি গত এক বছরে অন্তত ৫৬টি কাজ শেষ করেছে। গত ১৩ এপ্রিল ডক্টরস ক্লাবে থাকা অনারবোর্ড অপসারণ করে নতুন ব্যাচের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে এই কমিটি।
এদিকে আজ মঙ্গলবার আইডিসির নির্বাচনের পূর্বনির্ধারিত স্থান ছিল হাসপাতালের কনফারেন্স রুম। কিন্তু ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, প্রশাসন হাসপাতাল কনফারেন্স রুমে এই নির্বাচন হতে দেয়নি। পরে কলেজ অডিটোরিয়াম চাওয়া হলে সেখানেও হতে দেওয়া হয়নি। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হোস্টেলে এই নির্বাচনের সব আয়োজন প্রস্তুত করে। নির্বাচন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইডিসি নির্বাচনে একজন প্রার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, গত ইন্টার্ন সোসাইটি অনেকগুলো ইতিবাচক কাজ সম্পন্ন করেছে। তার ধারাবাহিকতায় এ বছর আইডিসিের নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদেরকে বারবার বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেক দিন যাবৎ ট্রাই করেছি। প্রথমে হাসপাতাল কনফারেন্স রুম দিল না, কলেজ অডিটোরিয়ামেও দিল না। এরপরে হোস্টেলে আসলাম। এখানেও একটু পরেই প্রশাসন এসে বলে যে এখানে করা যাবে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছে যে মারামারি হবে। কিন্তু কোনো স্পেসিফিক তথ্য নেই, শুধু বলে যে মারামারি হবে।
শাখা ছাত্রদলের দুটি গ্রুপে কোনো কথা কাটাকাটি হয়েছে কিনা— জানতে চাইলে মমেক ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের সংগঠনে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে জানতে মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. জাকির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।